ঢাকা বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬
৩২ °সে


বঙ্গোপসাগর উত্তাল

অলস সময় কাটাচ্ছে মাঝিমাল্লারা

অলস সময় কাটাচ্ছে মাঝিমাল্লারা
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :কলাপাড়া মত্স্যবন্দর মহিপুর ও আলীপুরের শিববাড়িয়া নদীতে উত্তাল সমুদ্র থেকে আশ্রয় নেওয়া হাজারো ট্রলার নোঙর করে আছে — ইত্তেফাক

লঘুচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হওয়ায় টানা এক সপ্তাহ মত্স্য বন্দর আলীপুর ও মহিপুর ঘাটে অলস সময় কাটাচ্ছে হাজারও ট্রলারের জেলে, মাঝিমাল্লারা। গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা সাগর উত্তাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পায়রা বন্দরসহ সকল বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত জারি করে। ট্রলারগুলোর প্রায় ৫০ হাজার জেলে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। মাছ আহরণ না থাকায় মত্স্য বন্দরের ১ হাজার ৫০০ শ্রমিক এবং জেলে পরিবারের সদস্যরা নানা সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

সরেজমিন মত্স্য বন্দর আলীপুর ও মহিপুরে গিয়ে দেখা গেছে, শিববাড়িয়া নদের দুই তীরের শতাধিক মত্স্য আড়তের ঘাটে হাজার হাজার ট্রলার নোঙর করে আছে। মাছের আড়তগুলো মাছশূন্য। নেই কোনো হাঁক-ডাক!

চট্টগ্রামের এফবি টিপু-২ ট্রলারের মাঝি মো. জামাল জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরা বন্ধ। ট্রলার এবং ১৪ জেলে নিয়ে মহিপুর ঘাটে নোঙর করে আছি। ট্রলারে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বাজার ছিল। তা অর্ধেক খেয়ে ফেলেছি। কিন্তু ১ হাজার টাকার মাছ শিকার করে বিক্রি করতে পারিনি। বাড়িতে আমার মা-বাবা এবং স্ত্রী-সন্তানদের জন্য প্রায় এক মাস ধরে কোনো টাকা পাঠাতে পারিনি। বাড়ির কথা মনে আসলে নিজের অজানতে চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে।

মহিপুর মত্স্য আড়ত ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. ফজলুল হক গাজী জানান, ৬৫ দিনের অবরোধ শেষ হওয়ার পর সাগরে জেলেরা মাছ শিকার করতে গিয়ে মাত্র এক মাসের মধ্যে চার বার সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। জেলেরা সম্পদ ও জীবন বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তীরে ফিরে আসে। মাছ শিকার করতে না পারলেও ট্রলার মালিকদের খরচ ঠিকই চলছে। আমরা মত্স্য ব্যবসায়ীরা ট্রলার মালিকদের লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে মাছ পাচ্ছি না। আমাদের শ্রমিকরা ঘাটে বসে বসে অলস দিনাতিপাত করছে। আগামী ৯ অক্টোবর মা ইলিশ শিকারের জন্য সরকারের অবরোধ শুরু হবে। জেলেদের এবং মত্স্য ব্যবসায়ীদের ভাগ্যে কী যে হবে তা আল্লাহ ভালো জানেন। বাংলাদেশে হয়তো জেলে পেশায় এবং মাছ ব্যবসায় আর লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা মনোজ সাহা বলেন, গত ২৩ জুলাই (২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত) ৬৫ দিনের অবরোধ শেষ হওয়ার পর পরই সাগরে ঘন ঘন দুর্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এমনটি হচ্ছে। তবে আগামী নভেম্বর, ডিসেম্বর সাগরে ইলিশের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তখন সাগর শান্ত থাকলে জেলেরা ইলিশ শিকার করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন