ঢাকা বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬
৩২ °সে


খোলা আকাশের নিচে আমদানি করা ২৮ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া!

খোলা আকাশের নিচে আমদানি করা  ২৮ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া!
জামালপুর :বিদেশ থেকে আমদানি করা ইউরিয়া সার খোলা আকাশের নিচে স্তূপ করে রাখায় রোদ-বৃষ্টিতে গুণগতমান কমে যাচ্ছে —ইত্তেফাক

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দির যমুনা সার কারখানায় আগুন লাগার ঘটনার পর জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল জেলা এবং উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলাসহ মোট ১৯ জেলায় সরবরাহ ও বিক্রির জন্য ইউরিয়া আমদানি করা হয়েছে। এসব সার গুদামের অভাবে বাইরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাস্তার পাশে ত্রিপল-পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, গলে জমাট বেঁধে এ সার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) ওয়াহেছুর রহমান জানান, জেলায় সারের চাহিদা পূরণের জন্য সরকারিভাবে আমদানি করা হয়েছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৮ মে. টন ইউরিয়া সার। এসব আমদানি করা সার বর্তমানে কারখানা চত্বরে ৪০ হাজার ৮১ মে. টন মজুদ রয়েছে। যেহেতু যমুনা সার কারখানায় মাত্র দুটি নিজস্ব গুদাম রয়েছে। সেই গুদাম দুটিতে মাত্র ১২ হাজার মে. টন সার মজুদ রয়েছে। অবশিষ্ট ২৮ হাজার ৮১ মে. টন সার প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাস্তায়, খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল-পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফেলে রাখায় নষ্ট হওয়া এসব সারের বাজার মূল্য প্রায় ৫৬ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এই বিপুল পরিমাণ আমদানি করা সার নষ্ট হওয়ায় একদিকে সরকার আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত, অপরদিকে বিসিআইসির ডিলাররাসহ নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কৃষকরা।

এ বিষয়ে বিসিআইসির সার ডিলার সরকার আবুল হোসেন ও ওসমান গনিসহ অনেকেই জানান, টানা তিন মাসের অধিক সময় ধরে সার মজুদ রাখলে বেশির ভাগ সারের বস্তা গলে জমাট বেঁধে সারের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তারা আরো বলেন, এসব বস্তাপচা জমাট বাঁধা সার খুচরা বিক্রেতাসহ কৃষকরা নিতে চান না। একই অভিযোগ করেন জামালপুর জেলা ট্রাক ও ট্যাংকলরি মালিক সমিতি তারাকান্দি শাখার সভাপতি আশরাফুল আলম মানিক। তিনি বলেন, ‘আমদানিকৃত ইউরিয়া সারের মান অত্যন্ত খারাপ। ট্রাকে তোলার সময় অনেক বস্তা থেকে পানি ঝরছে। এসব সার ডিলারদের গুদামে নিয়ে গেলে তারা নিতে চান না।’

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী আরামনগরের বাসিন্দা কৃষক আমেজ আলী, সাতপোয়ার বাসিন্দা রমজান আলী, চরপলিশা বেতমারী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক রাসেল, সুমন বলেন, চলতি বছর জামালপুর জেলাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক। তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন ফসল উত্পাদনে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। এ সময় বস্তাপচা, জমাট বাঁধা সার ক্ষেতে ছিটানো খুবই কঠিন হবে। তাই সঠিক সময় কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার না পেলে তাদের ফসল উত্পাদন ব্যাহতের আশঙ্কা রয়েছে। অপরদিকে আগামী ইরি-বোরো মৌসুমে সঠিক সময়ে সার আমদানির বিঘ্ন ঘটলে অথবা কারখানায় সার উত্পাদনে যেতে না পারলে এই ১৯ জেলায় সার সংকট দেখা দেবে বলে হতাশা ব্যক্ত করেছেন সাধারণ কৃষকসহ বিসিআইসির ডিলাররা।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) ওয়ায়েছুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টানা কয়েক মাস সার রাখা হলে নিচের কিছু বস্তা নষ্ট হতে পারে। তিনি আরো বলেন, সার জমাট বেঁধে গেলেও এর গুণগত মান নষ্ট হয় না। চলতি আমন মৌসুমে ১৯ জেলার চাহিদা অনুযায়ী ১৪ হাজার ১৮৮ মে. টন সার রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন