ঢাকা শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬
২৯ °সে

বাগমারায় চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছড়াছড়ি!

বাগমারায় চেয়ারম্যান-ভাইস  চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছড়াছড়ি!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতেই বাগমারায় এবার বইতে শুরু করেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনী হাওয়া। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে এমন খবরে আগেভাগেই তত্পর হয়ে উঠেছে বাগমারা উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের সর্বত্রই এখন উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

প্রথমবারের মত এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। যে কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এ নির্বাচনকে টার্গেট করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে দলের হাইকমান্ডের কাছে জোর লবিং শুরু করেছেন।

দলীয় সূত্র মতে, জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর বাগমারা আসনে অনেকটা বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি। সে হিসেবে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর অনেকটা ভালো অবস্থানে আছে আওয়ামী লীগ। বিগত উপজেলা নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার পরও সামান্য ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। সে কারণে এবার বিএনপি হারানো আসনটি উদ্ধারে ব্যাপক তত্পর রয়েছে। আবার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার প্রভাবে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাই এবার উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক। এতে দলের ভিতরে বাইরে নেতাদের মাঝে বাড়ছে মান অভিমান। নানামুখী মান অভিমান নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রায় হাফ ডজনেরও বেশি নেতা দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ধরনা দিচ্ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের দুয়ারে। টানা তৃতীয়বারের মত বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় জেলা এবং কেন্দ্রে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের অবস্থান আরো পাকাপোক্ত হয়েছে এমন ধারণায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এনামুল হককেই মনোনয়ন পাওয়ার হাতিয়ার মনে করছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, এবারও এই আসনে মনোনয়ন চাইবেন বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু। যদিও বর্তমান সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার ব্যাপক মান-অভিমান রয়েছে। তবে এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সান্টু মনোনয়ন না পেলে তার রাজনৈতিক জীবন হুমকির মুখে পড়বে এমন আশঙ্কায় সান্টু তার মনোনয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় এমপিকে পাস কাটিয়ে কেন্দ্রে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীর পরের অবস্থানে রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের কেন্দ্রীয় নেতা বাবু অনীল কুমার সরকার। তিনি তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সমর্থন না পেয়ে মাছ মার্কা প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় সেবার অপ্রত্যাশীতভাবে বিএনপি প্রার্থী ডিএম জিয়া ব্যাপক ভোটে জয়লাভ করে। অনীল সরকারের হিন্দু ভোট ব্যাংকের কারণে তিনি মনোনয়ন দৌড়ে বেশ এগিয়ে রয়েছেন। অনীল সরকারের তালে তালে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ মতিউর রহমান টুকু, দলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলাম সারোয়ার আবুল, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এমপি’র এপিএস আসাদুজ্জামান আসাদ, আউসপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার জান বক্স, বাসুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লুত্ফর রহমান ও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল মালেক নয়ন। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক ব্যাংকার বীরেন্দ্রনাথ সরকার। তবে সান্টু মনোনয়ন চাইলে তিনি সরে দাঁড়াতে পারেন বলে জানান। এছাড়া মনোনয়ন দৌড়ে আরো এক নেতার নামে প্রচারণা রয়েছে উপজেলাব্যাপী। তিনি হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ভবানীগঞ্জ বণিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম হেলাল। তিনি এমপির দক্ষিণ হস্ত এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত।

দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এবার জাতীয় নির্বাচনে ভোটের পরিবেশ দেখে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা নার্ভাস হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া ব্যাপক ধরপাকড়ে দলটির মাজা এখনও সোজা হয়ে উঠতে পারেনি। তার পরও আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে দলের প্রায় স্তরের নেতা-কর্মীরা আশার প্রদীপ হিসাবে দেখছেন সাবেক উপজলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়াকে। দুর্দিনেও পিছপা না হওয়ায় আগামী উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি কর্মীরা তাকেই একমাত্র প্রার্থী হিসাবে ধরে রেখেছেন।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির আবু তালেব এবারও এই আসনে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। বিগত উপজেলা নির্বাচনে তিনি ছাতা প্রতীক নিয়ে প্রায় ২১ হাজার ভোট পেয়ে সবাইকে চমক লাগিয়ে দেন। তিনি এবার লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে উপজেলা নির্বাচন করে জয়লাভের প্রত্যাশী হয়ে ঘরোয়া প্রচারণা শুরু করেছেন।

এ ছাড়া আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত থেকে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনাগোনা নিয়ে ভোটারদের মাঝে জল্পনা কল্পনা রয়েছে। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে এবারও প্রার্থী পারেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম রুবেলের নাম। তিনি এবারও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রার্থী হতে পারেন। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আউসপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, গোয়ালকান্দী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সোহেল রানা ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ইসমাইল হোসেন কর্নেলের নাম। এ ছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাছিমা বাবুল। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন দল থেকে নতুন মুখ হিসাবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, উপজেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী মরিয়ম বেগম ও উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী প্রভাষক শাহিনুর বেগম।

অপরদিকে বিএনপি থেকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে একজনের নামই প্রচারণায় রয়েছে তিনি হলেন ভবানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রিনা সুলতানা। তিনি বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে নেমে দলীয় সমর্থন না পাওয়ায় পরে সরে দাঁড়ান। এবার তিনি বিএনপি থেকে একক প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন