ঢাকা বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬
৩২ °সে


ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় অপরিপক্ব লিচু দিনাজপুরের বাজারে

ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় অপরিপক্ব  লিচু দিনাজপুরের বাজারে
দিনাজপুর:শহরের নিউ মার্কেটের বাজারে অপরিপক্ব সবুজ রঙয়ের কাঁচা লিচু —ইত্তেফাক

মো. মতিউর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর অফিস

মৌসুম শুরু হওয়ার আরো ক’দিন বাকি থাকলেও বাজারে আসতে শুরু করেছে অপরিপক্ব লিচু। কৃষি বিভাগ বলছে, দিনাজপুরের এবারের পরিস্থিতি অনুযায়ী জাতভেদে আগাম জাতের লিচু পরিপক্ব হতে আরো সময় লাগবে অন্তত ১৫ দিন। তবে বাগান মালিকরা প্রতিকূল আবহাওয়া আর ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় পুরোপুরি রঙ আসার আগেই লিচু বিক্রি করতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন।

দিনাজপুরের প্রধান লিচুর বাজার শহরের নিউমার্কেট ফলের বাজারে গতকাল রবিবার গিয়ে দেখা যায়, অপরিপক্ব লিচু দিয়েই জমতে শুরু করেছে লিচুর বাজার। এর মধ্যে অধিকাংশ লিচুরই গায়ে রঙ আসেনি এবং আকারেও ছোট। বাজারে এসব অপরিপক্ব লিচু বিক্রি হচ্ছে প্রতিশ ১২০ থেকে ১৮০ টাকা দরে।

এই বাজারে লিচু বিক্রি করতে আসেন দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পলাশবাড়ী গ্রামের লিচু চাষি আনোয়ার হোসেন। তিনি ১০ হাজার লিচু বাজারে এনেছেন, সেসব লিচুর গায়ে এখনো রং আসেনি। সবুজ রঙ-ই লেগে আছে লিচুর গায়ে। এই অপরিপক্ব লিচু বাগান থেকে বাজারে বিক্রি করতে আনার কারণ হিসেবে আনোয়ার হোসেন জানান, অধিক গরম ও রোদের কারণে লিচু ফেটে যাচ্ছে। তাছাড়া ঝড় ও বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে লিচুর ক্ষতি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কাঁচা লিচুই বাজারে বিক্রি করতে এসেছেন তিনি। তিনি জানান, প্রতি হাজার লিচু ৮ হাজার টাকা দরে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেছেন তিনি। পরে এই দামই যদি না তুলতে পারেন-এমন আশঙ্কায় তিনি লিচু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

বাজারে বিক্রেতারা বলছেন, লিচু কাঁচা থাকতেই বাগান মালিকরা বাজারে লিচু নিয়ে আসছেন। এসব লিচু কিনে সামান্য কিছু লাভ রেখেই তারা লিচু বিক্রি করছেন ভোক্তাদের কাছে। দিনাজপুর কৃষি বিভাগের হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, দিনাজপুরে বেশ কয়েক জাতের লিচু উত্পাদন হয়ে থাকে। এর মধ্যে মাদ্রাজী লিচু পরিপক্ব হয় মে মাসের শেষের দিকে, বোম্বে ও বেদেনা পরিপক্ব হয় জুন মাসের ১০ তারিখের পর এবং সবশেষে পরিপক্ব হয় চায়না-৩ লিচু। তিনি জানান, এবার আবহাওয়ার কারণে লিচুর ফুল আসতে দেরি হয়। এই কারণে এবার লিচু পরিপক্ব হতে আরো সময় লাগবে। কিন্তু ইতোমধ্যেই ব্যাপকহারে অপরিপক্ব লিচু বাজারে আনতে শুরু করেছে লিচুর বাগান মালিকরা। এসব লিচুর স্বাদ এখনো হয়নি বলে তিনি জানান। তিনি পরিপক্ব হওয়ার পর লিচু বাজারে আনার জন্য বাগান মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রদীপ কুমার গুহ জানান, দিনাজপুর জেলায় এবার প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে এবং উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন লিচু। লিচু লাভজনক হওয়ায় দিনাজপুরে প্রতিবছর লিচুর বাগানের পরিমাণ বাড়ছে বলে তিনি জানান। এদিকে প্রতিবছরই অধিক লাভের আশায় বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বাগানে ক্ষতিকারক কীটনাশক ও ওষুধের অপপ্রয়োগ করে থাকেন। এ বিষয়ে দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, লিচু ভালো রাখতে এবং উত্পাদন বাড়াতে কীটনাশক ও ওষুধের প্রয়োগ করতে হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু কিছু বাগান মালিক এর অপপ্রয়োগ করে থাকেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন