ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬
৩৩ °সে


অস্তিত্ব-সংকটে সাতক্ষীরার বেতনা নদীসংলগ্ন দুই খাল

অস্তিত্ব-সংকটে সাতক্ষীরার বেতনা নদীসংলগ্ন দুই খাল
সাতক্ষীরা :ভরাট হয়ে যাচ্ছে বেতনা নদীসংলগ্ন খালের মুখ —ইত্তেফাক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাছখোলার ডায়ের বিল ও ক্যামের বিলের খাল দুটি অস্তিত্ব-সংকটে পড়েছে। মূলত প্রভাবশালীদের দখলেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের শাল্যে এবং মাছখোলা গ্রাম ও সাতক্ষীরা পৌরসভার বদ্দীপুর কলোনির কোল ঘেঁষে খাল দুটি সংযুক্ত হয়েছে বেতনা নদীতে। কিন্তু বেতনার সংযোগমুখে থাকা স্লুইস গেট দুটি অকেজো হয়ে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে পানিপ্রবাহ। খালে সামান্য পানি থাকলেও তাতে নেট পাতা ও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ফলে দখলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ডায়ের বিল ও ক্যামের বিলের খাল। আর এতে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাল্যে, মাঝখোলা, নতুন বাজার, ঝুঁটিতলা, অখড়াখোলা ও মকুন্দপুর এবং পৌরসভার বদ্দীপুর কলোনি, রাজার বাগান, পুরাতন সাতক্ষীরা, আলিয়া মাদ্রাসাপাড়া, কাটিয়াসহ ঐ এলাকার ২০টির বেশি গ্রামের মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আগে খাল দুটিতে জোয়ার-ভাটা হতো। তখন চওড়া ছিল ২০-২৫ হাত। এখন দামারপোতা স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় ডায়ের বিলের খালের সঙ্গে নদীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন। খালের মধ্যেই কিছুদূর পর পর বাঁধ দেওয়া। ভরাট হয়ে গেছে অনেকটা। ভরাট হওয়া অংশ দখল করে ধান চাষ করছেন প্রভাবশালীরা। কেউ বা চাষ করছেন মাছ। এতে দিন দিন অস্তিত্ব হারাচ্ছে ডায়ের বিলের খাল। ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের মাছখোলা গ্রামের রফিকুল মোড়ল জানান, বছরদশেক আগেও খালটি ২০-২৫ হাত চওড়া ছিল। তখন খালে চিংড়ি, গুলি, টেংরা, বেলি, ভেটকি, পুঁটিসহ কয়েক প্রকারের মাছ পাওয়া যেত। মাছ ধরেও অনেকে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন মাছধরা তো দূরের কথা। খালে পানিই নেই। আর প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে ডুবছে গোটা এলাকা।

ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের মাছখোলা গ্রামের কাশেম সরদার জানান, মাছখোলা, বদ্দীপুর কলোনি, নাথপাড়া, শেখপাড়া, কুলিনপাড়া, হরিনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বৃষ্টির পানি ডায়ের বিলের খাল দিয়ে বেতনা নদীতে গিয়ে পড়ে। কিন্তু শুধুমাত্র বর্ষা মৌসুম ছাড়া বাকি সময়ে নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ না থাকায় খাল অপেক্ষা নদী উঁচু হয়ে গেছে। তাই এখন আর বিলের পানি খাল দিয়ে তেমন সরে না। এজন্য বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যা বন্যায় রূপ নেয়। এতে এলাকার কৃষি প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসের মুখে পড়ছে।

মাছখোলার আব্দুল আজিজ জানান, খালে নদীর পানি উঠা-নামা করার জন্য দামারপোতায় একটা গেট আছে। কিন্তু গেটটি উন্মুক্ত না থাকায় চর জমে পানি নিষ্কাশনের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শুধু খাল নয়, ডায়ের বিলে বড়ো বড়ো বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের করায় গত চার-পাঁচ বছর যাবত্ বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বন্যার কবলে পড়তে হয় হাজার হাজার মানুষকে।

স্থানীয় জাহাঙ্গীর কবির জানান, খাল দখল করে যে যার মতো ব্যবহার করছে। খালের প্রবাহ না থাকলে তা তো মরবেই। কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-২ এর উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল হোসেন জানান, ঐ এলাকার স্লুইস গেট দুটি সংস্কার করা হচ্ছে। কিছুদিন পরে নতুন গেট লাগিয়ে তা খুলে দেওয়া হবে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমের আগেই খাল দুটি উন্মুক্ত করা হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৫ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন