ঢাকা বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬
৩২ °সে


টেকনাফের লেচুয়াপ্রাং গ্রামে

নেই স্কুল বিদ্যুত্ ও নাগরিক সেবা চলাচলের একমাত্র সড়কটি কাঁচা

নেই স্কুল বিদ্যুত্ ও নাগরিক সেবা চলাচলের একমাত্র সড়কটি কাঁচা

কক্সবাজারের টেকনাফের অবহেলিত গ্রাম হ্নীলার লেচুয়াপ্রাং। পানি, বিদ্যুত্, সড়ক ও বিদ্যালয় না থাকায় বছরের পর বছর এখানকার বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। স্কুল না থাকায় বছরের পর বছর কোমলমতি শিশুরা শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে। যাতায়াত ব্যবস্থার বন্দোবস্ত না থাকায় অভিভাবকরাও ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়মুখী না করে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করছে। চলাচলের একমাত্র সড়কটিও কাঁচা ও বেহাল। গাড়িতো দূরের কথা হেঁটে চলাও মুশকিল। স্থানীয় বাসিন্দা কলেজছাত্র আব্দুল গফুর জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। পানীয় জলের সমস্যা এখনো প্রকট। মুইন্যাজুম জামে মসজিদের একটি মাত্র টিউবওয়েল পুরো এলাকায় খাবার পানির যোগান দিচ্ছে।

পড়ার স্কুল, পানি, বিদ্যুত্, চলাচলের প্রধান রাস্তা লেচুয়াপ্রাংয়ের অধিবাসীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এখানকার একটি মাত্র কাঁচা সড়কটিও ব্রিক সলিংয়ের আওতায় আসেনি। বৃহত্তর লেচুয়াপ্রাং গ্রামে প্রায় ১ হাজার পরিবারের বসতি। এখানে কোনো বিদ্যালয় না থাকায় যুগ যুগ ধরে লেগেই আছে এখানকার মানুষের সীমাহীন দুর্গতি। অধিকাংশ পরিবার বছরজুড়ে মৌসুমি চাষে লিপ্ত থাকে। লেচুয়াপ্রাং এলাকার স্কুল পড়ুয়া ফারুক, কায়সার উদ্দিন ও জন্নাতুল ফেরদৌস জানান, বিদ্যালয় না থাকায় আমরা পড়া-লেখার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। নিরুপায় হয়ে পাহাড় থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করে বাবা-মাকে সাহায্য করছি।

আলী নামের এক অভিভাবক জানান, বর্ষাকালে স্কুল-মাদ্রাসায় যাওয়া বড়ই মুশকিল। পুরো এলাকা পানিতে পূর্ণ থাকে। চলাচলের সড়কটি ভাঙা এবং কাঁচা হওয়ায় পড়ুয়াদের যাতায়াতে দুঃস্বাধ্য হয়ে পড়ে। নূরুল আজিজ নামের অপর এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, লেচুয়াপ্রাং এলাকা হতে বছর জুড়ে পুরো ইউনিয়নে মৌসুমি শাক-সবজি ও ফলফলাদি যোগান দিচ্ছে। অথচ ইউনিয়নের সব এলাকা উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আসলেও লেচুয়াপ্রাং সেই আগের মতোই পড়ে আছে। হ্নীলা-টেকনাফে সবজি সরবরাহের মাধ্যমে এখানকার মানুষ ভূমিকা রাখছে। উন্নত সড়ক ব্যবস্থা ও পড়ার একটি বিদ্যালয় গ্রামটির চিত্র বদলে দিতে পারে। লেচুয়াপ্রাংয়ের আশপাশের এলাকায় একক ব্যক্তি চলাচলের জন্য একাধিক সড়ক উন্নয়নের আওতায় আসলেও তিনটি ওয়ার্ডের মেম্বারের প্রান্তসীমানায় হওয়ায় এলাকাটি অনেকটা অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয় জনসাধারণের দাবি, গ্রামটির উন্নয়নে জরুরিভিত্তিতে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নিতে হবে।

হ্নীলা ইউপির চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে লেচুয়াপ্রাং এলাকার প্রধান সড়কটি উন্নয়নের আওতায় নিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে আসলে দ্রুত সময়ে সড়ক উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে। তিনি আরো জানান, এই গ্রামের শিশুদের শিক্ষা লাভের সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান জানান, পানি, শিক্ষা, সড়ক উন্নয়নসহ যাবতীয় কিছু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঐ এলাকার উন্নয়ন সাধিত করা হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন