ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬
৩১ °সে


বিভিন্ন স্থানে ইলিশ ধরা চলছে

বিভিন্ন স্থানে ইলিশ ধরা চলছে
মনপুরা (ভোলা) :নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরায় কারেন্ট জাল পুড়িয়ে দেয় প্রশাসন —ইত্তেফাক

৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা

ইত্তেফাক ডেস্ক

প্রজনন মৌসুম ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে অবাধে ইলিশ শিকার করা হচ্ছে। ইলিশ ধরার অপরাধে গতকাল বুধবার প্রশাসন জেলেদের কারাদণ্ড ও কারেন্ট জাল পুড়িয়ে দিয়েছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

বাগেরহাটে ৫ হাজার মিটার জালে আগুন

বাগেরহাট:বাগেরহাটে নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে শরণখোলা উপজেলা প্রশাসন বলেশ্বর নদীতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ হাজার মিটার জাল আটক করেছে। আটককৃত জাল গতকাল দুপুরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী অসাধু জেলেদের আটক করা যায়নি।

শরণখোলার জ্যেষ্ঠ মত্স্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিনের নেতৃত্বে রাত ১২টার পর থেকেই অভিযান শুরু হয়। ভোর পাঁচটা পর্যন্ত নিষিদ্ধ কান্টেজালসহ বিভিন্ন প্রকারের পাঁচ হাজার মিটার জাল আটক করা হয়।

সুজানগরে পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকার

সুজানগর (পাবনা) :ইলিশের চলতি প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে গতকাল বুধবার নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনই পাবনার সুজানগর সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার করা হয়েছে বলে পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা জানিয়েছেন। পদ্মা নদীর চরভবানীপুর, চরসুজানগর, নিশ্চিন্তপুর, সাতবাড়ীয়া, শ্যামনগর, ভাটপাড়া, গুপিনপুর, মাছপাড়া, মালিফা, মালফিয়া, মহব্বতপুর, কামারহাট, গোয়ারিয়া, নাজিরগঞ্জ এবং হাসামপুরসহ অর্ধশত পয়েন্ট থেকে ইলিশ মাছ শিকার করেন।

নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ডিসির কঠোর হুঁশিয়ারি

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) :প্রজনন মৌসুম ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও যমুনায় মাছের প্রাচুর্যতায় সিরাজগঞ্জের পাঁচটি উপজেলাসহ চৌহালী-এনায়েতপুরের জেলেরা বসে নেই। রূপালি শস্য ইলিশের এই এলাকাটি উত্তরবঙ্গের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র হওয়ায় অন্য বছরের চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ নতুন জাল ও নৌকা তৈরি করে মাছ ধরছে জেলেরা। অভিযোগ উঠেছে এজন্য জেলেদের কৌশলে সুবিধা দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে থানা পুলিশ ও মত্স্য অফিসের অসাধু কর্মচারীরা। তাই প্রথমদিনেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে মা ইলিশ নিধন। তবে ইলিশ প্রজননের মৌসুমে কোনোভাবেই অতীতের মতো কাউকে শিকার করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে অসত্ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদ।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদ জানান, উত্তরবঙ্গের ইলিশের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র সিরাজগঞ্জের কোথাও মা ইলিশ ধরতে দেওয়া হবে না। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হবে।

কালকিনিতে প্রকাশ্যে মা ইলিশ বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ী আটক

কালকিনি (মাদারীপুর) :৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনব্যাপী কোনো প্রকার ইলিশ ধরা বা বিক্রি সম্পূর্ণরূপে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন সরকার। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে মাদারীপুরের কালকিনিতে প্রকাশ্যে বাজারে মা ইলিশ বিক্রিকালে স্বপন দাশ নামের এক মাছ ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

ভোলায় পাঁচ জেলের কারাদণ্ড

ভোলা দক্ষিণ :ভোলায় মা-ইলিশ রক্ষা অভিযানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা-তেতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকারের দায়ে পাঁচ জেলেকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মেঘনা নদীর ভোলার খাল এলাকায় নৌ-পুলিশ ও মত্স্য বিভাগের যৌথ অভিযানে এদের আটক করা হয়। বুধবার সকালে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামাল হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এদের প্রত্যেক এক বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মো. সিরাজ মাঝি, মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার, মো. দুলাল হাওলাদার, মো. হান্নান মোল্লা ও মো. আব্দুর রহিম।

৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ

মনপুরা (ভোলা):মনপুরার মেঘনায় অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকারের অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মত্স্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশির আহমেদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত সকল জাল আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন