ফুলবাড়ীর শাখা যমুনা এখন মরাখাল!

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  দিনাজপুর অফিস ও ফুলবাড়ী সংবাদদাতা

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর): উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা শাখা যমুনা নদীটি এখন মরা খাল —ইত্তেফাক

ফুলবাড়ী উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা শাখা যমুনা নদীটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। ভরে গেছে নদীর তলদেশ।  সে কারণে বছরের বেশির ভাগ সময় এ নদীতে পানি থাকে না।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আঁকা-বাঁকা পথে এই নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে তিন’শ কিলোমিটার। এর মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলায় রয়েছে প্রায় ২০ কিলোমিটার। এই নদীটি এক সময় এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল। এই নদীকে কেন্দ্র করে নদীর তীরে গড়ে উঠেছে শহর। এই নদীর পানি দিয়ে এক সময় চলত এই অঞ্চলের কৃষকের চাষাবাদ ও ঘর-গৃহস্থালীর কাজ। এই নদীর মাছ দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের মাছের চাহিদা পূরণ হতো, জিবীকা নির্বাহ করত অনেক জেলে সম্প্রদায়। নদীটি দীর্ঘ সময় সংস্কার না করায়, প্রতিবছর বন্যায় নদীর তলদেশে পলি জমে নদীটির নাব্যতা হারিয়ে যাচ্ছে, নদীর পাড় দখল করে অনেকে গড়ে তুলেছে দালান-কোঠা, নদীতে ফেলছে ময়লা-আবর্জনা, নদীকে করছে দূষণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীটিতে বছরে বেশিরভাগ সময় পানি থাকে না। নদীর বুক চিরে এখন বিভিন্ন রকমের ফসল চাষাবাদ করা হচ্ছে। ফসল উত্পাদন করতে নদীর পাড় কেটে জমি তৈরি করছে অনেকে, এই কারণে বন্যা আসলেই নদীতে পলির স্তর আরও বেশি করে জমে যাচ্ছে। এক সময় কৃষকরা নদীর পানি দিয়ে চাষাবাদ করলেও, এখন নদীতে পানি না থাকায় সেচপাম্প-এর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের। নদী পাড়ের কৃষকেরা বলছেন, নদীতে পানি না থাকায় সেচপাম্প দিয়ে চাষাবাদ করতে হচ্ছে, তাই নদীটি দ্রুত খনন করা প্রয়োজন। তাই দ্রুত সংস্কার করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সমাজের সচেতন মানুষ।

নদীপাড়ের বাসিন্দা চাঁদপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউনুছ আলী বলেন, নদীতে পানি না থাকায় সেচপাম্প বসিয়ে পানি সেচ দিতে হচ্ছে। এতে করে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

নদী বাঁচাও আন্দোলনের ফুলবাড়ী নেতা পল্লী চিকিত্সক ওয়াজেদুর রহমান বাবলু বলেন, আমাদের প্রকৃত জীব-বৈচিত্র্য সবই নির্ভর করে নদীর ওপর। তাই নদীটিকে উদ্ধার করার জন্য জোর দাবি জানান।

এদিকে উপজেলা মত্স্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নদীতে পানি না থাকায় দেশি প্রজাতির মাছের বংশ হারিয়ে যাচ্ছে, উপজেলা মত্স্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী স্বাদু পানিতে ২০১ প্রকার প্রজাতির মাছ থাকলেও, এই অঞ্চলে প্রায় ৫০ প্রকার মাছ আর দেখা যায় না।

উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মোছাঃ মাজনুন্নাহার মায়া বলেন, ২৬৫ প্রকার প্রজাতির মাছ স্বাদু পানিতে থাকে, এর মধ্যে এখন সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২০১ প্রকার মাছের বংশ রয়েছে, এর মধ্যে এই অঞ্চলে প্রায় ৫০ প্রকার প্রজাতির মাছ আর দেখা যায় না, বাকি মাছগুলো চাষের মাধ্যমে বংশ ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, নদীর পানির প্রবাহ রক্ষা করার জন্য সরকার কাজ শুরু করে দিয়েছে।