উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

পটুয়াখালীর সাত উপজেলার পাঁচটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী

সদর উপজেলায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলা ছাড়া বাকি সাত উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩১ মার্চ। এ সকল উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের সাতজনসহ ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এরমধ্যে পাঁচ উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী পাঁচজন উপজেলা চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দের পরই শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। চলছে মাইকিং, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ, সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগ।

জেলার দুমকি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন চারজন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার (নৌকা)। তিনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শাহজাহান সিকদার (দোয়াত-কলম)।

মির্জাগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন চারজন প্রার্থী। এরমধ্যে দলের মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক গাজী আতাহার উদ্দিন আহম্মেদ (নৌকা)। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খান মো. আবু বকর  সিদ্দিকী (কাপ-পিরিচ)। ভোটের লড়াই হবে এই দুইজনের মধ্যে।

গলাচিপা উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী দু’জন। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহম্মদ সাহিন (নৌকা)। তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুজ্জামান লিকন (আনারস)।

দশমিনা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ছয়জন ভোটযুদ্ধে রয়েছেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবদুল আজিজ (নৌকা)। এই উপজেলায় নৌকার বিপরীতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. শাখাওয়াত হোসেন  (ঘোড়া) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

বাউফল উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোট ছয়জন। এরমধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার (নৌকা)। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান এবং জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মজিবুর রহমান  (ঘোড়া)।

এ ছাড়া, পটুয়াখালী সদর ও কলাপাড়া উপজেলায়ও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পটুয়াখালী সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়েছেন চারজন। দলের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম সরোয়ার  (নৌকা)। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ ভোটে লড়ছেন কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে।

কলাপাড়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রার্থী। এদের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম রাকিবুল আহসান (নৌকা)। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন টিয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মো. আখতারুজ্জামান (আনারস)।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্তে চিঠি পাওয়ার পর ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ইভিএম সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলা শহরের রশিদ কিশলয় বিদ্যানিকেতন, পটুয়াখালী সরকারি জুবিলি উচ্চ বিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এই তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।