ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


দুপচাঁচিয়া-তালোড়া সড়ক

খানাখন্দে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

খানাখন্দে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন
বগুড়া :খানাখন্দে ভরা দুপচাঁচিয়া-তালোড়া সড়ক —ইত্তেফাক

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া-তালোড়ার ৬ কিলোমিটারের সড়কটি খানাখন্দে ভরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটির কোনো সংস্কার না করায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এছাড়া ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত আর জনসাধারণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বগুড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-রাজশাহী মহাসড়কের নন্দীগ্রামের ওমরদীঘি বাজার থেকে তালোড়া-দুপচাঁচিয়া দিয়ে জয়পুরহাট হয়ে হিলি স্থলবন্দরে যাবার এটি সহজ পথ। সড়কটি মেরামতের জন্য কয়েকবার বরাদ্দ এলেও তা নন্দীগ্রাম উপজেলার মধ্যে আংশিক মেরামতের কাজ করা হয়েছে। গত বছরের শুরুর দিকে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সড়কে মেরামতের কাজ করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, তালোড়া থেকে দুপচাঁচিয়া ৬ কিলোমিটার সড়কটির বিভিন্নস্থানে পিচ ও খোয়া উঠে বড়ো বড়ো গর্ত হয়েছে। তালোড়াবাজার, আলতাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে, লাফাপাড়া, পলিপাড়া, পদ্মপুকুর, লালুকার সেতুর কাছে, মহাশ্মশানের সামনে, দুপচাঁচিয়া সদরে সড়কটির বেহাল অবস্থা। বর্ষার শুরুতে পৌরসভা ইট ও ব্যাটস (ইটের গুঁড়া) দিয়ে সড়কটি চলাচলের ব্যবস্থা করলেও এখন খানাখন্দে পানি জমে আরো গর্ত হয়েছে। ভারী যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে ধীরে ধীরে চলাচল করছে। একসঙ্গে দুইটি যানবাহন পারাপার হতে পারছে না।

ইজিবাইকচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রী নিয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে বারবার ব্রেক কষে চলতে হয়। বর্ষার শুরুর পর থেকে ইজিবাইকের কন্ট্রোল বক্স ও চার্জার মোটর গর্তের পানিতে ডুবে গিয়ে তা মাঝেমধ্যেই পুড়ে যায়। সারাদিনের কামাইয়ের টাকা গ্যারেজে দিতে হয়।’

তালোড়া বাজারের বাসিন্দা ট্রাকচালক চঞ্চল কুমার সরকার বলেন, ‘ধান ও চাল বোঝাই করে দিনে-রাতে কয়েকবার এ রাস্তা দিয়ে তালোড়া থেকে বিভিন্ন মোকামে যেতে হয়। ভাড়ার লোভে এ রাস্তায়ই ট্রাক চালাই। সারাক্ষণ ব্রেক কষে কষে চালাতে হয়। গর্তের পানিতে ট্রাক মাঝেমধ্যে আটকে যায়। ’

পলিপাড়া গ্রামের ভটভটি চালক আবদুল আলী বলেন, ‘এই ভাঙা রাস্তা দিয়্যা প্রতিদিন মাল লিয়্যা চলাচল করি। কামায়ের ট্যাকা গাড়িত খরচ করতেই সব শ্যাষ। রাস্তার গর্তের জন্যি প্রতিদিন দু্ই একটা গাড়ি লষ্ট হয়্যা পড়ে।’

তালোড়া পৌরসভার মেয়র আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তায় পৌরসভার কাজ করার বিধান নেই। তারপরও এলাকার স্বার্থে সাময়িকভাবে চলার জন্য রাস্তায় ইট ও ব্যাটস দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটি মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।’

বগুড়ার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, ‘সড়কটির মেরামতের জন্য ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ইতিমধ্যেই দরপত্র হয়েছে। বর্ষার সময় বিটুমিনের কাজ করা যাবে না। তাই আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে কাজ শুরু করা হবে।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন