ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


শজিমেকে শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত

শজিমেকে শিক্ষক সংকটে  পাঠদান ব্যাহত
বগুড়া :শজিমেক ভবন —ইত্তেফাক

১৫১ শিক্ষক পদের মধ্যে ৬৫টি শূন্য

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে ১৫১ শিক্ষক পদের মধ্যে ৬৫টি পদই শূন্য রয়েছে। দুটি বিভাগে এক জন শিক্ষকও নেই। আর নয়টি বিভাগ চলছে এক জন শিক্ষক দিয়ে। অধ্যাপকের ২৩টি পদ থাকলেও বর্তমানে শূন্য ১৬টি। শিক্ষক সংকটের কারণে মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

‘অতিথি শিক্ষক’ দিয়ে চলছে কোনো কোনো বিভাগ। শিক্ষক শূন্য দুটি বিভাগ হলো: পেডিয়ট্রিক সার্জারি ও পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি। আর একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে ফরেনসিক মেডিসিন, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন, রেডিওথেরাপি, রেসপিরেটরি মেডিসিন, দন্ত, হেপাটোলজি, হেমাটোলজি, অ্যান্ডোক্রাইনোলজি এবং স্পোর্টস মেডিসিন অ্যান্ড অর্থ্রোস্কোপি।

কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে স্থাপিত শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে বর্তমানে এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়াও পাঁচটি বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি, এমডি এবং এমফিল কোর্স করান হয়। এমবিসিএস কোর্সে প্রতি শিক্ষাবর্ষে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে আসনসংখ্যা ১৬০। এছাড়া ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে ডিপ্লোমা-ইন চাইল্ড হেলথ (সিসিএইচ), ডার্মাটোলজি অ্যান্ড ভেনেরিওলজি, ডিপ্লোমা-ইন অর্থোপেডিকসসহ পাঁচটি বিষয়ে। এমডি কোর্স চালু রয়েছে ডক্টরস অব মেডিসিন এবং ইন্টারনাল মেডিসিন বিষয়ে। এছাড়া ফিজিওলজি বিষয়ে এমফিল চালু রয়েছে। সব কোর্স মিলিয়ে কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১ হাজার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি রয়েছেন ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ বিদেশি অনেক শিক্ষার্থী। কলেজে ৩৭টি বিভাগে বর্তমানে শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৫১টি। ১৭টি বিভাগে অধ্যাপকের কোনো পদ সৃষ্টি করা হয়নি। কলেজে অধ্যাপকের মোট ২৩টি পদ থাকলেও ১৬টি পদই শূন্য।

অ্যানাটমি বিভাগে এক জন অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে। ফিজিওলজি বিভাগে অধ্যাপকের একটি, সহযোগী অধ্যাপকের দুটি এবং সহকারী অধ্যাপকের একটি পদ শূন্য রয়েছে। আর প্রভাষকের চারটি পদের একটি শূন্য রয়েছে। বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে প্রভাষকের একটি পদ শূন্য রয়েছে। কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং সহকারী অধ্যাপকের তিনটি পদই শূন্য রয়েছে। ফরেনসিক মেডিসিন চলছে এক জন মাত্র প্রভাষক দিয়ে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ফার্মাকোলজি বিভাগে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। প্যাথলজি বিভাগে অধ্যাপকের একটি এবং প্যাথলজিস্টের দুটি পদ শূন্য রয়েছে। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপকের দুটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের একটি করে পদ শূন্য রয়েছে। শিশুবিভাগে অধ্যাপকের একমাত্র পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ডার্মাটোলজি বিভাগে অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপকের দুটি পদ শূন্য রয়েছে। সাইকিয়াট্রি বিভাগে শূন্য সহকারী অধ্যাপকের দুটি পদ। কার্ডিওলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপকের একটি পদ থাকলেও তা শূন্য রয়েছে। সার্জারি বিভাগে অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপকের দুটি পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন।

চক্ষু বিভাগে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের দুটি পদই শূন্য। নাক-কান-গলা বিভাগে অধ্যাপকের একটি পদ শূন্য। অধ্যাপক পদ শূন্য, অর্থোপেডিক, সার্জারি বিভাগেও। অবস অ্যান্ড গাইনী (প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ) বিভাগে অধ্যাপকের একমাত্র পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সহযোগী অধ্যাপকের তিনটি পদের মধ্যে দুটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। রেডিওলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপকের একটি পদ শূন্য রয়েছে। অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগে অধ্যাপকের একমাত্র পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগে সহযোগী অধ্যাপকের একমাত্র পদ শূন্য রয়েছে। কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শূন্য বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের পদটি। নিউরোসার্জারি বিভাগে সহকারী অধ্যাপকের একটি পদ ফাঁকা রয়েছে। একমাত্র সহকারী অধ্যাপক দিয়ে চলছে হেপাটোলজি বিভাগ।

কলেজের উপাধ্যক্ষ রেজাউল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে শিক্ষক সংকট রয়েছে। শিক্ষক সংকট নিরসনের জন্য প্রত্যেক মাসেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠান হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন