ঢাকা বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬
৩৩ °সে


সৈয়দপুর বিমানবন্দরের জমি অধিগ্রহণ এলাকায় গড়ে উঠছে নতুন ঘরবাড়ি!

লাগানো হচ্ছে গাছপালাও
সৈয়দপুর বিমানবন্দরের জমি অধিগ্রহণ  এলাকায় গড়ে উঠছে নতুন ঘরবাড়ি!
সৈয়দপুর (নীলফামারী):বিমানবন্দর সম্প্রসারণের খবরে রাতারাতি গড়ে উঠছে এসব বাড়িঘর —ইত্তেফাক

চকচকে নতুন টিনে তৈরি ঘর। যেদিকে চোখ যায় শুধু ঘর আর ঘর। মাঝে মধ্যে গরু, মুরগির খামার, বনায়ন আর বনায়ন। যতদূর চোখ যায় শুধু ঘর আর ঘর। সবই নতুন গড়েওঠা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে—নীলফামারী সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হচ্ছে। এ জন্য নতুন করে ৯১২ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। শুরু হয়েছে অবস্থান সম্পর্কিত ফিল্ডবুক তৈরির কাজ। এ অবস্থায় ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, অধিগ্রহণের আওতায় থাকা জমিগুলো যে অবস্থায় আছে সে অবস্থাতেই থাকবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। জমির মালিকরা অধিক লাভের আশায় ঘরবাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। গড়ে ওঠছে পশুপাখির খামার, পুকুর ও বনায়নও চলছে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য সৈয়দপুর ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডীতে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। বিমানবন্দরটির রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য ৯১২ একর জমি অধিগ্রহণের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে আছে সৈয়দপুর উপজেলা ৫৩৪ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি, সরকারি জমি ৬০ একর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৯ একর, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬ একর, সৈয়দপুর সেনানিবাসের প্রায় ১৪ একর ও খাস জমি ১৩ একর। এছাড়া, পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডী ইউনিয়নের ৩১৭ একর ব্যক্তি মালিকাধীন জমি অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে। জমি কোথায় কি স্থাপনা রয়েছে এর অবস্থান নির্ণয়ে ফিল্ডবুক তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাহিনুর আলমের তত্ত্বাবধানে চলছে সার্ভে কার্যক্রম। এরই মধ্যে আওতাভুক্ত জমি যে অবস্থায় আছে, তা নিয়ে সন্নিবেশিত এলাকায় গত মাসে মাইকে প্রচার করা হয়েছে। যাতে এসব জমিতে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ, পুকুর খনন, গাছপালা রোপণ করা না হয়।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, আওতাভুক্ত বাড়াইশালপাড়া, পশ্চিমপাড়া, পার্বতীপুরের বেলাইচন্ডী এলাকায় গড়ে ওঠছে শতশত বাড়িঘর। বনায়নও হচ্ছে। কেউ কেউ পশুর খামার, বগুড়ার প্রসিদ্ধ দই ঘরও দইয়ের কারখানা ইত্যাদি তৈরি করছেন। অবকাঠামোগুলো দেখে মনে হয় এসব গত এক মাসে তৈরি। কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, অধিগ্রহণকৃত জমিতে পাকা ঘরবাড়ি অন্যান্য স্থাপনা থাকলে ক্ষতিগ্রস্তরা পাবেন দ্বিগুণ অর্থ। পুকুর এবং গাছপালার জন্য আলাদাভাবে ক্ষতিগ্রস্তরা পাবেন টাকা। এ সুযোগটাই নিতে চাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

এলাকার বাসিন্দা সুজন, ফজলুর রহমান, রাজু আহমেদ সিরাজুল ইসলাম স্বীকার করেন, তারা নতুন বাড়ি বানিয়েছেন বেশি টাকার আশায়।

ফিল্ডবুক তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার। তিনি বলেন, ‘আমরা মাইকে প্রচার করেছি। আওতাভুক্ত জমি যে অবস্থায় আছে সেভাবেই থাকবে। যার উপর আমরা আর্থিক মূল্যায়ন করবো। কোনোক্রমে নতুন তৈরি বাড়িঘর স্থাপনা তালিকাভুক্ত হবে না। ফিল্ডবুক তৈরির সময় আমরা পর্যবেক্ষণ করছি কেউ নতুন ঘরবাড়ি বানাচ্ছেন কি না। নতুন বাড়িঘরগুলোতে আমরা চিহ্ন এঁকে দিচ্ছি। সবমিলিয়ে একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘নতুন গড়েওঠা ঘরবাড়ি স্থাপনা, পুকুর গাছপালা কোনোক্রমে অধিগ্রহণের আওতাভুক্ত হবে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন