ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬
৩২ °সে


কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দুই ভবনে চলছে পাঠদান

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দুই ভবনে চলছে পাঠদান
নেত্রকোনা : নেত্রকোনার রাজুর বাজারে শেখ হাসিনা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থান (ওপরে) কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস (নিচে) —ইত্তেফাক

নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়

শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা শেখ হাসিনা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ভর্তির পর ক্লাস করাতে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে বলে বিভিন্ন মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির সীমানা চিহ্নিত করা হলেও জমি অধিগ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট এখনো হস্তান্তর করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যায়ের ভিসি ড. রফিক উল্লাহ খান বলেছেন, খুব দ্রুত ক্লাস শুরু করার কারণেই রাজুর বাজার এলাকার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির দুটো ভবন অস্থায়ীভাবে নিয়ে ক্লাস শুরু করা হয়। আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে নির্ধারিত স্থানে শ্রেণিকক্ষ ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য আবাসিক হলসহ অবকাঠামোর কাজ শুরু হবে। তখন আর এ সমস্যা থাকবে না।

নেত্রকোনার জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। নেত্রকোনা পৌর এলাকার রাজুর বাজার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২০১৮ সাল থেকে বাংলা, ইংরেজি এবং অর্থনীতি বিষয়ে ৯০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ক্লাস শুরু হয়। এই প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এতে করে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেরও সমস্যা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

নেত্রকোনা শহরের উত্তর-পূর্ব দিকে মোহনগঞ্জ উপজেলা সড়কের পাশে ৫০০ একর জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণসহ লেক নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ১২৫ একরে নির্মাণ করা হবে লেক। ৩০০ একরে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। নেত্রকোনার হাওর পরিবেশসহ সবুজায়ন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘অত্যন্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন প্রয়োজন, জরুরিভিত্তিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা করা।’

এই এলাকার বাসিন্দা আদব আলী বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু হলেও মাটি ভরাট করতেই কয়েক মাস লেগে যাবে। এরপর অবকাঠামো নির্মাণ করতে চলে যাবে আরো কয়েক বছর। খুব দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ হবার সম্ভাবনা কম।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. রফিকউল্লাহ খান বলেন, ‘মাত্র এক বছর হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যলয়ের নতুন করে অবকাঠামো নির্মাণ করে কাজ চালাতে দীর্ঘসময়ের প্রয়োজন। প্রথম প্রথম যে কোনো প্রতিষ্ঠান শুরু করলে একটু তো সমস্যা থাকবেই। প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যেই ক্লাস শুরু করা গেছে, এটা কিন্তু কম কথা নয়। এখন এর ধারাবাহিকতা থাকবে এবং প্রতিবছর পাঠ্যক্রমে কোনো না কোনো ‘নতুন বিষয়’ অন্তর্ভুক্ত হবে। এবার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু বেকার বানানোর জন্য গতানুগতিক লেখাপড়া করানো হবে না। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে যাতে চাকরি পেতে পারে এমন বিষয় নিয়েই পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। এবার চারটি বিষয়ে ৩০ জন করে ১২০ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তির সুযোগ পাবে। আগামী ১৩, ১৪ এবং ১৫ অক্টোবর নতুন ভর্তি পরীক্ষা হবে।’

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, ‘জমির টাকা পাওয়া যাওয়ার পর এখন জমির মালিকদের টাকা প্রদানের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন