ঢাকা রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


জেল-জরিমানা করেও ঠেকানো যাচ্ছে না বালু তোলা

জেল-জরিমানা করেও ঠেকানো যাচ্ছে না বালু তোলা
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) : ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুর রেললাইন সংলগ্ন কুমার নদ থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে —ইত্তেফাক

জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

মো. রমজান সিকদার, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

রাজধানী ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এবং ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রেললাইনকে ধ্বংস করে একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবত্ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। চক্রটি স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় বেপরোয়া হয়ে কুমার নদ থেকে ২০টিরও বেশি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে। বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ভাঙ্গা রেল স্টেশনসহ কুমার নদের দুই পাড়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন ধ্বংসসহ জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলনের লোভ সামলাতে না পেরে জেল-জরিমানা দিয়েও চক্রটি প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গা-ফরিদপুর অংশের রেলের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে ভাঙ্গা রেল স্টেশন পর্যন্ত কাজ। বিগত মাসখানেক যাবত্ রেল স্টেশনের পাশেই শক্তিশালী দুটি বালুর ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে একটি শক্তিশালী চক্র। অভিযোগ রয়েছে- রেলের এক শ্রেণির অর্থলোভী কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই চলছে বালু উত্তোলনের কাজ।

অপরদিকে ভাঙ্গা কলেজপাড় হতে পীরেরচর পর্যন্ত কুমার নদে প্রায় ২০টিরও অধিক অবৈধ বালু উত্তোলন ড্রেজার বসিয়ে এই চক্রটি বালু উত্তোলন করে আসছে। বালু উত্তোলনের ফলে ীর পাড়ে বসবাসকারীদের জমি ভেঙে যাওয়াসহ মেশিনের বিকট শব্দে স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিষয়গুলো নিয়ে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনের কাছে মৌখিক ও লিখিত আকারে অভিযোগ করলেও তার কোনো সুফল তারা পাচ্ছে না।

চুমুরদী ইউনিয়নের বাসিন্দা ড্রেজারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী আবু জাফর বলেন, দেশে আইনের কোনো শাসন নেই। আমি উপজেলা প্রশাসনে অভিযোগ করার পর সেখান থেকে লোকজন এসে পরিদর্শন করে গেলেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। এছাড়াও উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের এলাকার কুমার থেকে দীর্ঘদিন যাবত্ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমি সংশ্লিষ্ট উপজেলার ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছি জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুকতারুিল আহমেদ বলেন, প্রকৃতপক্ষে উপজেলা প্রশাসন কখনোই বালু উত্তোলনের অনুমোদন প্রদান করে না। অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে এসব অপকর্ম করে থাকে। বিষয়টিকে অতি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি হিমাদ্রী খীসা বলেন, ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশ পেয়েই শনিবার সকাল থেকে অভিযান পরিচালনা করছি। দুপুর পর্যন্ত চারটি শক্তিশালী বালু উত্তোলন ড্রেজার এরই মধ্যে আগুন দিয়ে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে। বালু ব্যবসায়ীরা যত শক্তিশালীই হোক অবৈধভাবে কাউকেই বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন