ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬
৩৩ °সে


বিভিন্ন স্থানে ঝড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ঘর-বাড়ি লন্ডভন্ড

বিভিন্ন স্থানে ঝড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ  ঘর-বাড়ি লন্ডভন্ড
পীরগাছা (রংপুর): গত শুক্রবার ভোরে কালবৈশাখী ঝড়ে পড়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক খুঁটি —ইত্তেফাক

ইত্তেফাক ডেস্ক

কালবৈশাখীতে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘর-বাড়ি, ধর্মীয় উপাসনালয়, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) : ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী, মল্লিকবাড়ী ও কাচিনা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীতে বাড়ি-ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ওইসব এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক কাঁচা আধাপাকা বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ের পর থেকে ওইসব এলাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন ঘরের চাল না থাকায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। অপরদিকে ঝড়ের সময় উপজেলার ভালুকা ইউনিয়নের হাজীর বাজার এলাকায় একটি বাড়িতে বজ্রপাত হলে দুটি ঘর আগুনে পুড়ে যায়। শনিবার সকালে ভালুকা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

চাটমোহর (পাবনা) : চাটমোহর উপজেলার উপর দিয়ে কালবৈশাখী আর বজ্রবৃষ্টি বয়ে গেছে। এ সময় গাছের নিচে চাপা পড়ে এক গৃহবধূ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরো দুই ব্যক্তি। শুক্রবার বিকাল ও সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া এই ঝড়ে ঘর-বাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। উঠতি বোরো ধান ও আম-লিচুর ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কারণে বৈদ্যুতিক লাইনের ক্ষতি হওয়ায় অনেক এলাকায় শুক্রবার বিকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ ছিল। কালবৈশাখীর মধ্যে আম কুড়াতে গিয়ে গাছের চাপায় মার্জিনা খাতুন (২৩) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন।

পীরগাছা (রংপুর) : পীরগাছায় শুক্রবার ভোর রাতে আকস্মিক কালবৈশাখী ও শিলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রায় দুই শতাধিক কাঁচা ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত ও অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে। এসময় পাকা ধানসহ রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও অর্ধশত স্থানে তার ছিঁড়ে বিদ্যুত্ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুত্ না থাকায় বেশকিছু এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) : কালবৈশাখীতে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ে নারুচি, ভালোবাড়ী ও উড়িয়াবাড়ী গ্রামের ৬০/৭০টি বাড়ি-ঘর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনো কোনো ঘর-বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যায়। কোনোটির চালা উড়িয়ে নিয়ে যায়। ঝড়ে ৩০ জন আহত হন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়। ঝড়ে বোরো ধান, পাট ও সবজি বাগানসহ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রাণীনগর (নওগাঁ): রাণীনগরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে প্রায় পাঁচ শতাধিক কাঁচা-পাকা ঘর-বাড়ি ও একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কক্ষ। গত শুক্রবার বিকেলে এই অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড়। এই ঝড়ে শুধু ঘর-বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বিদ্যুত বিতরণ ব্যবস্থারও।

পীরগাছা (রংপুর):পীরগাছায় কালবৈশাখী ঝড়ের পর রংপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ পীরগাছা জোনাল অফিসের আওতায় প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়ে। এরমধ্যে শুক্রবার রাতে ও শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৪০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুত্ দিতে পারলেও ২০ হাজার গ্রাহক এখনো বিদ্যুত্হীন রয়েছে। ঝড়ের পর দীর্ঘ সময় বিদ্যুত্ না থাকায় রমজান মাসে গ্রাহকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ঝড়ে ১২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। ২০টি হেলে পড়ে এবং ৩০/৪০ স্থানে ক্যাবল ছিঁড়ে যায়। বিদ্যুত্ না থাকায় বেশকিছু এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ হয়ে গেছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন