ঢাকা শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


গলাচিপা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে তিন গ্রাম

গলাচিপা নদীর ভাঙনে  বিলীন হচ্ছে তিন গ্রাম
গলাচিপা (পটুয়াখালী) :নদীরভাঙনে বিধ্বস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একাংশ —ইত্তেফাক

গলাচিপা নদীর ভাঙনে গলাচিপা উপজেলার তিনটি গ্রাম এক কিলোমিটারব্যাপী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ঐ নদী ঘেঁষে উপজেলার ডাকুয়ার ইউনিয়নের আটখালী, ডাকুয়া ও হোগলবুনিয়ায় রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ সরকারি বেসরকারি স্থাপনা। সারা বছরই চলে নদীভাঙন। তবে বর্ষায় ভাঙনের তীব্রতা আরো বেড়েছে।

স্থানীয় আমির হোসেন মল্লিক ও হারুন হাওলাদারসহ অনেকে জানান, গলাচিপা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের ওপর কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে উপজেলা সদর থেকে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও দশমিনা উপজেলার সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। নদী শাসনের কোনো ব্যবস্থা করা না হলে বর্ষা মৌসুমেই নদীগর্ভে চলে যাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আলতাফ মাহমুদের সমাধিস্থল। এছাড়া ভাঙন হুমকিতে রয়েছে ডাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, আটখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আটখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জৈনপুরী পীর সাহেবের খানকা, আটখালী কমিউনিটি ক্লিনিক, গলাচিপা-কলাগাছিয়া সংযোগ সড়কের একাংশ, গলাচিপা-চরচন্দ্রাইল সংযোগ সড়কের একাংশ এবং তেঁতুলতলা বাজার, ২০০ বছরের পুরনো জমিদার বাড়ি, পাঁচটি মসজিদ, দুইটি মন্দির, অসংখ্য বাড়িঘর ও ফসলি জমি। ভাঙন রোধ কিংবা নদীশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করে পানি উন্নয়ন বোর্ড দুইবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছে। ফলে কয়েক বছরে গলাচিপা নদীর ভাঙনে বাস্তুহারা হয়েছে শতাধিক পরিবার। ইতিমধ্যে এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। জোয়ারের লোনা-পানি প্রবেশ করায় ফসলেরও ক্ষতি হচ্ছে। তারা বলেন, আর বেড়িবাঁধ চাই না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই দাবি, নদীশাসনের মাধ্যমে ভাঙন রোধ করে আমাদের সহায়-সম্পদ রক্ষার ব্যবস্থা করুন।

ডাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান বদরুল ইসলাম বাদল খান জানান, শিঘ্রই নদীশাসন ও ড্রেজিং করে গতিপথ পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ডাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদসহ প্রায় ২০০ কোটি টাকার সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানার সম্পদ গলাচিপা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এছাড়া গলাচিপা সদরের সঙ্গে ৫টি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গলাচিপা নদীর ভাঙনকবলিত ডাকুয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ভাঙন রোধে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাধিকবার ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী তাকে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা জানান, গলাচিপা নদীর ভাঙন থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ জনপদ রক্ষার বিষয়ে জাতীয় সংসদে তিনি বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটারও দিয়েছেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন