ঢাকা বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৬ মাঘ ১৪২৭
২২ °সে

পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমে এক অঙ্কে!

পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমে এক অঙ্কে!
পঞ্চগড় : খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা —ইত্তেফাক

তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। তবে এবারে পঞ্চগড়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। সকাল সকাল সূর্য উদয় হচ্ছে এবং তাপমাত্রা বেড়ে যায়। শেষ বিকাল থেকে ভোর অবধি বেশ শীত অনুভূত হয়। তাপমাত্রা একেবারে কমে যায়। অন্যদিকে সকাল ৯টার পর থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ঝলমলে রোদের কারণে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে তেঁতুলিয়ায়। রবিবার (৮ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। গত শনিবার এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শেষ বিকাল থেকে ভোর অবধি সময়ে হিমালয়ের হিমেল বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে এবং কুয়াশা পড়ছে। হিমালয়ের ঠান্ডা বাতাসে গা হিম হয়ে আসছে। টুপ টুপ করে রাতভর চলে কুয়াশাপাত। লেপ ও কম্বল ছাড়া ঘুমানো যায় না। রাতে রাস্তাঘাটে শুনশান নীরবতা নেমে আসছে। কুয়াশার জন্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এ সময়টাতে বেশ শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। বিকাল থেকে ভোর পর্যন্ত নিম্ন আয়ের মানুষদের শীত নিবারণ করতে কষ্ট হচ্ছে। অনেকেই রাতে ও ভোরে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করায় জেলার হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম রহিদ জানান, পঞ্চগড়ে দিন দিন শীতের প্রকোপ বাড়ছে। তাপমাত্রা ক্রমেই কমে আসছে। ঘন কুয়াশা না থাকায় বিকাল থেকে ভোর পর্যন্ত হিমালয়ের হিম বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এ সময়টাতে তাপমাত্রা একেবারে কমে যাচ্ছে। রবিবার তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে দুয়েকটি মৃদু ও মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. সিরাজউদ্দৌলা পলিন জানান, দেশের অন্য স্থানের তুলনায় পঞ্চগড়ের শীতের প্রকোপ একটু বেশিই থাকে।

এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কাঁশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগী বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ। আপাতত রোগী ভর্তি তেমন নেই। তবে প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে শতাধিক শীত ও শীতজনিত রোগী চিকিত্সা নিচ্ছেন। মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় চিকিত্সাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, দরিদ্র শীতার্তদের জন্য ইতিমধ্যে ২৮ হাজার শীতবস্ত্র জেলার পাঁচ উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। কাজী ফার্মস নামে একটি প্রতিষ্ঠান আরো ৩০০ কম্বল দিয়েছেন সেগুলোও ইউএনওদের কাছে পাঠানো হবে। আমরা শীতার্তদের জন্য আরো বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া যাবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৯ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন