ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৭ °সে

আম্ফানেও ঢাল হয়ে দাঁড়াল সুন্দরবন

আম্ফানেও ঢাল হয়ে দাঁড়াল সুন্দরবন
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) : আম্ফানে ঢাল হয়ে দাঁড়াতে গিয়ে সুন্দরবন নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বনের ভেতরে কলাগাছিয়া এলাকায় ভেঙে পড়া গাছ           —ইত্তেফাক

রক্ষা পেল খুলনার ৩০ লক্ষাধিক উপকূলবাসী

এনামুল হক, খুলনা অফিস

নিজেকে নিশ্চিহ্ন করে অকৃপণভাবে বার বার বুক পেতে মানুষকে রক্ষা করছে সুন্দরবন। দানবের মতো আছড়ে পড়া সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তাণ্ডব থেকে আবারও মায়ের আঁচলের মতো ঢাল হয়ে সুন্দরবন বৃহত্তর খুলনার উপকূলীয় ১০ উপজেলার ৩০ লক্ষাধিক মানুষকে বাঁচিয়ে দিয়েছে সর্বংসহা হয়ে। এদিকে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে সুন্দরবনের গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য এরই মধ্যে বনবিভাগের পক্ষ থেকে পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জের চার জন সহকারী বন সংরক্ষককে (এসিএফ) প্রধান করে সাত সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ঈদের আগেই রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রবলবেগে সুন্দরবন উপকূলে আছড়ে পড়ে সুপার সাইক্লোন আম্ফান। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, সুন্দরবনে আঘাত হানার সময় আম্ফানের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার। তবে সুন্দরবনে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে এর গতি অনেকটাই কমে যায়। ফলে প্রাণ রক্ষা পায় সুন্দরবন উপকূলসংলগ্ন খুলনা জেলার কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা, বাগেরহাট জেলার রামপাল, মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা এবং সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর ও শরণখোলা উপজেলার ৩০ লক্ষাধিক মানুষের জীবন। এর আগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও ফনীর তাণ্ডব থেকেও মানুষকে রক্ষা করেছিল সুন্দরবন।

সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক আকন বলেন, সুন্দরবন আমাদের ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে বার বার বুক পেতে রক্ষা করছে। এবারের ঘূর্ণিঝড় আম্ফান থেকেও এই বন আমাদের বড়ো ধরনের জীবনহানি থেকে রক্ষা করল। তাই আমাদের প্রয়োজনেই আমাদেরকে সুন্দরবন রক্ষা করতে হবে। এদিকে সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগ সূত্রের বরাত দিয়ে শরণখোলা প্রতিনিধি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে পূর্ব সুন্দরবনের ১৭টি জেটি, ১০টি টহল ফাঁড়ি, ১৭টি পুকুর, ১৪টি ব্যারাক, ২ হাজার ৪০০ মিটার রাস্তা, ২৪টি সুন্দরী গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা ৪৫৩ ঘনফুট সুন্দরী কাঠ নদীতে ভেসে গেছে।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) বেলায়েত হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে পূর্ব সুন্দরবনের একটি প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকার জন্য সাত সদস্য করে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) বসিরউল আল মামুন বলেন, এখনো পশ্চিম সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সুন্দরবন বনবিভাগ) মো. মঈনুদ্দিন খান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঝড়ে সুন্দরবনে বড়ো ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বনরক্ষী ও কর্মকর্তারা এখন সরেজমিন গিয়ে পর্যবেক্ষণ করে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবেন। এ জন্য সাত সদস্য করে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঈদের আগেই তাদের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এরপর সঠিক তথ্য জানানো সম্ভব হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৪ জুন, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন