ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬
৩৪ °সে


কুষ্টিয়ায় পাঁচ রেলক্রসিংয়ে সৃষ্ট যানজটে নাকাল শহরবাসী!

কুষ্টিয়ায় পাঁচ রেলক্রসিংয়ে সৃষ্ট যানজটে নাকাল শহরবাসী!
কুষ্টিয়া:শহরের মজমপুর রেল ক্রসিংয়ে যানজটের এ দৃশ্য প্রতিদিনের —ইত্তেফাক

মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া শহরের মাঝখানে পাঁচটি রেলক্রসিংয়ের যানজটে মারাত্মক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। কুষ্টিয়া-গোয়ালন্দ ও কুষ্টিয়া-পোড়াদহ রুটে আটবার ট্রেন অতিক্রমের সময় ওই পাঁচটি রেলক্রসিংয়ে প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা যাত্রীরা আটকা পড়ে দারুণ ভোগান্তির শিকার হন। ফলে রেলগেটে সৃষ্ট যানজটে নাকাল শহরবাসী।

সরেজমিনে জানা গেছে, রেলপথের কুষ্টিয়া-পোড়াদহ রুটে দেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশনটির নাম হচ্ছে ‘জগতি স্টেশন’। এই জগতি স্টেশন থেকে কুষ্টিয়া শহরের মাঝখান দিয়ে রেলপথের অবস্থান। শহরের মাঝখানে রেলওয়ে কোর্ট স্টেশন ও রেলওয়ে বড় স্টেশন। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে পাঁচটি রেলক্রসিং। জনাকীর্ণ এলাকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সড়ক পথে যোগাযোগের প্রবেশমুখ শহরের মজমপুর রেলক্রসিং, মতিমিয়ার রেলগেট, কোর্ট স্টেশন, বড় রেলওয়ে স্টেশন, মিলপাড়া ক্রসিং ও বাবুর আলী রেলক্রসিং একদম শহরের মাঝখানে অবস্থিত।

কুষ্টিয়া-গোয়ালন্দ ও কুষ্টিয়া পোড়াদহ রুটে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সাটল ট্রেন, নকশীকাঁথা মেইল ও দ্রুতগামী ইন্টারসিটি ট্রেন আটবার চলাচল করে। এসব ট্রেন স্টেশন থেকে ছেড়ে আসার অন্তত ৮/১০ মিনিট আগেই ওই পাঁচটি রেলগেটের সবগুলো একযোগে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় রাস্তার দুই পাশজুড়ে রিকশা-ভ্যান, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ অন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ও সৃষ্ট যানজটে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ যাত্রী সাধারণের ভয়ানক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ছাড়া নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে ঘটে বিলম্ব। ট্রেন অতিক্রমকালে পাঁচটি রেলগেট একযোগে বন্ধ থাকায় শহরের কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার, মজমপুর রেলগেট থেকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়ক ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার এবং জেলার বৃহত্ পাইকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বড় বাজার রেলগেট সংলগ্ন দুঃসহ যানজট সৃষ্টি হয়। ট্রেন রেলক্রসিং অতিক্রমের পর রেলগেট খুলে দেওয়া হলে কমপক্ষে আধাঘণ্টা পর শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আবার কখনো কখনো ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে একটি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার পর শহরে যানবাহন চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হতে না হতেই পুনরায় চলে আসে আরেকটি ট্রেন। এভাবে প্রতিদিন যানজটে শহরবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই।

কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন জানান, শহরের যানজট নিরসন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে শহরের মাঝখান থেকে রেললাইন স্থানান্তর এখন সময়ের দাবি। রেললাইন সরিয়ে রেলপথের জায়গার ওপর সড়ক পথ নির্মিত হলে শহরের যানজট নিরসনসহ শহরবাসী স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে।

কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী জানান, শহরের মাঝখান থেকে রেললাইন স্থানান্তরে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতিপূর্বে রেলওয়ে বিভাগকে কয়েকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বিভাগীয় ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম জানান, কুষ্টিয়া শহরের মাঝখান থেকে রেলপথ স্থানান্তরে কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা নেই। এ ছাড়া এ সংক্রান্ত কোনো উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টিও আমার জানা নেই।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন