ঢাকা সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
২৭ °সে


ভারতসহ পাঁচ দেশে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের মধু!

ভারতসহ পাঁচ দেশে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের মধু!

জয়নাল আবেদীন, গোপালপুর (টাঙ্গাইল)সংবাদদাতা

ভারতসহ পৃথিবীর পাঁচ দেশে এবার মধু রপ্তানি হওয়ায় টাঙ্গাইলের মৌপালকরা বেজায় খুশি। বাজারজাত ও বিপণন সমস্যা কেটে যাওয়ায় বেশ দাম পাচ্ছে মৌচাষিরা। টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে প্রচুর মধু পাওয়া যেতো বলে নাম হয়েছে মধুপুর। গত শতাব্দীর আশির দশকে মধুপুরে মৌবাক্সে মধু চাষ শুরু হয়। বেসরকারি সংস্থা এপি প্রথম শুরু করে। পরে বিসিক ও গ্রামীণ ব্যাংক মৌচাষে ক্ষুদ্র ঋণ, প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। নব্বুইয়ের দশকে মধুপুরে মৌচাষে বিপ্লব ঘটায় মৌচাষ উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন। তিনি মৌচাষ নিয়ে নিরন্তর গবেষণা এবং তৃণমূল পর্যায়ে মৌপালনকে জনপ্রিয় করে তোলেন। ওই সংস্থা বিগত দেড় দশকে চার হাজার বেকার যুবক-যুবতীকে মৌচাষে প্রশিক্ষণ দেন। ফলে মৌচাষ মধুপুর ছাড়িয়ে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি, গোপালপুর, ঘাটাইল, ভুয়াপুর, সখিপুর, জামালপুরের সরিষাবাড়ি, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, ভালুকা ও ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে। সিরোনিকার পরিবর্তে ভারত থেকে আনা হয় হাইব্রিড মেলিফেরা জাতের মৌমাছি। এতে মৌচাষে বিপ্লব ঘটে। বর্তমানে একটি উপজেলায় প্রায় আটশ টন মধু উত্পাদন হয় বলে জানায় মউস বা মৌচাষ উন্নয়ন সংস্থা।

বাংলাদেশ মৌচাষ কল্যাণ সমিতির সভাপতি এবং ভুয়াপুর উপজেলার তেরিল্লা গ্রামের মৌচাষি দুলাল হোসেন জানান, তার খামারে ২৪০টি মৌবাক্স রয়েছে। এবার সরিষা মৌসুমে প্রায় ৬০ মণ মধু উত্পাদন করেছেন। জানুয়ারিতে সরিষা থেকে মধু সংগ্রহের সুযোগ বন্ধ হলে মৌকলোনি নিয়ে যান মাদারীপুরের শিবপুর উপজেলার দনিয়া ও কালাশচ মাঠে। ফেব্রুয়ারি-মার্চে শিবচর থেকে কলোনি মাইগ্রেশন হয় দিনাজপুরের লিচু বাগান সমৃদ্ধ এলাকায়। মে মাসে পুনরায় মাইগ্রেশন হয় সুন্দরবন এলাকায়। সর্বশেষ জুনে পঞ্চগড় জেলার তিল ফসল হতে মধু সংগ্রহের পর কলোনি নিয়ে ভুয়াপুরে ফিরেন। এভাবে নভেম্বর হতে জুন পর্যন্ত টানা আট মাস দুলাল হোসেনের মতো বড় বড় খামারিরা দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মাঠে ময়দানে ঘুরে মধু সংগ্রহ করেন। দুলাল হোসেনের মত ভুয়াপুর উপজেলার আশরাফ ও ঝুমুর, গোপালপুর উপজেলার আরিফ, রিপন ও মনির, মধুপুর উপজেলার মোতালেব, রফিকুল ও জাহিদের মতো মৌপালকরা মধু উত্পাদন ও বিক্রি করে এখন কোটিপতি।

মৌচাষ উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন জানান, ভারতীয় কোম্পানি ‘ডাবর’ গতবছর টাঙ্গাইল থেকে প্রায় দেড়শ টন মধু কিনে নেয়। এবার সারাদেশ থেকে তারা তিনশ টন মধু কিনবে। তবে সিংহভাগই টাঙ্গাইল ও এর আশেপাশের উপজেলায় উত্পাদিত মধু। ভারত ছাড়াও সৌদি আরব, জাপান, কানাডা ও জর্ডানে দেশি-বিদেশি বায়ারদের মাধ্যমে মধু রপ্তানি হচ্ছে। এভাবে রপ্তানি অব্যাহত থাকলে টাঙ্গাইলের মধু বাজারজাত ও বিপণনে কোনো সমস্যা থাকবে না বলে জানান মউসের কর্মকর্তারা।

মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের মৌপালক খোরশেদ আলম বাচ্চু জানান, গতবার ভারতীয় বহুজাতিক কোম্পানি ডাবর প্রতি মণ মধুর দাম দিয়েছিল পাঁচ হাজার টাকা। এবারো একই দাম দিচ্ছে। কিন্তু অন্যান্য দেশ দাম কিছুটা বেশি দিচ্ছে। তিনি মধুর দাম আরো বাড়ানোর যুক্তি তুলে ধরেন। মউসের পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ওষুধ কোম্পানিসহ দেশের কোনো কোনো বড় ক্রেতা বিদেশ থেকে মধু আমদানি করায় দেশি মধু কদর পাচ্ছে না। তিনি লাভজনক মধু প্রক্রিয়াজাতকরণে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন