ঢাকা সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
৩২ °সে


পানিস্তর নেমে যাওয়ায় চার জেনারেটরে উত্পাদন বন্ধ!

পানিস্তর নেমে যাওয়ায় চার জেনারেটরে উত্পাদন বন্ধ!
কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি): কাপ্তাই লেকে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পন্টুন শুকনো মাটিতে আটকে আছে —ইত্তেফাক

থেমে আছে নৌচলাচল n দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কাজী মোশররফ হোসেন, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা

কাপ্তাই লেকে পানির স্তর অস্বাভাবিক হারে কমছে। পানির স্তর বর্তমানে এতটাই কমে এসেছে যে, পানির অভাবে কাপ্তাই বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ৫টি জেনারেটরের মধ্যে ৪টি জেনারেটর বন্ধ রয়েছে। যে জেনারেটরটি কোনোরকমে সচল থেকে সীমিত পরিমাণে বিদ্যুত্ উত্পাদন করে যাচ্ছে সেটিও যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ হবার আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যুত্ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী কাপ্তাই লেকে বর্তমানে পানি থাকার কথা ৭৮.১৩ ফুট এম এস এল (মিন সি লেভেল)। কিন্তু লেকে এখন পানি রয়েছে ৭২ ফুট এম এস এল পানি। রুলকাভ অনুযায়ী লেকে পানি থাকলে কাপ্তাই বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ৫টি জেনারেটরের সবগুলো চালু থাকতো এবং ৫টি জেনারেটর থেকে ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হতো। কিন্তু এখন চলছে শুধুমাত্র ১ নাম্বার জেনারেটর। এই একটি জেনারেটর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পন্ন হচ্ছে। উত্পাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা হচ্ছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এ টি এম আব্দুজ্জাহের কাপ্তাই লেকে পানি স্বল্পতার কথা স্বীকার করে বলেন, এখন বৃষ্টি হবার কথা। কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না। বৃষ্টি না হওয়ায় লেকে পানি বিন্দু পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বরং বিদ্যুত্ উত্পাদনের ফলে প্রতিদিন লেকের পানি কমছে। পাশাপাশি প্রচণ্ড রোদ এবং সেচ কাজে ব্যবহারের ফলে প্রতিনিয়ত লেকের পানি কমছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে যে কোনো মুহূর্তে বিদ্যুত্ কেন্দ্রের চলমান শেষ জেনারেটরটিও বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা করেন। তবে যখন তখন বৃষ্টি হবার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ব্যবস্থাপক বলেন, কাপ্তাই বিদ্যুত্ কেন্দ্র সম্পূর্ণ পানির উপর নির্ভরশীল। লেকে পানি থাকলেই বিদ্যুত্ উত্পাদন হবে। পরিমাণমতো পানি না থাকলে বিদ্যুত্ উত্পাদন হবে না।

বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরোত্তম তনচংগ্যা বলেন, কাপ্তাই লেকে পানির অভাবে বিদ্যুত্ উত্পাদন যেমন হুমকির মুখে পড়েছে তেমনি লেকে পানি না থাকায় নৌযান চলাচলে হাজার হাজার মানুষকে চারম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। লেকে পানি না থাকায় নৌ চলাচল করতে পারছে না। আর নৌযান চলাচল করতে না পারায় নিত্য নৈমিত্তিক মালামাল পরিবহনও করা যাচ্ছে না। যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই কারণে মানুষের জীবনযাত্রায়ও অচলাবস্থা দেখা যাচ্ছে।

লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার বলেন, প্রতিবছর এই সময় কাপ্তাই লেকের পানির স্তর কমে যায়। এটা সবার কাছে অনেকটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে এ বছর পানির স্তর অনেক বেশি পরিমাণে কমেছে। যে কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। আকাশে মেঘের চিহ্নও দেখা যাচ্ছে না। সহসা বৃষ্টি হবার কোনো সম্ভাবনাও নেই।

সেনাবাহিনীর বিলাইছড়ি জোনের একটি সূত্র জানায়, লেকে পানি না থাকায় সেনাবাহিনী লেকে নিয়মিত নৌ টহল দিতে পারছে না। এখন শুধু বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা। বৃষ্টি আসলে এবং লেকের পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে পাহাড়ে বসবাসকারি হাজার হাজার পরিবারের ভোগান্তি কমবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন