ঢাকা শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬
২৯ °সে


১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান!

১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান!
টেকেরহাট (মাদারীপুর):রাজৈর উপজেলার ৮৭ নং পলিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা গাছতলায় বসে পাঠদান নিচ্ছে —ইত্তেফাক

সুজানগরের ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান। কালবৈশাখী ঝড়ে গুরুদাসপুর রাবেয়া বাটুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। দুমড়ে মুচড়ে গেছে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়া করতে হচ্ছে চাটমোহর উপজেলার ১০৪ নং বারকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের। রাজৈর উপজেলার ৮৭নং পলিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদের বিমের পলেস্তারা ধসে পড়ায় এখন খোলা মাঠে চলছে পাঠদান। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

৮৭ নং পলিতা সরকারি প্রা: বিদ্যালয়

টেকেরহাট (মাদারীপুর): মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ৮৭ নং পলিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদের বিমের পলেস্তারা ধসে ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রী আহত হয়েছে । এ ঘটনার পর ১০ দিন যাবত্ ওই বিদ্যালয়ের তিনটি কক্ষে তালা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা এখন গাছতলায় বসে পাঠদান নিচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান, এক প্রবাসী যুবকের অনুদান ও সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত টিনের ঘর নির্মাণ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহানা নাসরিন জানান, পুনরায় দুর্ঘটনা এড়াতে ঐ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের তিনটি ক্লাস রুমে তালা লাগিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া ও পাঠদান অব্যাহত রাখতে টিনের ঘর নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নাসিরউদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টি আমি পরিদর্শন করেছি।

রাবেয়া বাটুল সরকারি প্রা: বিদ্যালয়

গুরুদাসপুর (নাটোর): গত ২ এপ্রিল কালবৈশাখী ঝড়ে গুরুদাসপুর রাবেয়া বাটুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। দুমড়ে মুচড়ে গেছে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, টয়লেট। তারপর থেকেই খোলা আকাশের নিচে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। যখন মেঘ ছাপিয়ে রোদের দেখা, সে রোদের তীব্রতায় শিশু শিক্ষার্থীদের হাঁসফাঁস অবস্থা। কষ্ট সয়েই শিশুদের ক্লাস করতে হচ্ছে। আবার বৃষ্টি আসলেই পাঠদান বন্ধ রেখে শিশুদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। ওই ভবন ছাড়া অন্য কোনো ভবন বিদ্যালয়টিতে না থাকায় এমন প্রতিকূল পরিবেশে শিশুদের পাঠদান করানো হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৯ সালে মরহুম আলহাজ জবতুল্লাহ বাটুল খামারনাচকৈড় খোয়ারপাড়া গ্রামে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় পাঁচটি কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হয়। এতে চারটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি কক্ষ অফিস হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণ হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ওই ভবনটিতেই পাঠদান ও অফিসের কার্যক্রম চলছিল।

প্রধান শিক্ষক প্রহলাত চন্দন চৌধুরী ট্রেনিংয়ে থাকায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তুহিনা খাতুন ও ফেরদৌসি আক্তার জানান, বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হলেও সরকারিভাবে পাকা ভবন নির্মাণ হয়নি। পুরনো টিনশেড ভবনটিতেই পাঠদান চলছিল। কিন্তু ঝড়ে বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনটি ভেঙে পড়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া টিনে ঘেরা টয়লেটটি ভেঙে পড়ায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে চার শিক্ষক ও ১৬৩ শিক্ষার্থীকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ঝড়ে বিদ্যালয়টি দুমড়ে মুচড়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে। বৃষ্টি এলে ক্লাস হয় না। আবার রোদে ক্লাস করতে কষ্ট হয়। তাছাড়া বিদ্যালয়ের একমাত্র টয়লেটটি ভেঙে যাওয়ায় পাশের বাড়িতে যেতে হয়।

গুরুদাসপুর প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তাকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়নি। বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বারকোনা সরকারি প্রা: বিদ্যালয়

চাটমোহর (পাবনা): চাটমোহর উপজেলার ১০৪ নং বারকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়া করছে শিক্ষার্থীরা। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়া করতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে বেশ কিছু শিক্ষার্থী স্কুল ভবনের সামনে খোলা মাঠে বেঞ্চে বসে ক্লাস করছে। স্কুল ভবনের পেছনের পুকুরপাড় ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনটি। এছাড়া স্কুলে নেই টয়লেট, নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। এখানেই শেষ নয়, চাটমোহর-পার্শ্বডাঙ্গা প্রধান সড়কের পাশে বিদ্যালয়ের সামনে সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রায়ই ঘটে ছোট বড় দুর্ঘটনা।

স্কুলের প্রধানশিক্ষক আশরাফুল আলম বলেন, পুকুরপাড় ভেঙে গিয়ে স্কুল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে কিছু শিক্ষার্থীকে বাইরে বসিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এছাড়া টয়লেট না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, গত বছর ভবন মেরামতের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন করার পরও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে নানা সমস্যা নিরূপণ করেছি। তবে বড় সমস্যা পুকুরপাড় ধসে যাওয়ার কারণে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সকলকে জানানো হয়েছে। খুব শিগগির এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাইপুর সরকারি প্রা: বিদ্যালয়

সুজানগর (পাবনা):সুজানগরের ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উপজেলার রাইপুর, ভবানীপুর, চিনাখড়া, দুলাই, রানীনগর, নিয়োগীরবনগ্রাম, মহব্বতপুর, বড়ুরিয়া, সাগতা, কামালপুর, পাইকপাড়া, বিনাডাঙ্গী, নারায়ণপুর, উদয়পুর ও ক্রোড়দুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

রাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বলেন, অবিলম্বে ওই সকল বিদ্যালয় ভবন নতুন অথবা সংস্কার প্রয়োজন। অন্যথায় যেকোনো মুহূর্তে ছাদ ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিনারা পারভীন বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। আশাকরি শিঘ্রই বরাদ্দ পাবো। আর বরাদ্দ পেলেই নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন