ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৮ °সে


পটুয়াখালী পৌর গোরস্থানে জায়গা সংকট

পটুয়াখালী পৌর গোরস্থানে জায়গা সংকট
পটুয়াখালী: পৌর এলাকার একমাত্র গোরস্থানে জায়গা না থাকায় কবরের ওপর কবর দিতে বাধ্য হচ্ছে —ইত্তেফাক

নতুন কবরস্থানের দাবি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালী পৌরসভার একটিমাত্র মুসলিম গোরস্থানে নতুন জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। মানুষের লাশ দাফন করা নিয়ে দেখা দিচ্ছে সমস্যা। বাধ্য হয়ে কবরের ওপর কবর দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় পৌরবাসী দীর্ঘদিন ধরে নতুন একটি কবরস্থান নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। দাবির প্রেক্ষিতে পৌরসভা দুটি নতুন কবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পৌর মেয়র।

প্রিয়জনের শেষ স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে সকলেই তার স্বজনের কবরটি সংরক্ষণ করতে চান। তবে শত বছরের বেশি সময় ধরে পটুয়াখালী পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন ছোট একটি কবরস্থানে মানুষ দাফন করায় সেটি আর সম্ভব হচ্ছে না। গত কয়েক দশক যাবত্ একের পর এক কবর দেওয়ায় প্রিয়জনের কবরগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া একটি কবরের ওপর একাধিক কবর দেওয়ায় এসব কবর খোঁড়ার সময় মানুষের কঙ্কাল বেরিয়ে আসছে এতে করে বিব্রত হচ্ছেন স্বজনরা। এরপরও বাধ্য হয়ে সেখানেই লাশ দাফন করছেন স্বজনরা।

২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় নিয়ে ১৮৯২ সালে পটুয়াখালী পৌরসভা গঠিত হয়। এর আগে ব্রিটিশ আমলে শহর সংলগ্ন টাউন কালিকাপুর এলাকায় লাশ দাফনের জন্য প্রায় সাত একর জায়গায় নির্মাণ করা হয় মুসলিম গোরস্থান। পরে পৌরসভাই গোরস্থানটি তাদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে নেয়। বর্তমানে এই শহরে প্রায় সোয়া লাখ মানুষের বসবাস। এই গোরস্থানে লাশ দাফনের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ কবরস্থানে স্থায়ীভাবে কবর সংরক্ষণ না করার জন্য নির্দেশনা দিলেও তা কেউ মানছেন না। অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের স্বজনদের কবরগুলো যেমন বাঁধাই করছেন, অনেকে আবার দুই থেকে তিন জনের বেশি জায়গা নিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে রেখেছেন।

পৌর গোরস্থানের তত্ত্বাবধানকারী মো. জাহাঙ্গীর মৃধা বলেন, যে সময় এই গোরস্থান নির্মাণ করা হয় তখন লোকসংখ্যা ছিল অনেক কম। লোকসংখ্যা বাড়ছে কয়েকগুণ। কিন্তু গোরস্থানের জায়গা বাড়েনি। এ অবস্থায় এই পৌর এলাকার মানুষের লাশ কবরের উপর কবর দিতে হচ্ছে। তাছাড়া, এই গোরস্থানে যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে লাশ দাফনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ জানান, বহু আগে নির্মিত এই গোরস্থানে এখন আর কবরের ঠাঁই নেই। এ অবস্থায় পৌরসভার জৈনকাঠী ও নন্দকানাই এলাকায় দুটি মুসলিম গোরস্থানের জন্য ২০ একর এবং হিন্দুদের শ্মশানের জন্য পাঁচ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যত শীঘ্র সম্ভব এ কাজ সম্পন্ন করে নতুন গোরস্থান নির্মাণ করা হবে। তখন আর মানুষের এই সমস্যা থাকবে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন