ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬
২৯ °সে


পাবনায় অধিকাংশ হাট জায়গা ছেড়ে মহাসড়কে!

পাবনায় অধিকাংশ হাট  জায়গা ছেড়ে মহাসড়কে!
পাবনা:টেবুনিয়া হাট-সংলগ্ন পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের ওপর বিক্রি হচ্ছে ধান রবি-শস্যসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য —ইত্তেফাক

যানজটে দুর্ভোগে যাত্রীরা

রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি

জেলার টেবুনিয়া হাট সংলগ্ন পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের গা ঘেঁষে ১৫ বছর আগেও জমির ধান, রবি-শস্যসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য বিক্রি করতেন। হাটে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে বিক্রেতারা পণ্য নিয়ে একেবারে মহাসড়কের ওপরেই গিয়ে দাঁড়ান। এতে মহাসড়কে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এ রকম অবস্থা মহাসড়ক ঘেঁষা পাবনার হাটগুলোতে।

রবিবার টেবুনিয়া হাটে মহাসড়কের প্রায় মাঝ বরাবর ধানের বস্তা নিয়ে বিক্রির জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন উত্তর চকপাড়া গ্রামের এক কৃষক। যানজটে থাকা গাড়িগুলো ধীর গতিতে চলছে। তিনি বলেন, ‘কেডা হাউস (সখ) করে সড়কের ওপর বেচাকেনা করতি আসে? হাটের ভিতরি জায়গা নাই। দাঁড়াব কোনে, মানুষ ঠাসা।’

পাবনা জেলার প্রায় সব প্রধান হাটের অবস্থাই টেবুনিয়া হাটের মতো। এ হাটগুলোর অবস্থান কোনো না কোনো সড়ক অথবা মহাসড়কের পাশে। এক সময় এ হাটগুলোতে হাটুরেদের বেচাকেনার জন্য প্রচুর ফাঁকা জায়গা থাকলেও তার বেশির ভাগই অবৈধভাবে দখল করে স্থায়ী দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে হাটের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় মূল হাট ছেড়ে হাটুরেদের সড়ক অথবা মহাসড়কে যেতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া-পাবনা-রাজশাহী মহাসড়কের পাবনা জেলা অংশের বেড়া, কাশীনাথপুর, চিনাখড়া, বনগ্রাম, আতাইকুলা, পুস্পপাড়া, টেবুনিয়া, দাশুরিয়া ও মুলাডুলিতেই মহাসড়ক জুড়ে হাট বসছে সবচেয়ে বেশি। প্রত্যেক হাটবারে এ স্থানগুলো সংলগ্ন মহাসড়কে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। তবে এ স্থানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক যানজট দেখা দিচ্ছে চিনাখড়া, আতাইকুলা, বেড়া, কাশীনাথপুর ও টেবুনিয়ায়। হাটবারে এ পাঁচটি স্থানে যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে থাকতে হয়। নাকাল হতে হচ্ছে ঘরমুখো যাত্রীদের।

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম কৃষিজপণ্যের পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্র কাশীনাথপুরে হাট বসে প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার।

পাবনা-বগুড়া মহাসড়ক সংলগ্ন এ হাটটি সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হাটের মূল অংশে ফাঁকা জায়গা বলতে কিছুই নেই।

বেড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন করমজা চতুরহাট বাজার কমিটির সদস্য মহসিন মল্লিক জানান, কয়েক বছর আগেও এ স্থানগুলো ফাঁকা ছিল এবং অনায়াসে সেখানে হাটুরেদের স্থান সংকুলান হয়ে যেত।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এ স্থানগুলোতে গড়ে উঠেছে আধা-পাকা প্রচুর দোকানঘর। আর এতেই হাটুরেরা এখান থেকে বিতাড়িত হয়ে মহাসড়কের পাশে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন করমজা চতুর হাটেরও ব্যাপক জায়গা দখল হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা অনেকটা প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে হাটের জায়গায় দোকানঘর তৈরি করে তা থেকে ভাড়া আদায় করছে। হাট কমিটির এক নেতা বলেন, ‘হাটে এত জায়গা থাকতেও দখলদারদের কারণে মহাসড়কে গিয়ে হাট বসছে।

ঢাকা থেকে পাবনাগামী কোচ চালক রহিম ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘প্রায় ৩৫ মিনিট ধরে যানজটে আটকে আছি। আমার আবার নির্দিষ্ট সময় ঢাকা ফিরতে হবে।’

অন্য এক কোচ চালক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘হাটের দিন বিশেষ করে বেড়া, কাশিনাথপুর, আতাইকুলা, টেবুনিয়া গাড়ি চালাতে গিয়া কান্না পায়। এই সব জায়গার যানজটের জন্য বৃদ্ধ-ছোট শিশু বাচ্চারা খুব কষ্ট পায়।’

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম এবং বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, ‘হাটের অবৈধ স্থাপনা সম্পর্কে যাচাই-বাছাই করে উচ্ছেদের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের বিশেষ সভায় উত্থাপন করা হবে।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন