ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬
৩৩ °সে


জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়ক

১৩ কিলোমিটার যান চলাচলের অনুপযোগী!

১৩ কিলোমিটার যান চলাচলের অনুপযোগী!
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ):জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কে মীরপুর বাজারের পূর্ব পাশে সৃষ্টি হওয়া বিশাল গর্ত —ইত্তেফাক

মো. আব্দুল হাই, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের উপজেলা সদর থেকে কেউনবাড়ি বাজার পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার বেহাল। গত অর্থ বছরে সড়কের এ অংশে পুনঃসংস্কার কাজ বাস্তবায়ন হয়। কিন্তু বছর যেতে না যেতেই আবারো সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দক ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচলের অনুপযোগী এ সড়কে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই উপজেলা সদর থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত সড়কটির বটেরতল, হামজা কমিউনিটি সেন্টারের সামন, ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামন, মীরপুর মেঘাখালী ব্রিজের দুপাশে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি কেউনবাড়ি বাজার পর্যন্ত পুরো সড়কটিতেই অসংখ্য খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এসব গর্তগুলোতে মালবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাসসহ সকল প্রকার যানবাহন আটকে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ছে। এছাড়া বিভিন্ন যানবাহন এসব গর্তে পড়ে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

জগন্নাথপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শফিকুল হক শফিক জানান, উপজেলা সদর থেকে শুরু করে পুরো সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী। পাশাপাশি কালভার্ট ও দুই/একটি সেতুর অ্যাপ্রোচ ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছে।

পৌর শহরের ব্যবসায়ী আজাদ আলী জানান, সড়কটির বেহাল দশায় নিজের গাড়িটিও ছয় মাস ধরে গ্যারেজবন্দি করে রেখেছি। এখন মোটরবাইক কিংবা হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে।

শহরের ছিক্কা এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক জানান, সড়কটির খানাখন্দক আর গর্তের চিত্র এখন ভয়ংকর। উপজেলা সদর থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত যাতায়াতে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। কিছু দিন আগে হাসপাতালে আসা গর্ভবতী এক মহিলাকে বহনকারী গাড়ি সড়কের গর্তে আটকে যাওয়ায় সেখানেই সন্তান প্রসব করেন ওই মহিলা।

মীরপুর বাজারের ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া জানান, পুরো সড়ক জুড়েই এখন গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মীরপুর বাজারের পূর্ব পাশে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু এ স্থান নয় বিশ্বনাথ উপজেলার মিয়ার বাজার নামকস্থানে সড়কের প্রায় ৫০ ফুট এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

চান্দভরাং স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক হাছফা বেগম জানান, মীরপুর ইউনিয়নের শেষ সীমান্তে আমার বাড়ি হওয়ায় প্রতিনিয়ত যানবাহনে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়। সড়কটির পিচ উঠে গিয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ১৫ মিনিটের যাতায়াতের সময়টিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় এক ঘণ্টা। চাকরি জীবনের শুরু থেকেই দেখে আসছি সড়কটির একই অবস্থা। যাতায়াতে অনুপযোগী সড়কটিতে চলাচল করে অসুস্থ হয়ে পড়েছি।

এলজিইডির জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার সড়কের সংস্কার কাজের বিষয়ে ইত্তেফাককে জানান, জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের কেউন বাড়ি বাজার পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশে পুনঃসংস্কার কাজের জন্য প্রাক্কলন প্রস্তুত করে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে পাঠানো হয়েছে। তবে সাময়িকভাবে সড়কটির খানাখন্দক ও গর্ত ভরাটের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। শিগগিরই দরপত্র আহবানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিযুক্ত করে কাজ শুরু করা হবে।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহ্ফুজুর আলম মাসুম জানান, এলজিইডির বাস্তবায়নকৃত জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের কেউনবাড়ি পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়ক এলজিইডি থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগে স্থানান্তর করার জন্য কাজ চলছে। তবে সড়ক ও জনপথে স্থানান্তরের কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি জানান।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন