ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
৩১ °সে


কচুয়ায় আর্সেনিকযুক্ত পানি রোগীদের অসহনীয় দুর্ভোগ

কচুয়ায় আর্সেনিকযুক্ত পানি  রোগীদের অসহনীয় দুর্ভোগ

প্রায় দুই যুগ আগে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা দেশের অন্যতম অতি আর্সেনিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও আজও বেশিরভাগ লোক আর্সেনিকযুক্ত (অনিরাপদ) পানি পান করে চলছে। আর্সেনিক ঝুঁকি এলাকা চিহ্নিত হওয়ার পর ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৭০০ থেকে ৭৪০ ফুটের ২৫২টি আর্সেনিক মুক্ত গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর ৩০ ফুটের নিচে চলে যায় বলে তখন ঐ নলকূপগুলো অকেজো থাকে। ফলে এসব নলকূপ ব্যবহারে লোকজন আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বর্তমানে ঐসব নলকূপের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

২০০০ সালে এনজিও গ্রামীণ শিক্ষা আর্সেনিক নিয়ে উপজেলার ২৪৩টি গ্রামে জরিপ চালায়। জরিপ মোতাবেক পরীক্ষিত টিউবওয়েলের সংখ্যা ১৭ হাজার ৭৮৭টি। এর মধ্যে শতকরা ৯৮ ভাগ টিউবওয়েলের পানিই আর্সেনিক যুক্ত। আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েলগুলোকে লাল রং দ্বারা এবং আর্সেনিক মুক্ত টিউবওয়েলগুলোকে সবুজ রং দ্বারা চিহ্নিত করা হলেও আজকের দিনে সেই সব চিহ্নের অস্তিত্ব নেই।

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ একটি প্রকল্পের আওতায় ২০১১ সালে আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নিরূপণে জরিপ কাজ চালায়। জরিপে আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫১৩ জন। সে সময় রোগীদের রোগ উপশমে হাসপাতাল থেকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ট্যাবলেট ও আয়রন ফলিক অ্যাসিড জিং দেওয়া হতো। এখন আর আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে আসে না তাই এই কার্যক্রম বন্ধ বলে ডাক্তাররা জানায়। ঐ সালের পর থেকে স্বাস্থ্য বিভাগ আর্সেনিকের উপর আর কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।

আর্সেনিকে আক্রান্ত চকিদার বাড়ির নুরুন্নাহার, নাছিমা বেগম, সেলিম, পার্শ্ববর্তী কাজী বাড়ির ছালেহা বেগম, টোরা বাড়ির লুত্ফুর রহমান ও যুগী বাড়ির সালেহা জানান, শীতকালে পায়ের জুতা খোলা যায় না। পায়ের তালুতে সাদা দাগে রক্ত জমাট হয়ে বিষফোড়ার মতো অবস্থা হয় ও চামড়া ফেটে যায়। গরমকালে তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হয়।

কচুয়া উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সালাহ উদ্দিন মাহমুদ জানান, ২০১১ সালের পরবর্তীকালে কোনো জরিপ কাজ পরিচালিত না হওয়ায় বর্তমানে শনাক্তকৃত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ও কতভাগ লোক নিরাপদ পানি পান করছে তার সঠিক তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জরিপ কাজটিও একটি জটিল প্রক্রিয়া। আর্সেনোকোসিস একটি মরণব্যাধি রোগ। এ রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে নিরাপদ পানি ব্যবহারে জনগোষ্ঠীকে অবশ্যই সচেতন করে তোলার পদক্ষেপ নিতে হবে।

পালাখাল মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন, পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ আজাদ ও গোহট উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল হাই মুন্সি বলেন, চাহিদা মোতাবেক আর্সেনিকমুক্ত গভীর নলকূপ স্থাপনসহ গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সচেতনতার অভাবে আর্সেনিকে আক্রান্ত অনেক রোগীই আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে ক্রমে ক্রমে মৃত্যুপথের যাত্রী হচ্ছে। তাছাড়া আক্রান্তের সংখ্যাও দিন দিন বেড়ে চলছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কামরুজ্জামান জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি প্রকল্প থেকে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ৬০৮টি গভীর নলকূপ স্থাপনের ইউনিয়ন ভিত্তিক বণ্টন তালিকা পাওয়া গেছে। তালিকা মোতাবেক টিওবওয়েল স্থাপন, আর্সেনিক স্ক্যানিং ও মেটিকেশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এনজিও নিয়োগ দানের কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে। তিনিও আর্সেনিকের চরম পরিণতি বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন