ঢাকা সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


কয়রায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোনা পানিতে এলাকা প্লাবিত

কয়রায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোনা  পানিতে এলাকা প্লাবিত
কয়রা (খুলনা):কয়রায় কপোতাক্ষ নদের ঘাটাখালি বেড়িবাঁধ রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করছে এলাকাবাসী —ইত্তেফাক

মোহা. হুমায়ুন কবির, কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা

কয়রার কপোতাক্ষ নদের ঘাটাখালি বেড়িবাঁধে ভাঙনে এলাকা লোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে চলতি বোরো মৌসুমের পাকা ধান, মত্স্য ঘের ক্ষতির পাশাপাশি ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কাজ করে কোনো রকম পানি আটকানোর ব্যবস্থা করা হলেও জরুরি ভিত্তিতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আতঙ্ক কাটছে না এলাকাবাসীর। শুধু ঘাটাখালি নয় অব্যাহত ভাঙনের কারণে কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা, হরিণখোলা ও গোবরা পূর্বচক গ্রামের বাসিন্দারা রয়েছেন আতঙ্কে। ভাঙন রোধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নদীর তীরবর্তী জনপদের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছে ১৩-১৪/২-নং পোল্ডারের গোবরা, ঘাটাখালি ও হরিণখোলার বেড়িবাঁধ। গত রবিবার রাতের জোয়ারে ঘাটাখালি মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে হঠাত্ লবণ পানিতে পুরো ঘাটাখালি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তাত্ক্ষণিক এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষায় কাজ করে পানি প্রবেশের হাত থেকে রেহাই পেলেও ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী।

ঘাটাখালি গ্রামের হানিফ, খাদিজা বেগম, আত্তাফ শেখ, হাফিজুর রহমান, মুদি দোকানি তৈয়েব আলীসহ অনেকেই বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বেড়িবাঁধের গোড়ার মাটিতে ধস নেওয়া বেড়েই চলেছে। হঠাত্ রবিবার রাতে মসজিদ সংলগ্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। যার ফলে চলতি বোরো মৌসুমের পাকা ধান ক্ষতির পাশাপাশি মত্স্য ঘের তলিয়ে গিয়ে ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে এলাকার অনেক মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ গবাদিপশু অন্যত্র সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলহাজ আ. গফ্ফার ঢালী বলেন, ভাঙনরোধে স্থানীয় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের আমাদি সেকশন কর্মকর্তা মশিউল আলম বলেন, ঘাটাখালি এলাকার বেড়িবাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাঁধ বাধার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

কয়রা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফা নাজমুছ ছাদাত বলেন, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কয়রা সদরের দরিদ্র মানুষ বসতবাড়িসহ ফসলি জমি হারিয়ে আরো নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

কয়রা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ এসএম শফিকুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সহযোগিতায় বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন