ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৭
১৫ °সে

ঝিনাইদহে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব!

ঝিনাইদহে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব!
ঝিনাইদহ:হাবিবপুরের রাস্তায় বেওয়ারিশ কুকুর —ইত্তেফাক

১০ মাসে ৭ হাজার কুকুরে কামড়ানো রোগীকে

সদর হাসপাতালে চিকিত্সা প্রদান

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ জেলায় শহর গ্রামে বেওয়ারিশ (প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভাষায় ভবঘুরে ) কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। গত ১০ মাসে অন্তত ৭ হাজার কুকুরে কামড়ানো রোগীকে সদর হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যাও। অনেক সময় এসব বেওয়ারিশ কুকুরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কামড়ে দিচ্ছে। এসব কুকুরের অধিকাংশ রোগাক্রান্ত। আর মরণব্যাধি জলাতঙ্ক রোগের প্রধান বাহক কুকুর। শুধু মানুষ নয়, গবাদিপশুকেও কুকুর কামড়ে দিচ্ছে। কয়েক দিন আগে শৈলকুপা উপজেলার তিন গ্রামে ৩০ জন পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, ২০ হাজার কুকুরকে এ্যান্টি র্যাবিশ ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

শহর গ্রামে চলার সময় কখনো দলবেঁধে, আবার কখনো একা বেওয়ারিশ কুকুর নজরে পড়ে। পাশ দিয়ে চলার সময় ঘেউঘেউ করে। হেঁটেচলার পথে অনেক সময় বেওয়ারিশ কুকুরের খপ্পরে পড়তে হয়। অনেকক্ষেত্রে কামড়েও দিচ্ছে। কুকুরে কামড়ালে জলাতঙ্ক হতে পারে। এ থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় প্রতিশেধক এ্যান্টি র্যাবিশ ভ্যাকসিন নেওয়া। ঝিনাইদহ জেলায় একমাত্র সদর হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে এ্যান্টি র্যাবিশ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়। কিন্তু চাহিদামতো এ দামি ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয় না। কিন্তু কুকুরে কামড়ানোর পাঁচ দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে হয়। বাইরে ওষুধের দোকানে বিভিন্ন কোম্পানির এ্যান্টি র্যাবিশ ভ্যানসিন পাওয়া যায়। তবে দাম লাগে ২ হাজার টাকা থেকে ২২০০ টাকা। দরিদ্র রোগীদের পক্ষে কেনা কষ্টকর হয়ে যায়।

শৈলকুপা উপজেলার বাদালশো গ্রামের গ্রাম ডাক্তার অরুন কুমার সরকার জানান, তার ছেলেকে একটি বেওয়ারিশ কুকুর কামড়ে দেয়। বাইরে থেকে এ্যান্টি র্যাবিশ ভ্যাকসিন দিতে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলার কাদিরকোণ গ্রামের নুর ইসলাম বলেন, তার শিশুপুত্র বাড়িতে খেলা করছিল। এ সময় একটি কুকুর তাকে কামড়ে জখম করে। কোটচাঁদপুর উপজেলার গ্রামের স্কুলছাত্র দীপ কুমার জানায়, স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে একটি কুকুর কামড়ে জখম করে। সদর হাসপাতালে নার্স সামসুন্নাহার জানান, প্রতিদিন কুকুরে কামড়ানো রোগী আসছে। গড়ে প্রতিদিন ৫০ জন করে রোগীর এআরভি দিতে হচ্ছে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আইয়ুব আলি জানান, এ্যান্টি র্যাবিশ ভ্যাকসিন ঢাকার মহাখালীতে লোক পাঠিয়ে আনতে হয়। তাও চাহিদামতো সরবরাহ করা হয় না। তিনি জানান, একমাত্র সদর হাসপাতাল থেকে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৬২৯ জন কুকুরে কামড়ানো রোগীকে বিনামূল্যে এআরভি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। ওষুধের দোকান থেকে যারা এআরভি ইনজেকশন কিনে দিয়েছে তাদের হিসাব হাসপাতালে নেই। তবে সংখ্যা কয়েক হাজার হবে।

আগে শহর এলাকায় পৌরসভাগুলো বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করত। কয়েক বছর আগে হাইকোটের্র এক আদেশের পর কুকুর নিধন বন্ধ রয়েছে বলে ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু জানান।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, সকল ভবঘুরে কুকুরকে এ্যান্টি র্যাবিশ ভ্যাকসিন দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে তিনবার এ ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এজন্য প্রতি উপজেলায় মোটিভেশন সভা করা হয়েছে। তিনি জানান, লোকসংখ্যার এক ভাগ কুকুর থাকে। এ হিসেবে ঝিনাইদহ জেলায় ২০ হাজার ভবঘুরে কুকুর আছে। বুধবার থেকে ভ্যাকসিনেশন শুরু হয়েছে। ভ্যাকসিন দেওয়ার পর কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্ক রোগ হবে না। ১৭৪টি টিম এ ভ্যাকসিন দিবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন