ঢাকা সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
৩০ °সে

গল্প

অসময়ের বন্দনা

অসময়ের বন্দনা

আজ থেকে সত্তর বছর আগের কিছু দিন। সেই সময় কিছু আপনজনের কথা মনে পড়ে, তেমনই কিছু কথা মনে পড়ে গেল। শিউলির বড় ফুপুর খুব অসুখ। চলাফেরা করতে পারে না। বয়স খুব বেশি না। কিন্তু অসুখের ভারে বেশি বৃদ্ধ হয়েছেন তিনি। মায়ের কাছে ফুপুর হাজার গল্প শুনেছি। শুধু মা কেন, গ্রামের বাড়ি গেলে, পাশের ঘরের দাদী, চাচী, সম্পর্কে বড় বোন হয় এমন অনেকেই এত সব দুঃখের কথা বলত, যা শুনে শিউলির মনে হয় এই পৃথিবীতে শিউলির ফুপুর মতো দুঃখী আর কেউ নেই। এত দুঃখ, এত যন্ত্রণা, এত অপমান, এত না পাওয়া এক জীবনে সয়ে যাওয়া যায়। সব আমার বড় ফুপু সয়ে গেছেন, যাচ্ছেন। ফুপুর জন্য শিউলির সবসময় অন্যরকম শ্রদ্ধাবোধ কাজ করত। আজ সকালে রহিম ভাই শিউলির মাকে জানিয়েছেন। নূরবান বুবু খুব অসুস্থ। আমাদের কথা বলছেন, সময় নিয়ে আমরা যেন তাকে দেখতে যাই।

রহিম ভাই দীর্ঘদিন আমাদের গ্রামের বাড়ি থাকেন। রহিম ভাইয়ের বাবাও নাকি আমাদের বাড়ি কাজ করতেন। আমাদের গ্রামের বাড়ি ফোনের নেটওয়ার্ক থাকে না। নেটওয়ার্ক পেতে ঘরের বাইরে বের হতে হয়, বা বাজারে যেতে হয়, বাজার অনেক দূরে। বাজারের আশেপাশে হয়তো কোথাও টাওয়ার আছে। বড় ফুপু বলেছেন তার যখন ৫ বছর তখন তার বিয়ে হয়েছিল পাশের গ্রামের লালু মহাজনের বড় ছেলের সঙ্গে। লালু মহাজন খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি ছিলেন দানশীল। তার টাকায় গ্রামের মানুষের অনেক উপকার হয়েছে। অনেক নিঃস্ব মানুষ, তার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। লালু মহাজন কারো কাছ থেকে টাকা নিলে সুদ দিতে হতো না। খুব মেজাজি মানুষ ছিলেন তিনি, তাই তার টাকা যথা সময়ে মানুষ ফেরত দিতেন। লালু মহাজন আসল টাকা নিতেন। এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যা লাভ করত সেই লাভের একটা অংশ তিনি নিতেন। তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে মানুষেরা নানানরকমের ব্যবসা করত। কেউ কাঠের ব্যবসা, কেউ ধানের ব্যবসা, কেউ মাছের, তরকারি, অনেক মজুতদারও তার কাছ থেকে টাকা নিত। এরমধ্যে কোনো ব্যবসায়ী যদি বলত তার ব্যবসায় লোকসান হয়েছে তাহলে তার কাছ তিনি লাভের টাকার অংশ আর নিতেন না। অনেক ক্ষেত্রে আসলও মাফ করে দিতেন। একবার যারা টাকা লোকসানের কথা বলতেন, তাদের দ্বিতীয়বার টাকা দিতেন না লালু মহাজন। এখনো গরিবের প্রতি তার দান, তার ভালোবাসার কথা মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এখনো মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি হজে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। তখন এত যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো ছিল না। সংবাদ মাধ্যম ছিল না। তিনি হজে গিয়েছিলেন জাহাজে। কেউ তার নির্দিষ্ট খবর গ্রামে পৌঁছাতে পারেননি। মূলকথা তিনি হজে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। লালু মহাজনের ইচ্ছে অনুযায়ী হজে যাবার পূর্বে তার বড় ছেলে মা মরা সন্তানকে বিয়ে করাবেন। ছেলে হাফিজ। বয়স বিশ বছর। এই ছেলের জন্য মেয়ে ঠিক হলো। আমার বড় ফুপু। যার বয়স ৫ বছর। গ্রামের মানুষ আত্মীয়স্বজন সবাই মহাখুশি। লালুুুু মহাজনের বড় ছেলের সঙ্গে মতি মাতুব্বরের বড় মেয়ের বিয়ে। এমন ভালো সমন্ধ আর হয় না। কার কত বয়স সেদিকে কারো কোনো খেয়াল নেই। তখনকার দিনে এত অল্পবয়সে মেয়েদের বিয়ে হতো। যা মনে হলে এখন গায়ে কাঁটা দেয়। লালু মহাজনের মতো ভালো লোকের ছেলের সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিয়ে দাদাজানও মহাখুশি। বিয়ের পর মেয়ে শাড়ি পরে পালকিতে উঠবে না। এত ছোট, আদরের মেয়ে, শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছে। শিউলির দাদী মেয়েকে বিয়ে দিয়ে, অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। এরপর থেকে তার বুকে ব্যথার অসুখটার শুরু। তবুও স্বামীকে মুখ ফুটে বলতে পারেননি। এত ছোট মেয়ে বিয়ে দেবেন না। একটা মতামত জানানোর মতো সাহস তার ছিল না। শিউলির দাদা গ্রামের সালিশ-বিচার নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। দাদীর মনের কথা বা সংসারের খবর, এগুলো যা জানতেন—রাতে সবাই একসঙ্গে খাবার খেতেন, তখন যেটুকু কথাবার্তা হতো তার ভিতর সব আলোচনা হতো, কার কোন প্রয়োজন বা কার কোন সমস্যা। তিনি ভীষণ রাশভারী লোক ছিলেন, বেশি কথা শোনা বা বলা কোনোটাই পছন্দ করতেন না। বেশি কথা কেউ বলতে গেলে এমনভাবে তাকাতেন যে সকলে ভয় পেতেন। দাদাজানের সেই দৃষ্টিতে যেই হোক, তার ভিতর থেকে আর কথা বের হতো না। দাদাজান অনেক জ্ঞানী লোক ছিলেন। তার পরিবারের অনেক প্রয়োজন, কেউ না বললেও তিনি বুঝতেন। তার বড় মেয়ে নূরবানু যার জন্য হাট থেকে ৩ /৪টা কাপড় একসঙ্গে কিনতেন। খাবার সময় নিজের পাতের মাংসটুকু তুলে দিতেন। সেই মেয়েকে শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়ে তিনি খুব শান্তি পেলেন। স্ত্রীর অজ্ঞান হয়ে পড়া তিনি প্রশ্রয় দিলেন না। তিনি উঠানে দাঁড়িয়ে বললেন, মেয়েকে কী শিক্ষা দিয়েছ? মেয়ে পালকিতে উঠবে না! শ্বশুর কোলে করে বাড়ি নিয়ে গেলেন বউকে। এমন ভাগ্য কজন মেয়ের জীবনে হয়। শ্বশুরের এমন আদর পাওয়া ও যত্নে থাকা বড়ই ভাগ্যের বিষয়।

লালু মহাজনের বড় ছেলে হাফিজ। হাফিজকে রেখে তার মায়ের মৃত্যু হয়। লালু মহাজন আবার বিয়ে করেন। সেখানে তার আরো ২ জন ছেলে সন্তান জন্ম হয়। তাদের একজনের বয়স ১০ বছর, রহিম মিয়া। অন্যজন ৭ বছর সফিক মিয়া । লালু মহাজনের দ্বিতীয় স্ত্রী ভানুবিবি। ভানুবিবির খুব অহংকার। সে বেপারি বাড়ির মেয়ে। কাঁচা টাকার ঝনঝনানি শুনে বড় হয়েছে। প্রথম স্বামীর বয়স তুলনামূলক ছিল অনেক বেশি, শারীরিকভাবে ছিল রোগাক্রান্ত। তাই সে স্বামী মারাও গিয়েছে। সে ঘরে তার কোনো সন্তান নেই। এই দুঃখে ভুলে যেতে সে হাফিজের মা মারা যাবার পর লালু মহাজনের দ্বিতীয় স্ত্রী হয়। আল্লাহ তার বান্দার দুঃখ বুঝে, সব কাজ করে। আমি ভানুবিবি হাফিজের মা, হাফিজের দুঃখ করার সব চেষ্টা করি। আমার এত ভালো মন। যার জন্য আল্লাহ আমার কোলেও এই সন্তান দিয়েছেন। এই কথাগুলো বলছিলেন, তার বাড়িতে আসা হাফিজের বিয়ের মহিলা মেহমান, আত্মীয়স্বজনদের। ভানুবিবি আরো বলছিলেন, তিনি হাফিজকে খুব ভালোবাসেন। হাফিজ এবং তার দুই ছেলে। এই তিন ছেলের মা হতে পারায় তার অনেক শান্তি। লালু মহাজনের বিষয়-আশায়, টাকা-পয়সার প্রতি তার কোনো নজর নেই। পয়সাপাতি তিনি ফিরেও দেখেন না, সহজ-সরল গ্রাম্য মেয়ে মহিলারা মন দিয়ে তার কথা শুনছিল। কেউ ভাবল ভানুবিবি বড় ভালো, কেউ ভাবল, এত ভালো হয় না!

এরমধ্যে ছেলে বউ বাড়ি এল, সবাই বউ বরণে ব্যস্ত হলো। ভানুবিবির মুখ ধুলাধুলা হলো যেন রক্তশূন্য, বিবর্ণ মুখ, লালু মহাজনের কোলে চড়ে ছেলের বউ বাড়ি এল। এ দৃশ্য সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। তার মনে এক অগ্নিগিরির জন্ম হলো। সে রান্নাঘরে মাটির হাঁড়ি ভেঙে ফেলল, কলসের পানি ঠেলে দিল। পিঠা বানানোর গোলায় বেশি করে লবণ ঢেলে দিল। এসব নানা কারণে, নতুন বউকে সরবত খাওয়াতে বেশ দেরি করল। সবাই ডাকাডাকির পরও একটু দেরি করে ঘরে এল সে কিছুক্ষণ চেঁচাল, হাঁড়ি ভেঙেছে পানি পড়ে ঘরময় যেন নদী হলো। অহেতুক নানা বাহানায় নিজেকে ব্যস্ত রাখল। বাড়ির আত্মীয়দের এটা বোঝানোর চেষ্টা করল। এই বউ লক্ষ্মী না। স্পষ্ট ভাষায় সে কথা বলার সাহস বা অবস্থা তার ছিল না। নানা হইচই আনন্দে সবার কাটলেও শিউলির ফুপু রাত ভরে কাঁদতে লাগলেন। ৫ বছরের মেয়ে তার হাউমাউ দাপাদাপি আর থামে না। ছেলের বউকে থামানোর জন্য শ্বশুরকে কতগুলো পুতুল এনে দিতে বলল। এই রাতে গ্রামে পুতুল কোথায় পাবে। বাড়ির এ ঘরে, সে ঘরে খুঁজতে খুঁজতে বৌমা ঘুমিয়ে গেল। পরদিন সকালে বৌমাকে খুঁজে পাওয়া যায় না, বৌমা কোথায় গেল, খুঁজতে খুঁজতে, খবর এল বৌমা তার বাপের বাড়ি, দৌড়ে চলে গেছে। ছোট মানুষ শ্বশুর ভীষণ হাসলেন এবং বিকেলে বৌমার বাপের বাড়ি গিয়ে বললেন। বৌমা কিছুদিন আপনাদের কাছে থাক। আমি পরে এসে নিয়ে যাব। তখন ওই গ্রামে এই রকম নিয়ম ছিল। ছোট মেয়েরা বউ হবার পর, শাশুড়ির সঙ্গে ১০/১২ বছর ঘুমায়। শাশুড়ির সঙ্গে সঙ্গে থেকে ঘর-গৃহস্থালির কাজের শিক্ষা নেয় এরমধ্যে কখনো লুকিয়ে স্বামীর সঙ্গে দেখা হয়, খুব সাবধানে, যেন বড় বা কেউ জেনে না ফেলে। এদিকে ভানুবিবি যখন শুনলেন, তার স্বামী, ছেলের বউকে বাপের বাড়ি রেখে এসেছেন এবং ওখানে কিছুদিন থাকবে। তিনি মনে মনে ভীষণ রেগে গেলেন। রেগে হাফিজের বাবাকে বললেন, মিয়ার বেটা এই কাজ কী করলেন, ঘরের লক্ষ্মী অন্য বাড়ি থাকবে মানুষ কী বলবে! আপনি কালই লক্ষ্মী ঘরে নিয়ে আসেন।

লালু মিয়া বললেন—‘চুপ থাকো। আমি বুঝি আমি কী করব মানুষের কথায় চলি না।’ লালু মহাজনের ওই বছর হজে যাওয়া হলো না। সব কাজ গুছিয়ে উঠতে তার বছর পাঁচেক লেগে গেল, এরমধ্যে তিনি বৌমাকে বাড়ি এনেছেন। আবার দিয়ে এসেছেন। শিউলির ফুপু ধীরে ধীরে শ্বশুর বাড়ি এবং বাড়ির লোকজন চিনলেন। বুঝেছে এখানে তাকে থাকতে হবে। নীরু ফুপু বিয়ের ৫ বছর পর শ্বশুর হজে গেলেন। হজে যাবার পূর্বে বড় ছেলে হাফিজকে সব বোঝালেন, কীভাবে বাণিজ্য করতে হয়, কীভাবে সম্পত্তি রক্ষা করতে হয়। কীভাবে সংসার চালাতে হয়। অবশেষে মা ও দুই ভাইয়ের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে বললেন।

তিনি হজ করতে রওনা হলেন, রওনা হবার সময় ভানুবিবিকে বলেছিলেন ছেলের বউদের মেয়ে মনে করতে।

লালু মহাজন আর কোনোদিন ফিরে আসেননি। ভানুবিবি তার বাড়ির ঝি-চাকরদের বললেন। মিয়ার বৈঠা বাড়ি নেই, বাড়ি কোনো কাজ নেই। মহাজন ফিরলে তোরা আসবি। ততদিন জমির জরিপ শুরু হলো, হাফিজকে যার জন্য প্রায়ই গঞ্জে যেতে হতো। এদিকে ভানুবিবি, ছেলের বউ নূরবানকে দিয়ে সকাল থেকে রাত, রাত থেকে সকাল অবধি কাজ করাত। কাজ করতে গিয়ে কিছু ভেঙে গেলে ভীষণ রাগারাগি করত। একটা মাটির পাত্র ভাঙলেও এমনভাবে বকত, যেন পৃথিবীতে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। হীরার নূরবানুর ভয়ে গলা শুকিয়ে যেত। শিউলির ফুপুর শ্বশুর বাড়ির সামনে নদী ছিল পাশে ডোবা ছিল। একটু চালাক হলে নূরবানু কেউ দেখার আগে ডোবায় বা নদীতে ভাঙা জিনিস ফেলতে পারত। কিন্তু সে কথা শিউলির ফুপুর মাথায় কখনো আসেনি। তিনি শাশুড়ির ভয়ে সেগুলো পাশের ঘরে চাচী শাশুড়ির ঘরে লুকিয়ে রাখতেন। প্রায়ই নূরবানুর সব কাজ সেরে নাওয়া-খাওয়া করতে সন্ধ্যা হতো। দিন শেষে খেতে বসলে, শাশুড়ি বলতেন আমার পানের ডালা দিয়ে যাও। কোনোদিন সুপারি কেটে দাও, কোনোদিন গরম পানি করে দাও। অথবা পাশের ঘরের মনার মাকে তরকারি দিয়ে আসো। খাবার সময় কাজের ফরমাস আসতই। দুই তিন গ্রাস খাবার খেতেই শাশুড়ি এসে বলতেন, তোমার খেতে এতো দেরি লাগে। একদিন এমন চেঁচামেচি করছিল যে হাফিজ গঞ্জে থেকে ফিরে শুনে ফেলে। সে তার মায়ের কাছে জানতে চায় মা কী হয়েছে? ‘নূরবান দেরি করে খায়, তাকে রাগ করে বললাম, দেরি করে খেলে শরীর টিকবে? আমাকে তো সব দেখতে হয়। আচ্ছা বাবা হাফিজ, তুমি ৩০ কোষ দূরে যাও আবার আসো। এতে শরীর বাঁচবে না। ওখানে একটা ভাড়া করো। আমার এক মামাত ভাই থাকে, তাকে বলব তোমার ঘর ঠিক করতে।’

হাফিজ একথায় কিছুই বলে না। তার মাকে বলে, তার বিশ্রাম নেওয়া দরকার। ভানুবিবি তাকে বাইরের ঘরে বিশ্রাম নিতে বললেন। আজ হাফিজের নূরবানুর সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল। তাই মাকে বিশ্রামের কথা বলছিল। কিন্তু মা তা বুঝলেন না। ২ / ৩ দিনের মধ্যে ভানুবিবির মামাত ভাই হারুণ ২টা ঘর ভাড়া করল। এক ঘরে হাফিজ থাকবে, অন্য ঘরে এক বুড়ি ও হারুণের মেয়ে থাকবে। যাতে করে হাফিজের বাড়ির প্রতি ধীরে ধীরে মায়ার বাঁধন কেটে যায়। হাফিজ প্রথমে জানত না। পাশের ঘরে যুবতী মেয়ে এভাবে থাকবে। প্রথম একমাস যুবতীকে সে দেখেনি। একদিন হাফিজের খুব মাথা ব্যথা হচ্ছিল। এরকম মাথা ব্যথা প্রায়ই হয় তার। বুড়ি তাকে ওষুধ দেয়, আজ বুড়ি তাকে মাথা ব্যথার ওষুধ খেতে যে পানি দিল তাতে ঘুমের ওষুধ গুলিয়ে দিল। আর তারপর হারুণ বাইজি ভাড়া করে হাফিজের সেবা করতে ওই রাতে রেখে দিল । ধীরে ধীরে হাফিজ নষ্ট হতে শুরু করল। এখন হাফিজ মাসে কয়েক মুহূর্তের জন্য বাড়ি যায়। কোনো মাসে যায় না। সেই অঞ্চলে নষ্ট মেয়েদের মন চাইলেই পাওয়া যেত না। পাওয়া গেলেও খরচ পড়ত অনেক বেশি। তাই ভানুবিবি আর হারুণ বুদ্ধি করে ঠিক করল, মেয়ে নয়, ছেলেদের রেখে দেখ, হাফিজকে বুড়ি বলবে। মেয়েদের ঘরে রাখলে, মানুষ বাজে কথা বলে। অন্যদিনের মতো আজো হাফিজ মিয়া তার সেবা, তার শরীর চাপার জন্য কাউকে চাইল। আজ মেয়ে বাইজির বদলে ছেলে সহচর নিয়ে থাকতে হলো, ধীরে ধীরে হাফিজ মিয়াকে নেশাগ্রস্ত করা হলো। মানবীয় গুণাবলি নষ্ট করার জন্য। যত নিচে নামতে হয়, ততটা নিচে নামল ভানুবিবি হাফিজ মিয়ার বাড়ি আসার সময় ঘনিয়ে আসলে ভানুবিবি নিজে চলে যেত ছেলের কাছে। বাড়ি থেকে নানা খাবার নিত ছেলের জন্য। বলত ‘বাবা তোমাকে না দেখে থাকতে পারি না তাই আসলাম। তুমি আগামী মাসে সময় করে একবার বাড়ি এসো। আর ওই মাসে মহাকুমায় যেতে হবে। উত্তর পাড়ার বড় জমিতে মামলা করেছে মনু পারী। জমির ‘পরচা’ দলিল, আর যে সমস্ত কাগজ লাগে সব নিয়ে তুমি একজন বড় উকিলের কাছে যাবা। তুমি সংসারের বড়। সব তোমাকে দায়িত্ব নিয়ে সামলে রাখতে হবে। তোমার বাবা সব দায়িত্ব তোমাকে বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। আর ফিরে আসলেন না। এখন কত জ্বালা তোমার। এসব কথা বলে ভানুবিবি একটু কাঁদলেন। হাফিজ মিয়া বিনয়ের সঙ্গে বললেন। ‘আম্মা আপনি কাঁদবেন না। আমি আমার চেষ্টা দিয়ে সাধ্যানুযায়ী সব রক্ষা করব। সব দায়িত্ব পালন করব ইনশাল্লাহ্।’ ভানুবিবি আহ্লাদে গদগদ হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, ‘বাবা হাফিজ তোমার ভাইদের বিয়ে ঠিক করেছি, তোমার আব্বা নিখোঁজ তোমার ওপর সব ঝামেলা। ঝামেলার জন্য বাড়িঘরেও থাকতে পারো না। গঞ্জে এসে থাকতে হয়। সব ভেবে ঠিক করলাম দুইবার কোনো খরচ করব না। একবার এক খরচে বিয়ের সব কাজ সারব। যে দুই বাড়ি বিয়ে করাচ্ছি তোমার দুই ভাইয়ের এবং তোমারও পছন্দ হবে। হাফিজ মিয়া মায়ের কথা থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘আম্মা আপনার মতের বাইরে আমার কোনো মত নেই। আপনার কথাই শেষ কথা। ভানুবিবি কথা অনুযায়ী ছেলেদের বিয়ে করিয়ে বউ বাড়ি নিয়ে এলেন। ভানুবিবির বড় ছেলে রহিমের বউ আয়তন বিবির বয়স ১৩ বছর। ছোট ছেলে সফিকের বউ রওশনের বয়স ১০ বছর। ভানুবিবির খুব ইচ্ছা তার ছেলের বউদের পালকি থেকে নামার পর হাফিজ মিয়া তার ছোট দুই ভাইয়ের বউদের হাত ধরে ঘরে তুলবে। তাদের শ্বশুর নেই। হাফিজই তাদের বড় দাদা বা শ্বশুরের স্থানে থাকবে। এদিকে বেচারি নূরবানু শাশুড়ির আদেশ মেনে চলেন। সংসারের ঝামেলা, যেমন দক্ষিণাঞ্চলে বারো মাসে তের রকম ফসল ওঠে, সেগুলো সামলানো, ফসল ঘরে তোলা, গরুর ঘর পরিষ্কার করা, রান্না করা, উঠান পরিষ্কার করা, উঠানে গোবর দেওয়া ইত্যাদি ছোটখাটো আরো ফরমাশ খাটা। এসব কাজের জন্য আগে লোক ছিল। কিন্তু নূরবানু আসার পর মাঠের কাজের লোক ছাড়া, বাড়ির কাজের লোক সব ছাড়িয়ে দিয়েছে ভানুবিবি এবং ভানুবিবি সবসময় নূরবানুকে বলে, ধূয়ো কপালী, পোড়া কপালী। সংসারের যত অবনতি, অনিষ্ট সব নূরবানুর জন্য। এই দুশমন ঘরে আসার পর আমার স্বামীও হজে গিয়ে হারিয়ে গেল। এখন সংসারে আয় কম, এত কাজের লোক রাখা যাবে না। এই বউয়ের জন্য আমার হাফিজ মিয়াও শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। তার এখন বাড়িঘরে কোনো মন নাই, গঞ্জে পড়ে থাকে। এই ধরনের বকাঝকা দিত। ভানুবিবি মুখে কোনো আঠাকষা ছিল না। অনবরত বলতেই থাকত। তাই তার দুই ছেলের বিয়েতে কত আত্মীয়স্বজন সে কথা তার মনে ছিল না। সামান্য ক্রটিতে আগের মতোই গালমন্দ চালিয়ে যাচ্ছিল। ঘটনাচক্রে নূরবানুর ছোট ভাইয়ের সামনেই যা ঘটে গেল, তারপর নূরবানুর পোশাক, চেহারা এত মলিন ছিল, যা ছোট ভাইয়ের মনে দাগ কাটল। সে দেখল তার বোন জামাই, অন্দরে ঢোকেই না, কাচারিঘরেই রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করে দিল এবং হাফিজ মিয়া কাচারিতে মনে হলো সবসময় থাকেন। তার বোনের সঙ্গে একটি কথাও বলতে দেখল না বিবাহের অনুষ্ঠানে। বাড়ি ফিরে গিয়ে নূরবানুর ছোট ভাই তার মাকে সব খুলে বলল। মা শুনে খুব কাঁদলেন এবং বললেন, কতবার নূরবানুকে আনতে তোমার মিয়া ভাই গিয়েছেন। কিন্তু তোমার মাউই মা, তোমার মিয়া ভাইকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। বলছেন, হাফিজ মিয়া বাড়ি নেই। গঞ্জে গিয়েছেন, সংসারে অনেক বিপদ দেখা দিয়েছে। তার শরীর একদিনও ভালো থাকে না। এমন অবস্থায় ছেলের বউকে পাঠাবে কী করে? তিনি যা বলছেন, তোমার মিয়া ভাই তাই বিশ্বাস করে, বাড়ি ফিরে আসছে। কালই তোমার মিয়া ভাইকে হাফিজ মিয়ার বাড়ি পাঠাব। হাফিজ মিয়া এখন বাড়ি আছেন, দেখি এখন মেয়ে আটকাই কীভাবে। পরদিন সকাল সকাল বোনকে আনতে হাফিজ মিয়ার বাড়ি গেল নূরবানুর ছোট ভাই রতন মিয়া। গিয়ে বলল, মাউই মা আমার মায়ের খুব শরীর খারাপ বুবুকে দেখতে চায়। বুবু আর দুলাভাইকে নিতে আসছি। বাড়িতে তখনো কিছু আত্মীয় ছিল। এই খবরে আর না করতে পারেনি। শুধু বলল বুবুকে নিয়ে যাও। আবার দিয়ে যেও, হাফিজ মিয়া এখন যেতে পারবে না। তার আজই গঞ্জে যেতে হবে। জমির মামলা আছে তার কিছু কাগজ তুলতে হবে। হাফিজ মিয়া মায়ের মুখের ওপর বলতে পারল না দুদিন পরে গেলেও চলবে। মায়ের অনুমতি থাকলে সে শাশুড়িকে দেখতে যেতে পারত কিন্তু মায়ের কথার ওপর আর কিছু বলতে পারেনি। এই প্রথম হাফিজ মিয়ার স্ত্রীর জন্য কেমন যেন একটা টান অনুভব করছিল। মদ, নারী, বেটাছেলের আপ্যায়নে ভুলেই গিয়েছিল ঘরে স্ত্রী আছে। এতদিনে নূরবানু সৌভাগ্য হলো বাপের বাড়ি যাবার। নূরবানু বাপের বাড়ি পৌঁছানের পর—তার মা, ফুপু, চাচী, হাউমাউ করে কাঁদলভ বলল— একী চেহারা করেছিস! নূরবানুর নূরের মতো চেহারা ছিল। যার মুখ দেখে ওর দাদা নাম রেখেছিল নূরবানু। সেই নূর এখন কামলা বেটির মতো কালো একখান কয়লা হয়ে গেছে। নূরের মা বলল, ‘রতন মিয়া, আজ তোমার বাবা নাই বলে, তোমার বুবুর এমন কষ্টের জীবন হবে!’ ‘মা তুমি চিন্তা করো না, দুলাভাই আসবে। এত ঘটনার কী উত্তর দেয় সব শোন, তারপর তোমার যদি মনে হয় বুবুর ঐ বাড়ি যাওয়া দরকার, তবে যাবে নয়তো যাবে না।’ সাতদিন পর হাফিজ মিয়াকে গঞ্জে আনতে যাওয়া হলো। আনতে গেল নূরবানুর ছোট মামা ও ভাই রতন। তারা হাফিজ মিয়াকে আনতে গিয়ে বুঝতে পারল কেনো নূরবানুর জীবনে এত মলিনতা। হাফিজ মিয়া মুরব্বিদের খুব ভক্তি করেন। মামা শ্বশুর আনতে গিয়েছেন। তাকে না বলতে পারেননি, আর এখানে ভানুবিবি। ও নাই, যে কিনা, সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য নতুন নতুন নাটক সাজান। সে যাই হোক। হাফিজ মিয়া দীর্ঘ আট বছর পর শ্বশুর বাড়ি গেলেন। ঘরের মধ্যে যখন স্ত্রীকে দেখলেন, তার মনটা ভরে গেল, মনে হলো এতদিন এই স্ত্রী কোথায় ছিল। মা তো কোনোদিন এই স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে সুযোগ দেননি। সে যে সুস্থ মানুষ, পৃথিবী এত সুন্দর তা অনুভব করলেন। এভাবে সুখে শ্বশুর বাড়ি তার পাঁচদিন কেটে গেল। ছয়দিন শুরু হতেই রহিম এসে উপস্থিত, ‘মিয়া ভাই, মা আজই তোমাদের বাড়ি যেতে বলছেন, তার শরীর ভালো নাই। এ খবর শুনেই হাফিজ মিয়া ব্যস্ত হয়ে উঠল বাড়ি যাবার জন্য। বাড়ি যাবার কথা হাফিজ মিয়া শাশুড়িকে বললেন। শাশুড়ি বললেন, ‘তুমি যাও বাবা, আমার একমাত্র মেয়েও বাড়ি গেলে ভানুবিবি ওকে আগাম কয়লা বানাবে। হাফিজ মিয়া তখন বলল, ‘কী হলে আপনি বিশ্বাস করবেন, সে এখন থেকে ভালো থাকবে।’ নূরবানুর মা বলল, ‘বাবা জামাই শুনতে খারাপ হলেও, আমি বলতে বাধ্য হয়েছি। ভানুবিবির দুই ছেলের বউ হয়েছে তারা ভানুবিবিকে দেখতে পারবে। আমার মেয়ের জীবন নিয়ে সে আর খেলতে পারবে না। তোমার বাবাকে দেখে নূরের বাপ তোমার হাতে নূরকে তুলে দিছিল। তোমার আব্বা নাই নূরেরও কোনো যত্ন নাই। আমার বাড়ির কাজের মেয়ের চেয়েও নূরের কপাল মন্দ। তুমি যদি নূরবানুকে আলাদা সংসার দিতে পারো তাহলে নিয়ে যাও। আর বছরে ২ বার আমার বাড়ি তোমরা বেড়াতে আসবা।’ রহিম সব শুনে ভাবল তাই তো তার মা অনেক অবিচার করছে। তার ভাবীর ওপর। তাছাড়া তার মা-র অনেক বদনামও রটে গেছে। তার মায়ের কাজ এবং অন্যায় কাজ, যার একটির প্রতিবাদ করার মুখ তার ছিল না। এ জন্য হাফিজ কথা বলার আগেই রহিম বলল, ‘মাউই মা মিয়া ভাই, আপনার কথামতো, ভাবীজানকে নিয়ে আলাদা সংসার করবে। আমি আপনাকে কথা দিলাম।’ আত্মীয় বাড়ির লোকেরা যে কথায় খুশি হয় তাই বলে—ভাই-ভাবীকে নিয়ে বাড়ি এল এবং মাকে বলল, ‘ভাবীকে তার নিজের ঘর-সংসার বুঝিয়ে দাও।’ ভানুবিবি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল, কিন্তু রহিম অনড় তাই তার মা বাধ্য হলো নূরবানুকে আলাদা ঘর-সংসার বুঝিয়ে দিতে। আলাদা ঘর-সংসার ঠিকই হলো, কিন্তু সেখানে অনেক সীমাবদ্ধতা। সংসারের সমস্ত জিনিস থাকত ভানুবিবির কাছে। সেখান থেকে এক বেলায় খেতে যা লাগবে তাই দেওয়া হতো নূরবানুর হাতে। হাফিজ মিয়াকে বাড়ি মাত্র ১ দিন থাকতে দিত। এমন কাজের চাপ তৈরি করত। তাকে যেতে বাধ্য হতে হতো । আর সেখানে গেলে মদ, নারী, ছেলেমানুষ, যাকে যখন দরকার ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে থাকলে—হঠাত্ একদিন ভানুবিবি মারা গেল। ভানুবিবি মারা গেলে কী হবে, এতদিনে দুই ছেলের বউকে বোঝাতে পেরেছেন। ভাসুরকে কীভাবে হাত করতে হবে। ভাসুরের যদি সংসারের প্রতি মন চলে যায়, তাহলে ভাসুরের সম্পত্তি তারা পাবে। তাই গঞ্জ থেকে যখন বাড়ি আসত সে বাজার ছোট ভাইয়ের বউরা ঘরে নিয়ে যেত, তারপর সেখান থেকে এক বেলা খেতে পারে একজন মানুষ এমন একটু সদাই চাল এক পোয়া/সামান্য মাছ, নূরবানুর ঘরে পাঠাত। আর এই দুই বউ দ্রুত রান্না করে, তিন ভাইকে একসঙ্গে খাবার খেতে দিত। বলত এ বেলা মিয়া ভাই তোমাদের সঙ্গে খাবে, পরে তো ঘরে খাবে। খাওয়ার মধ্যে কোনো এক ফাঁকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিত। এই কৌশল সবই রপ্ত করেছে তাদের শাশুড়ি ভানুবিবির কাছ থেকে। প্রথম দিকে নূরবান মনে করত ওরা দাবি করে ওদের ভাইকে নিয়ে গেছে। আমি পরের মেয়ে তাই আমাকে খাবার দিতে ডাকেনি। তারপর যখন দেখল, তাকে খাবার দেয় চুনোপুঁটি তারা খায় বড় বড় মাছ-মাংস। খাবার খেয়ে স্বামী তার ঘরে আসতে পারে না ওখানেই ঘুমিয়ে পড়ে। এভাবে একদিন-দুদিন, এভাবে ৩৬৫ দিন চলে গেল। তাকে সামান্য খাবার দেয়। সে কথা কাউকে বলতে পারেনি। দুই ঈদে দুইখান কাপড় দিত। প্রথমে শাশুড়ি পরে ছোট জারা। সে কথা বলেনি, মনে করত এত ছোট কথা মানুষকে বলা যায় না। এই মনে হয় তার ভাগ্যে ছিল। না হলে স্বামীর কাছ থেকে একটা সন্তান পাবার অধিকারও তার হলো না।

একদিন খানিকটা বেলা হলে, নূরবানুর দুই জা এল। বলল— ‘ভাবীজান। আমাদের ঘরে আসেন। দেখে যান ভাইজান কেমনভাবে ঘুমিয়ে আছে। আপনার দেবররা তো বড় মাঠে গেছে কিষাণদের কাজ দেখতে। মিয়াভাই রাতে অনেক খাওয়া-দাওয়া করেছে। কত বেলা হলো, এখনো তো উঠছে না। সকালে শহরে যাবার কথা বলছিলেন। আপনি একটু ডাকুন। নূরবানু লজ্জা, জড়তা, অভিমান নিয়ে ডাক দিলেন। কিন্তু সে ডাকে আর কোনোদিন তার স্বামী উঠবে না। অতি মাত্রায় মদ-ঘুমের ওষুধ সেবনে, অকালে সব ছেড়ে চলে গেছেন পরলোকে। তারপর নিয়মানুযায়ী সব হলো। সব কাজ শেষে যখন আত্মীয়রা চলে যাচ্ছিল তখন নূরবানুর দুই জা বলল, ‘ভাবীজান এখন থাকবে কোথায়। নূরবানুর ভাই রতন মিয়া বলল, ‘হাফিজ মিয়া তো কিছুই রেখে যায়নি।’ আয়তন বিবি কাপড়ে মুখ ঢেকে বলল, ‘মিয়াভাই আমাদের শাশুড়ি মা থাকতে তার সব সম্পত্তি তার দুই ভাইকে লিখে দিয়েছেন। আমরা এ বাড়ি আসছি পনেরো বছর। আর সব লিখে দিয়েছেন ষোলো-সতেরো বছর আগে। আপনারা এর কিছু জানেন না, তা তো আমরা জানি না। ভাবীজানের এ বাড়িতে কিছু নেই, ভাইজান ছিল আমরা দেখছি। এখন আমাদেরও বয়স হয়েছে, কে কাকে দেখে বলেন, আমরা আর দায়িত্ব নিতে পারব না।’ নূরবানু পর্দার বাইরে বেরিয়ে এসে বললেন, ‘আমার কোনোদিন কিছু ছিল না। স্বামীর মায়ায় পড়েছিলাম। তিনি নেই আমিও মুক্তি দিলাম। মুক্ত হলাম।’ নূরবানুর চাচা বললেন, ‘বুঝলিরে ফেলি, বুঝলি দিন গেলি।’ সেই থেকে নূরবানুর অবস্থান তার বাপের বাড়ি। বিয়ের প্রস্তাব এসেছে, কিন্তু বিয়ে আর সে করবে না। শিউলির অনেক গর্ব তার এই ফুপুকে নিয়ে। সঙ্গে সঙ্গে শিউলি স্বপ্ন দেখে। লেখাপড়া শেষ করে অধিকারবঞ্চিত নারীর পাশে দাঁড়াবে। নারীর অধিকার কতটুকু সংসারে সেই বার্তা পৌঁছে দেবার দৃঢ় প্রত্যয় শিউলির । v

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৫ মে, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন