ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


রাজশাহীতে টেন্ডারবাজ নেতারা আত্মগোপনে

রাজশাহীতে টেন্ডারবাজ  নেতারা আত্মগোপনে

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

ঢাকায় টেন্ডারবাজি ও জুয়াসহ অনৈতিক কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযানের শুরুতেই রাজশাহীর টেন্ডারবাজ নেতারা আত্মগোপন করেছে। অভিযুক্ত একাধিক সিন্ডিকেটের হোতা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েক নেতাকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। তাদের কেউ রাজশাহীর বাইরে আবার কেউ বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এক দশক ধরে বিভিন্ন সরকারি অফিসে একচেটিয়া টেন্ডারবাজির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া কোটি কোটি টাকা, নগরীজুড়ে বিপুল জমি ও বাড়ি, বহুতল ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এতদিন টেন্ডারবাজদের চেম্বার দিনরাত মুখরিত থাকলেও ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কাউকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা জানান, গত বছর রাজশাহীতে এসে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের টেন্ডারবাজ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের সতর্ক করেন; কিন্তু তারা সতর্ক হননি। ঢাকায় অভিযান শুরুর পর তারা গা-ঢাকা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীতে টেন্ডারবাজির বড়ো ক্ষেত্র পশ্চিম রেল, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতাল ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়, এলজিইডি, গণপূর্ত, সড়ক ও জনপথসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের একাধিক সিন্ডিকেট। আলোচিত সিন্ডিকেটের বাইরে কেউ কাজ পাওয়ার বিষয়টি কল্পনাও করতে পারে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা বলেন, পশ্চিম রেলে বছরে শত শত কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই প্রভাবশালী নেতার সিন্ডিকেট। প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ভাগ্নেরও রয়েছে পৃথক সিন্ডিকেট। এ ছাড়া সক্রিয় রেলওয়ের এক সাবেক মহাপরিচালকের শ্যালকের সিন্ডিকেট। সূত্র মতে, রেলের একটি টেন্ডারও চতুর্মুখী সিন্ডিকেটকে কমিশন না দিয়ে কেউ নিতে পারেনি। এতে রেলের দুই সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এবং এক সাবেক মহাপরিচালক সহায়তা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কাজের নিম্নমান ছাড়াও সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তা স্বীকার করেন। সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় অনেকে কাজ না করেও বিপুল অঙ্কের টাকা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসের সব টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পৃথক সিন্ডিকেট। স্থানীয় তিন ওষুধ ব্যবসায়ী এবং ঢাকার কয়েকটি লাইসেন্স ব্যবহার করে উভয় সিন্ডিকেট এসব প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে। বিগত অর্থবছরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের সাড়ে ৩৭ কোটি টাকার টেন্ডারে বিরাট ঘাপলার পর চলতি অর্থবছরও বিনা টেন্ডারেই আরো ৩০ কোটি টাকার মালামাল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে ঐ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এরমধ্যে মালামাল সরবরাহ না করে বিল উত্তোলন, ১০০ টাকার পণ্য ১ লাখ টাকায় সরবরাহের অভিযোগ উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সময়ের অধ্যক্ষ ও পরিচালকের আমলে উভয় সিন্ডিকেট টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পেয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা বলেন, এসব সিন্ডিকেট ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন নিয়েই কাজ ভাগ করে দেয়। কোথাও অভিযোগ দিয়েও কাজ হয় না। এ ছাড়া রুয়েট ও রাবির বড়ো টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে রাবির শিক্ষক হত্যা মামলার আসামি এক যুবদল নেতা। এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতার সঙ্গে এসব টেন্ডার ভাগবাটোয়ারা করা হয়।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, নগর ভবনে বর্তমানে কোনো টেন্ডার সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব নেই। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে কতিপয় নেতা টেন্ডারবাজিতে জড়িত বলে শোনা যায়। এমন অনৈতিক কাজের জন্য কেউ চিহ্নিত হলে তার দায় দল বহন করবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে কারও সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন