ঢাকা সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
৩০ °সে


২০ মে থেকে সাগরে মা বাগদা ধরায় নিষেধাজ্ঞা

ভাইরাসযুক্ত বিদেশি পোনা ঘেরে ফেললে হুমকিতে পড়বে চিংড়িশিল্প

ভাইরাসযুক্ত বিদেশি পোনা ঘেরে ফেললে হুমকিতে পড়বে চিংড়িশিল্প
সাতক্ষীরা:সাতক্ষীরার চিংড়ির ঘের (ইনসেটে মা বাগদা) —ইত্তেফাক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মাসের ২০ তারিখ থেকে আগামী দুই মাস সাগরে (মা বাগদা) ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে।

এদিকে সরকারি সিদ্ধান্তের এই সুযোগে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভারত থেকে অবৈধ পথে ভাইরাসযুক্ত নিম্নমানের নপ্লি দেশে এনে নার্সিং করে বাজারে বিক্রির পাঁয়তারা করছে। ভারতীয় নপ্লি­ নার্সিং করা ভাইরাসযুক্ত চিংড়ি পোনা ঘেরে ছাড়লে হুমকির মুখে পড়বে চিংড়িঘের ও এই শিল্প— অভিজ্ঞমহল মনে করছে।

সাতক্ষীরা জেলা মত্স্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলায় ৬৬ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে ৫৫ হাজার ১২২টি ছোট-বড় চিংড়ি ঘের রয়েছে। চলতি ২০১৯ মৌসুমে চিংড়ি উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৫শ টন। এসব ঘেরের চিংড়ি পোনার চাহিদা রয়েছে ৩৩৪ কোটি। আর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৫৬টি এবং খুলনা অঞ্চলে ২৭টি মিলে দেশে মোট চিংড়ি পোনা উত্পাদনকারী হ্যাচারি রয়েছে ৮৩টি। এছাড়া নার্সারী রয়েছে ১৮২টি।

মোস্তফা শ্রীম্প প্রোডাক্ট (ব্রান্ড-সৌদিয়া) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কফিল উদ্দিন জানান, সাগরে এমনিতে মাদার সংকট চলছে। মাদার সংকটের কারণে কক্সবাজার ভিত্তিক চিংড়ি পোনা উত্পাদনকারী অধিকাংশ হ্যাচারি ভরা মৌসুমে উত্পাদনে যেতে পারছে না। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ভিত্তিক ৫৬টি হ্যাচারির মধ্যে বর্তমানে ২১/২২টি চালু আছে। এসব হ্যাচারিতে যে পরিমাণ পোনা উত্পাদন হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে বাজারে এখন চিংড়ি পোনার সংকট রয়েছে। এরইমধ্যে সরকার চলতি মে মাসের ২০ তারিখ থেকে আগামী দুই মাসের জন্য সাগরে মাদার (মা বাগদা) ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে মাদার ধরা বন্ধ থাকলে বাজারে পোনার সংকট আরো বাড়বে। ফলে চিংড়ি চাষের ভরা মৌসুমে ঘেরে পোনা ছাড়তে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে চাষিরা। তিনি দেশের চিংড়ি চাষি ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সাগরে মাদার ধরা বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার দাবি জানান।

বাংলাদেশ জাতীয় মত্স্য চাষি সমিতির সভাপতি সাবেক মত্স্য প্রতিমন্ত্রী ডা. আফতাবুজ্জামান জানান, চিংড়ি চাষের এই ভরা মৌসুমে মাদার ধরা বন্ধ থাকলে বাজারে পোনা সংকট দেখা দেবে। অপরদিকে এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভারত থেকে নপ্লি­ এনে তা বড় করে বাজারে বিক্রি করবে। এতে করে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাছাড়া ভারতীয় ব্যবসায়ীরা অবৈধ পথে সবচেয়ে নিম্নমানের নপ্লি­টা বাংলাদেশে পাঠায়। যে কারণে ওই পোনা ঘেরে ছাড়ার কিছুদিন পর ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চাষিরা। চাষি ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সাগরে মাদার ধরা বন্ধের সময়টা আরো পিছিয়ে দিতে হবে উল্লে­খ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে চিংড়ি চাষি, ব্যবসায়ী ও হ্যাচারি মালিকদের সাথে আলাপ-আলোচনা করা দরকার ছিল।

সাতক্ষীরা জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম সরদার জানান, সাগরে দুই মাস মাদার ধরা বন্ধ থাকলে প্রথম এক মাস ওই পোনা দিয়ে চলবে। তবে পরের এক মাস একটু অসুবিধা হবে। এ সময়ে ভারত থেকে নিম্নমানের চিংড়ি রেণু, নপ্লি­, পিএল ও চিংড়ি বিভিন্ন পন্থায় দেশের অভ্যন্তরে ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষে ব্যাপক মড়ক এবং রপ্তানি বন্ধের জন্য এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে বা যাচ্ছে। এতে চিংড়ি উত্পাদন ও রপ্তানিতে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বিদেশি চিংড়ি রেণু, নপ্লি­, পিএল ও চিংড়ি সীমান্ত দিয়ে দেশে অনুপ্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সাতক্ষীরার বিজিবি ৩৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠির অনুলিপি মত্স্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন