ঢাকা শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৮ °সে

কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ট্রেন যাত্রীদের দুর্ভোগ

কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ট্রেন  যাত্রীদের দুর্ভোগ
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) :শহীদ নগর রেল স্টেশনের বর্তমান অবস্থা —ইত্তেফাক

শহীদ নগর স্টেশন

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার শহীদ নগর রেল স্টেশনটি যেন একটি ভূতুড়ে বাড়ি। এই স্টেশনে দিনে বিচরণ করে গরু ছাগল ভেড়া আর রাতে চলে মাদকাসক্তদের আড্ডা। এই স্টেশন দিয়ে বিনাটিকিটে চলাচল করছে অনেকে।

জানা গেছে, ৪ বছর আগে স্টেশন মাস্টার মারা যাওয়ার পর আর কোনো মাস্টারকে এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এরপর থেকেই এর সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কেটে দেওয়া হয় বিদ্যুত্ লাইন। যত্রতত্র পড়ে আছে আসবাবপত্র। জামালপুর-ভূঁয়াপুর লাইনে শুধু শহীদ নগর নয়, এই উপজেলায় হেমনগর, বয়ড়া, বাউসী, জাফরশাহীসহ আরো পাঁচটি রেল স্টেশনের অবস্থা একই অথচ এই স্টেশনগুলো দিয়ে প্রতিদিন শত শত যাত্রী উঠা-নামা করে।

স্থানীয় রেলযাত্রী রফিকুল ইসলাম জানান, বিগত ৪ বছর যাবত্ এই রেল স্টেশনে টিকিট মাস্টার না থাকায় যাত্রীরা নানা প্রকার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিনাটিকিটে রেলে উঠলে ২০ টাকার ভাড়া ১০০ থেকে ২০০ টাকা চোরাইভাবে নেওয়া হচ্ছে। কখনো কখনো কাছের কোনো স্টেশন থেকে উঠেও ময়মনসিংহ কিংবা জামালপুরের ভাড়া আদায় করে নিচ্ছেন টিটিরা। কোনো বিকল্প টিকিট তাদের দেওয়া হচ্ছে না বলে কেউ কেউ অভিযোগ করেন।

ধলীশ্বরী ট্রেনের যাত্রী মশিউর রহমান জানান, আমি সরিষাবাড়ী যেতে ২ ঘণ্টা ধরে বসেও যাওয়া যাচ্ছে না। সময়মতো ট্রেন আসে না। বিশেষকরে টিকিট করে যাব সে উপায় নেই। বিগত ৪ বছর যাবত্ টিকিট মাস্টার নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা আ. রউফ জানান, বিদ্যুত্ লাইন কেটে দেওয়ায় এই এলাকা ভূতুড়ে স্টেশনে পরিণত হয়েছে। স্টেশন সচল না থাকায় স্টেশন কোয়ার্টারগুলো বখাটেদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। এখানে দিনে অবাধে গরু ছাগল ভেড়ার পালের বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিণত হয়েছে। রুমের ভেতরে চেয়ার-টেবিলসহ অন্য আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে।

বারইপটল গ্রামের শাহজাহান আলী জানান, এলাকায় কোনো দোকানপাট না থাকায় রাতে স্টেশন এলাকা নিরাপত্তাহীন অবস্থায় থাকে। বিশেষ করে রাতে যাত্রীরা চরম আতঙ্কের মাঝে ট্রেনে উঠা-নামা করে।

তিনি আরো জানান, ৩ বছর আগেও এই স্টেশনের পাশে এক রেলনিরাপত্তাকর্মীর ইন্টার পড়ুয়া ছেলে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়।

সরিষাবাড়ী রেল স্টেশনের মাস্টার আ. রাজ্জাক জানান, সরিষাবাড়ী উপজেলায় শুধু শহীদ নগর (বারইপটল) স্টেশন নয়, এই স্টেশনের মতো হেমনগর, বয়ড়া, বাউসী, জাফরশাহীসহ পাঁচটি স্টেশন এখন অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এই স্টেশনগুলোতেও কোনো টিকিট মাস্টারসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। অথচ এই স্টেশনগুলো দিয়ে প্রতিদিন শত শত যাত্রী যাতায়াত করে। নিরূপায় হয়েই যাত্রীরা বিনাটিকিটে চলাচল করে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন