ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
২৯ °সে


হুমকির মুখে চামড়াশিল্প

আমদানি বাড়ছে রপ্তানি কমছে
হুমকির মুখে চামড়াশিল্প
চট্টগ্রাম : কালুরঘাট শিল্প এলাকার একটি কারখানায় পশুর চামড়া প্রসেসিং করা হচ্ছে —মোস্তাফিজুর রহমান

দেশের ট্যানারিগুলোর গুদাম ভর্তি রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা চামড়া। তারপরও বিদেশ থেকে প্রচুর চামড়া আমদানি হচ্ছে। এতে দেশের অন্যতম রপ্তানিজাত পণ্য চামড়াশিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় দেশে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ লাখ বর্গফুট ফিনিশড চামড়া আমদানি হচ্ছে। অথচ দেশীয় পশুর চামড়া রপ্তানি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। রপ্তানিতে মিলছে না ন্যায্যমূল্য। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রচুর সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নানা অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের চামড়াশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাঁচা চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ না হওয়ায় চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। আবার দেশের ট্যানারিগুলো শতভাগ পরিবেশবান্ধব না হওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা বিমুখ হচ্ছে। পশু থেকে চামড়া আলাদা করতে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ, লবণ দিতে বিলম্ব করায় প্রায় ৩০ শতাংশ ও গাড়িতে করে পরিবহনের কারণে ২০ শতাংশ কাঁচা চামড়া নষ্ট হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের চামড়ার দাম কমে গেছে। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি বর্গফুট ফিনিশড চামড়ার দাম ছিল আড়াই থেকে তিন ডলার। বর্তমানে দাম কমে দাঁড়িয়েছে দুই ডলারের নিচে। এছাড়া, সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সময় প্রায় দুই বছর ধরে চামড়ার রপ্তানি বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময়ে যে সমস্ত বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশ থেকে চামড়া আমদানি করত তারা অন্য দেশ থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছে। পরবর্তী সময়ে সেসব বিদেশি ক্রেতারা আর ফিরে আসেনি।

চামড়া শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, ফিনিশড চামড়া আমদানি ঠেকাতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় দেশীয় চামড়া শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। ফিনিশড চামড়া আমদানিতে অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপের দাবি জানান তারা।

গত ২০১৬ সাল থেকে দেশে কাঁচা চামড়ার বাজারে ধস নামতে থাকে। কোরবানি দাতারা চামড়ার দাম পাচ্ছেন না। প্রতিটি কাঁচা চামড়ায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি মূল্য পাচ্ছেন না কোরবানি দাতারা। চামড়া রপ্তানিকারকরা জানান, দেশীয় চামড়ার গুণগত মানসম্পন্ন না হওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এখনো দেশের ট্যানারিগুলোতে শত ভাগ ইটিপি নির্মাণ করা যায়নি।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি হাজী বেলাল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের দেশের ট্যানারিগুলোকে পরিবেশবান্ধব করতে হবে। সাভারের ট্যানারিগুলো এখনো শতভাগ পরিবেশবান্ধব বলা যাবে না। রপ্তানি বাড়াতে হলে চামড়ার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমানে চামড়া রপ্তানিকারকদের প্রত্যেকের কাছে এক থেকে পাঁচ লাখ পিস চামড়া অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার দিয়ে পণ্য নিচ্ছে না। বিক্রয় মূল্যের চেয়ে কম দামে চামড়া নিতে চাচ্ছে। ফলে এবারও কোরবানিতে কাঁচা চামড়ার দাম কম থাকবে।’ বর্তমানে বাংলাদেশের চামড়ার রপ্তানি বাজার সংকুচিত হয়েছে। চীন, ইতালি, জাপান, হংকং ও কোরিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে।

এদিকে আড়তদার কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা ট্যানারি মালিকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। ট্যানারি মালিকরা কাঁচা চামড়া ক্রয় করেন। কিন্তু প্রতি বছর দেখা যায় কোরবানির আগেই তারা কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। যারা চামড়া কিনবেন তারাই মূল্য বেঁধে দেয়ার কারণে কোরবানি দাতারা চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মুসলিম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, আমরা কাঁচা চামড়া আড়তে দুই-তিন মাসের বেশি রাখতে পারি না। পরে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করে দিতে হয়। কিন্তু আমাদের নগদে চামড়া কিনে বাকিতে বিক্রি করতে হয়। ট্যানারি মালিকরা ক্রয়কৃত চামড়ার অর্ধেক মূল্যও নগদ পরিশোধ করে না। গত বছরের বকেয়া টাকা এখনো আড়তদাররা পাওনা রয়েছে।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন