ঢাকা রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩০ °সে


বিল না দেওয়ায় বিদ্যুত্সংযোগ বিচ্ছিন্ন

শিক্ষা অফিসের অনলাইন বন্ধ

শিক্ষা অফিসের অনলাইন বন্ধ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলা শিক্ষা অফিস ছয় দিন ধরে বিদ্যুিবহীন থাকায় সকল অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে অফিসে বিদ্যুত্ না থাকায় তীব্র গরমে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাপিয়ে উঠছেন।

গত শনিবার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে পিডিবি। প্রিপেইড মিটার লক করে দেওয়ায় টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না তারা। উপজেলায় ২০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথ্য প্রেরণ ও শিক্ষকদের বেতন-ভাতাসহ অনলাইনের দাপ্তরিক সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে গত ছয়দিন ধরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ফুলবাড়ীয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিদ্যুত্ বিল বকেয়া রয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪২৩ টাকা। বকেয়া বিদ্যুত্ বিলের বরাদ্দ চেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। বকেয়া বিদ্যুত্ বিলের বিপরীতে গত বছরের ১৯ আগস্ট মাত্র ১৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। চার মাস আগে উপজেলা শিক্ষা অফিসের এনালগ মিটার খুলে নিয়ে ডিজিটাল প্রিপেইড পেমেন্ট মিটার স্থাপন করে বিদ্যুত্ অফিস। প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করে বিদ্যুত্ ব্যবহার করছে শিক্ষা অফিস। গত ছয় দিন আগে হঠাত্ করে প্রিপেইড মিটার লক করে দেওয়ায় বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

রাঙ্গামাটিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, অফিসে বিদ্যুত্ না থাকায় গত দুদিন ধরে অনলাইনে দাপ্তরিক কাজ করতে পারছেন না অনেক শিক্ষক। যেখানে সরকারের শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় জড়িত সেখানে বিল বকেয়ার জন্য এভাবে বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ঠিক হয়নি। তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, বকেয়া বিদ্যুত্ বিলের টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ আসলেই পরিশোধ করবে শিক্ষা অফিস। এখানে কেউ বাড়ি থেকে এনে টাকা দেবে না। যেহেতু এটাও সরকারি অফিস।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার জীবন আরা বেগম বলেন, অফিসের বিদ্যুত্ প্রিপেইড মিটার লক করে বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন করায় বিষয়টি ইউএনওসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিদ্যুত্ না থাকায় গত ছয় দিন ধরে অফিসের ও শিক্ষকদের অনলাইনের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বকেয়া বিদ্যুত্ বিলের বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।

আবাসিক প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, বকেয়া বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ না করায় শিক্ষা অফিসের প্রিপেইড মিটার অটোলক হয়ে বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা দরখাস্ত দিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পুনরায় সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লীরা তরফদার বলেন, উপজেলা শিক্ষা সংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসের এভাবে বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন করা ঠিক হয়নি। যেহেতু দুটিই সরকারি অফিস। বিষয়টি নিয়ে আমিও পিডিবির সাথে কথা বলেছি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন