ঢাকা শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৫ °সে


কুড়িগ্রামে টার্কি খামার ঘিরে স্বপ্ন উত্পাদন ভালো, বাধা বিপণনে

কুড়িগ্রামে টার্কি খামার ঘিরে স্বপ্ন  উত্পাদন ভালো, বাধা বিপণনে
কুড়িগ্রাম:জেলা শহরের ধরলা সেতুর অপর প্রান্তে গড়ে ওঠা যুবক আব্দুল মজিদ রিপনের টার্কি মুরগি খামারের একাংশ —ইত্তেফাক

ফজলে ইলাহী স্বপন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টার্কি মুরগি পালন। কুড়িগ্রামে ২৫টি বড় খামার এবং শতাধিক ছোট খামারে টার্কি মুরগি পালনের মাধ্যমে সফলতা এনে নিজেদের স্বাবলম্বী করে জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা ঘোরানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয় বেকার যুবকরা।

তবে দেশি বা বয়লার মুরগির মতো স্থানীয়ভাবে টার্কি মুরগির চাহিদা বা বাজার তেমনভাবে গড়ে না ওঠায় খামারে উত্পাদিত এসব মুগরি বিক্রি করতে কিছুটা বিড়ম্বনায়ও পড়তে হচ্ছে তাদের। কুড়িগ্রামের যুবকরা নিজেদের বেকারত্ব দূরীকরণে টার্কির খামার গড়ে তুলে সফলভাবে উত্পাদন শুরু করলেও তা বিক্রি করতে নির্ভর করতে হচ্ছে ঢাকা বা চট্টগ্রামের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের ওপর। স্বল্প সময়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় গড়ে ওঠা ২৫টি বাণিজ্যিক খামার ছাড়াও ছোট ছোট শতাধিক খামারের পাশাপাশি কিছু কিছু বাড়িতেও স্বল্প পরিসরে পালন শুরু হয়েছে টার্কি।

কুড়িগ্রাম শহর লাগোয়া ধরলা সেতুর পূর্বপ্রান্তে সাড়ে তিন বছর আগে টার্কি মুরগির বাণিজ্যিক খামার গড়ে তুলে খামারকে ঘিরে লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন যুবক আব্দুল মজিদ রিপন। শুরুতে খুলনা থেকে একশ টার্কি মুরগির বাচ্চা এনে লালন-পালন শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারে বেড়ে উঠছে চার শতাধিক টার্কি।

খামারে ৪ থেকে ৫ মাসেই টার্কির বাচ্চা পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়। একেকটি টার্কি লালন-পালনে সবমিলেই খরচ পড়ে ৮শ থেকে ৯শ টাকা। তখন একেকটি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়। গড়ে মাত্র একশটি টার্কি মুরগি ৪ থেকে ৫ মাসে সব খরচ বাদ দিয়ে লাভ করছেন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। শুধু টার্কি পালনই নয়, যুবক রিপন ইনকিউবিটরের মাধ্যমে ডিম থেকে এখন উত্পাদন করছেন টার্কি মুরগির বাচ্চাও।

কুড়িগ্রাম জেলায় প্রথম টার্কি মুরগির খামার মালিক আব্দুল মজিদ রিপন জানান, খামারে ৮ থেকে ১০ কেজি ওজনের একেকটি মুরগি বড় করতে বাচ্চা, খাবার, ওষুধসহ সবমিলে খরচ পরে ৮শ থেকে ৯শ টাকা। আর বর্তমান বাজারে প্রতিকেজি টার্কি মুরগি বিক্রি হচ্ছে তিনশ টাকা দরে। টার্কি মুরগি লালন-পালনে বড় ধরনের কোনো ব্যাঘাত না ঘটলে দ্বিগুণ লাভ সম্ভব। আর উত্পাদিত টার্কির ডিম থেকেই বাচ্চা ফুটিয়ে প্রতিটি বাচ্চা পাইকারিভাবে ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল হাই সরকার জানান, কুড়িগ্রাম জেলার আবহাওয়া টার্কি মুরগি পালনের উপযোগী হওয়ায় টার্কি উত্পাদনে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং বেকার যুবকরা নিজ উদ্যোগে টার্কি মুরগির খামার গড়ে তুলছেন। আমরা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে টার্কি পালনকারীদের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছি। শাক-সবজি, ঘাস ও বিভিন্ন উদ্ভিদের পাতা এই টার্কি মুরগীর প্রধান খাবার। আচরণে এরা বোকা ধরনের হওয়ায় এদের নিরাপত্তার ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দিতে হয় খামারিদের। তবে সরকারিভাবে সঠিক বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে এই টার্কি পালন করেই স্বাবলম্বী হতে পারবে এ জেলার যুবকরা।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৫ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন