ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬
৩৫ °সে

ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মাঠ ছাড়ছেন কক্সবাজারের লবণচাষিরা!

ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মাঠ ছাড়ছেন কক্সবাজারের লবণচাষিরা!
কক্সবাজার :সদরের চৌফলদণ্ডী এলাকার লবণখেত       —ইত্তেফাক

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার প্রতিনিধি

বিক্রয়মূল্যে উত্পাদন ব্যয় উঠে না আসায় লবণের মাঠ ছাড়ছেন কক্সবাজারের লবণচাষিরা। ক্যামিকেল আইটেমের নামে গোপনে সোডিয়াম ক্লোরাইড (খাবার লবণ) আমদানি করায় চাষের লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন লবণ সংশ্লিষ্টরা। এতে দিন দিন লবণ উত্পাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। কক্সবাজার সদরের গোমাতলীর লবণচাষি রিদুয়ানুল হক বলেন, অন্য বছর এ সময়ে লবণ চাষে ব্যস্ত সময় পার করতেন চাষিরা। আশা নিয়ে মাঠে নামা অনেক চাষি মাঠ ছেড়ে উঠে আসছেন। সবার একই কথা, ব্যয়ের সঙ্গে বিক্রয় মূল্যের সামঞ্জস্য নেই। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে চাষে থেকে দেনা বাড়িয়ে লাভ কি?

মহেশখালীর নলবিলার বাসিন্দা আবদুল হক বলেন, বিগত তিনযুগ ধরে লবণ চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে তারা জড়িত। ঢাকা এবং চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানায় চাহিদা অনুযায়ী তিনি লবণ জোগান দিয়ে এসেছেন; কিন্তু গত তিন-চার বছর ধরে ঐসব কারখানামালিক তার কাছ থেকে লবণ নেন না। এখন তারা আমদানিকারকদের কাছ থেকেই লবণ কিনছে।

ইসলামপুরের লবণব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, ২৫ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাককারখানায় প্রতি সপ্তাহে দুই ট্রাক করে লবণ বিক্রি করা হতো। গত কয়েক বছর থেকে ঐ পোশাককারখানা কর্তৃপক্ষ এখন বিদেশ থেকে আমদানিকৃত লবণ ব্যবহার করছে কারখানায়।

মাতারবাড়ীর এক লবণকারখানার মালিক বখতেয়ার আলম জানান, লবণের মৌসুম শুরু হলেই চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ঝালকাঠি, খুলনার বড়ো বড়ো মিলমালিকদের মধ্যে কক্সবাজারের লবণ কিনতে ধুম পড়ে যেত। এখন তারা বিদেশ থেকে আমদানিকৃত লবণ বাজারজাত করছেন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজার লবণ প্রকল্প কার্যালয় সূত্রমতে, ২০১৯-২০ মৌসুমে লবণের চাহিদা ধরা হয়েছে ১৮ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। কক্সবাজার জেলায় উত্পাদনযোগ্য লবণ জমির পরিমাণ ৬০ হাজার ৫৯৬ একর। জেলায় লবণ মিলের সংখ্যা প্রায় ৮০টি। প্রতি মণ লবণের দাম বাজারমূল্য ১৯২ টাকা। যা কেজিতে পড়েছে প্রায় ৪ টাকা। উত্পাদনে খরচ হয় প্রায় সাড়ে ৬ টাকা। গত মৌসুমে (২০১৮-১৯) লক্ষ্যমাত্রা ১৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের বিপরীতে উত্পাদন হয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন।

কক্সবাজার লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি রইচ উদ্দিন বলেন, দেশে ট্যাক্স ফ্রি ‘ফিনিশ লবণ’ আমদানি করে কম দামে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। বন্ডেড ওয়্যার হাউজের আওতায় ব্যাক টু ব্যাক এলসি এবং ট্যাক্স ফাঁকির মাধ্যমে ক্যামিকেল আইটেমের আড়ালে সোডিয়াম সালফেটের নামে সোডিয়াম ক্লোরাইড (খাবার লবণ) আমদানি করা হচ্ছে। ফলে মার খাচ্ছে স্থানীয় লবণচাষিরা।

বিসিক কক্সবাজারের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, লবণশিল্প বাঁচাতে অনেক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চৌফলদণ্ডিতে পাইলট প্রকল্প চলছে। চাষিদের মাঠে রাখতে মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম অব্যাহত আছে। প্রান্তিকচাষিদের প্রণোদনামূলক ক্ষুদ্রঋণ দিতে এনজিওগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিগিগরই একটা ভালো ফলাফল আসবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
৩০ মার্চ, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন