ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৭
১৫ °সে

বর্ষতাড়িত রাত্রির ক্বাসিদা

বর্ষতাড়িত রাত্রির ক্বাসিদা

আষাঢ়ে ব্যাঙ ডাকছে সম্মিলিত কোরাসের ঢঙে।

নির্জন রাত্রি। কোথাও একফোঁটা বৃষ্টি নেই,

নেই মেঘেদের গুরুগুরু...! শুক্লাতিথির চাঁদ হেলেদুলে

পাড়ি দিচ্ছে অথই আকাশজোড়া উঁচু-নিচু মেঘের তরঙ্গ—

আহ্ কী কল্পনাপ্রবণ মেঘ! একজোড়া চোখ অনন্ত আকাশ

আর বর্ষাকালীন জোছনাখচিত মেঘ প্লাবনের মত্ততায় হূদয় ভাসায়...

কালো মেঘ শাদা মেঘ, গোধূলিরঙিন মেঘও যাচ্ছে ভেসে

সেই কল্পনাপ্রবণ মেঘের ভেতর দিয়ে। আমার একান্ত

নির্জনতা নিয়ে বর্ষাতাড়িত রাত্রি কী আশ্চর্য কল্পনার!

মেঘলা হিমহিম ঠাণ্ডা বাতাস বইছে ওই রুপালি চাঁদের

জোছনা ছুঁয়ে, শুভ্র ওড়না ছুঁয়ে মেঘ ছুঁয়ে ছুঁয়ে...

আষাঢ় রাত্রির এই কুহক শব্দমালা, এই কল্পিত কোলাজ দৃশ্যাবলি

আশা ও আনন্দে টলোমলো।

২.

এই ঘন ঘুটঘুটে রাত্রির অন্ধকার চিরে বিদ্যুল্লতার মতো

অফুরান তীব্র আলোর ঝিল্লি—চমকে উঠছে মেঘের গর্জনে,

বর্ষা নেমে আসছে যেন লক্ষ লক্ষ বল্লমের ঝংকৃত বিকট

উল্লাসধ্বনি দিয়ে, যেন ধু-ধু দিগন্ত বিস্তৃত গাজীচরে

এসেছে সহস্র লাঠিয়াল সুড়কি-বল্লম উঁচিয়ে সোনালি

আমনশস্য কেড়ে নিতে। মেঘের গর্জনে নেমে আসছে রাত্রি চিরে

চৈতন্যের চরাচরে লক্ষ লক্ষ বৃষ্টির রুপালি বল্লম, এই গভীর

রহস্যময় বৃষ্টিবিদ্ধ রাত্রির নির্জনে আতঙ্কিত চরাচর। শুধু আমি একা

উল্লাসে মুখর বৃষ্টির নির্জন ছন্দে শুনে যাচ্ছি সমস্বরে বেজেওঠা

একঝাঁক উদ্দাম গিটার। বৃষ্টির ঝাপটার মধ্যে হুহু বাতাসের সুরে

যেন ঝরে পড়ে বেহালার করুণ বেহাগ, তবু বেদনা পারেনি ছুঁতে।

লাবণ্যময়ী এক অপ্সরী যেন সম্মোহনে এই বাদলরাত্রির দরজা খুলে

নেমে এল নাচের মুদ্রায়, আমি আশ্চর্য আনন্দ-ছন্দে নৃত্যরত তারই সঙ্গে

মাঝেমাঝে মিশে যাচ্ছি তার আত্মা ও শরীরে—গভীর গভীরতম

ধ্যানমগ্নতার মেঘলোকে, বৃষ্টির মুখর ছন্দে ডুবে গেছে আমার নিজস্ব চরাচর

ঘুমাও নিজস্ব নারী নিভৃতে ঘুমাও এই নিম্নচাপ কবলিত তীব্র দগ্ধরাতে, আমি চলে

যাচ্ছি ঘর ছেড়ে সম্পূর্ণ অচেনালোকে রহস্যের গভীর অতলে, দূরে

যেখানে দহন তাপ সব ধুয়ে দিচ্ছে এক আশ্চর্য বর্ষণ।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন