ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৬ °সে


শরণখোলায় তিন বছরেও বেড়িবাঁধ বনায়নের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো!

শরণখোলায় তিন বছরেও বেড়িবাঁধ বনায়নের  পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো!
শরণখোলা (বাগেরহাট):ক্ষতিগ্রস্তদের নামে ইস্যুকৃত বই—ইত্তেফাক

শরণখোলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/১ পোল্ডারের বলেশ্বর নদীর প্রায় ছয় কিলোমিটার বেড়িবাঁধের দুই পাশে সৃজিত বনায়নের ক্ষতিপূরণ পায়নি রক্ষণাবেক্ষণকারী ১৩টি হতদরিদ্র ইএস (ইম্ব্যাকমেন্ট শেল্টার) পরিবার। তিন বছরেও পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পায়নি বলে অভিযোগ তাদের।

২০১৬ সালে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে পাউবোর ৩৫/১ পোল্ডারে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হলে বাগেরহাটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্কালীন নির্বাহী প্রকৌশলী খুশী মোহন সরকার ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি এক আদেশে ইএস পরিবার গাছের সম্পূর্ণ মালিকানা এবং শতভাগ সুবিধা ভোগ করবে বলে উল্লেখ করে তাদের গাছ সরিয়ে নিতে বলেন। এর পর পূর্ণ মেয়াদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেক পরিবারকে পরিচয়পত্র প্রদান করে সিইআইপি-১ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। অথচ গাছ সরিয়ে নেওয়ার তিন বছর অতিবাহিত হলেও প্রতিশ্রুত পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পেয়ে হতাশায় পড়েছেন তারা।

ইএস পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মোঃ আঙ্গুর ফরাজী, সালেহা বেগম, আ. রউফ হাওলাদার জানান, রাজৈর মারকাজ মসজিদ থেকে কুমারখালী পর্যন্ত ৩৫/১ পোল্ডারের প্রায় ছয় কিলোমিটার বেড়িবাঁধের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা ২০০২ সালে রোপণ করে পাউবো। ওই গাছ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাদের ১৩ পরিবারকে দায়িত্ব দেয়। ২৫ বছর পর ওই গাছের মালিক তারা হবেন। ২০১৬ সালে বাঁধ উন্নয়নের স্বার্থে সিইআইপি-১ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ তাদের গাছের পূর্ণাঙ্গ মেয়াদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলে সেই অপরিপক্ব গাছ কেটে নিতে বললে তারা তা সরিয়ে নেয়। কিন্তু তারা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, বাঁধের কাজ শুরু করার সময় গাছের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল সিইআইপি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরবর্তীতে তারা ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে।

উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প, ফেজ-১ (সিইআইপি-১) এর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, কাজ শুরুর তিন মাস আগেই ইএস পরিবারকে তাদের গাছ সরিয়ে নিতে বলা হয়। ওই গাছ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থের মালিকও তারা। কিন্তু গাছের পূর্ণাঙ্গ মেয়াদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল কিনা সেটা তার জানা নেই।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ জামান খান বলেন, ওয়াপদা বেড়িবাঁধে ক্ষতিগ্রস্তদের জমির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। তিনি এখানে নতুন যোগদান করেছেন। সব কিছু তার জানা নেই, গাছের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখে অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৫ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন