ঢাকা বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬
৩২ °সে


আমনের খেত ফেটে চৌচির

অনাবৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক ফলন না হওয়ার শঙ্কা

অনাবৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক ফলন না হওয়ার শঙ্কা
কেশবপুর (যশোর) :পানির অভাবে আমনের খেত ফেটে চৌচির — ইত্তেফাক

কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় পানির অভাবে কেশবপুরে আমন ধান আবাদকারী চাষিরা পড়েছেন বিপাকে। বৃষ্টি না হওয়ায় তাদের ভূ-গর্ভস্থ পানির সেচ নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রার বেশি আমন আবাদ হলেও সেচের ওপর নির্ভর হওয়ায় চাষিরা স্বাভাবিক ফলন থেকে বঞ্চিত হবেন বলে জানা গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার কেশবপুরে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। এ বছর বৃষ্টি বেশি না হওয়ায় সেচের ওপর নির্ভর হতে হওয়ায় স্বাভাবিক ফলন থেকে চাষিরা বঞ্চিত হবেন বলে কৃষি কর্মকর্তারা এ ধারণা করছেন। ৯ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হলেও এরই মধ্যে ৫ হাজার হেক্টর খেত সেচের আওতায় এসে গেছে। এরপরও বৃষ্টি না হলে পুরো আবাদই সেচের আওতায় এসে যাবে। বুধবার উপজেলার বিভিন্ন বিলের চাষিদের খেতে গিয়ে দেখা গেছে পানির অভাবে আবাদি খেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বিশেষ করে উঁচু জমিতে আবাদ করা চাষিদের পড়তে হয়েছে বিপাকে। প্রচণ্ড রোদ ও গরমে সেচ দিয়েও খেতে পানি ধরে রাখতে পারছে না চাষিরা। একবার সেচ দেওয়ার পর দ্বিতীয়বার দিতে বিলম্ব হলেই খেত শুকিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার ব্রহ্মকাটি গ্রামের চাষি আছিরুদ্দীন জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। খেতে প্রতিবার সেচ দিতে তার খরচ হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। এভাবে আট থেকে ১০ বার সেচ দিতে হবে বলে তিনি জানান। মজিদপুর গ্রামের চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, সেচের মাধ্যমে জমি আবাদযোগ্য করে আড়াই বিঘা জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় পড়তে হয়েছে বিপাকে। ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে খেতে দিতে হচ্ছে। সেচ দিতে বিলম্ব হলেই খেত শুকিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে স্বাভাবিক ফলন পাওয়া যাবে না। ভোগতি গ্রামের চাষি আব্দুল মাজেদ জানান, বৃষ্টি না হওয়ায় ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে আট থেকে ১০ বার আমন খেতে দিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও আমনের আবাদ হয়েছে বেশি। অতিরিক্ত বৃষ্টি না হওয়ায় এরই মধ্যে ৫ হাজার হেক্টর জমির আমন খেত সেচের আওতায় এসেছে। এরপরও বৃষ্টি না হলে পুরো আবাদই সেচের আওতায় এসে যাবে। সে কারণে চাষিদের স্বাভাবিক ফলন থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন