ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
২৫ °সে


দুই মিনিটেই সাফল্যগাথা!

দুই মিনিটেই সাফল্যগাথা!

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিনডা এডার্নকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ চিনিয়াছিল এই বত্সর ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে মরণঘাতী হামলার পর। ঐ হামলায় ৫১ জন মানুষ তাত্ক্ষণিক প্রাণ হারান এবং ৪৯ জন গুরুতর আহত হন। জেসিনডা ঝাঁপাইয়া পড়েন মুসলমান সম্প্রদায়ের পক্ষে। মুসলিম ঐতিহ্যের পোশাক পরিধান করিয়া তিনি মুসলমান কমিউনিটির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করিয়াছেন, আবেগময় বক্তব্য দিয়াছেন এবং সেই আক্রমণে নিরাপত্তা সংস্থার দায়িত্ব বিষয়ে রয়াল কমিশন তদন্ত গঠন করিয়াছেন। সরকারের এক্সিডেন্ট কমপেনসেশন করপোরেশনের তহবিল হইতে আহত-নিহতদের সন্তোষজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হইয়াছে। সর্বোপরি মুসলিম বিশ্ব তাহার ভূমিকায় যাহার পর নাই সন্তোষ প্রকাশ করিয়াছে। শুরু হইতেই এই নারী প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা নিউজিল্যান্ড এবং বহির্বিশ্বে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইয়াছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী তাহার জনপ্রিয়তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়াছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেওয়া দুই মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশের মধ্য দিয়া। ২৬ অক্টোবর তিনি সরকার গঠনের দুই বত্সর পার করিয়াছেন। সেই উপলক্ষ্যে তিনি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করিয়াছেন। মাত্র দুই মিনিটের এই বক্তব্যে তিনি তুলিয়া ধরিয়াছেন ক্ষমতা গ্রহণ করিয়া কী কী করিতে পারিয়াছেন তাহার ফিরিস্তি। ভিডিওতে বলিয়াছেন, দুই বত্সরে ৯২ হাজার নতুন চাকরির পদ সষ্টি করিয়াছেন, সেমি অটোমেটিক রাইফেলের লাইসেন্স নিষিদ্ধ করিয়াছেন (ক্রাইস্টচার্চ হামলার পর), ন্যূনতম মজুরির হার বাড়াইয়াছেন, সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক (যাহা একবার ব্যবহার করিয়া ফেলিয়া দিতে হয়) নিষিদ্ধ করিয়াছেন, ১৪ কোটি নতুন গাছ রোপণ করিয়াছেন, সব ধরনের স্কুলে বিনা খরচে দুপুরের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করিয়াছেন এবং কার্বন নিঃসারণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নামাইয়া আনিয়াছেন। উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী অথবা কোনো রাজনীতিবিদের জনসম্মুখে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করিবার সুযোগ নাই, যাহা আমরা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে দেখিয়া থাকি।

তাহার এই ভিডিওটি বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ২৩ লক্ষ মানুষ দেখিয়া লাইক দিয়াছে, ১৬ হাজার মানুষ মন্তব্য করিয়াছে। ইহা সর্বাধিক ভাইরাল হইয়াছে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও লেবাননে। ভিডিওর নিচে মন্তব্যের বেশির ভাগেই নিজেদের সরকারকে তিরস্কার করিয়া মন্তব্য ছুড়িয়া দেওয়া হইয়াছে। জেসিন্দার এই দুই মিনিটের বক্তব্য বিশ্বব্যাপী প্রমাণ করিয়াছে, সত্যিকার উন্নয়ন করিতে পারিলে তাহা জানাইতে যেমন দুই মিনিটের বেশি সময় লাগে না, তেমনি ঘরের বাহিরে মানুষের অ্যাপ্রেসিয়েশন পাইতেও দেরি হয় না। মাত্র ৪৮ লক্ষ জনসংখ্যার বিশাল দেশে ১৪ কোটি গাছ রোপণ করিয়াছেন নীরবে, তাহা লইয়া কোনো গর্জন ছিল না। এত অল্পসংখ্যক মানুষের দেশে ৯২ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি করাও চাট্টিখানি কথা নহে। কিন্তু তিনি প্রমাণ করিয়াছেন, গর্জন নহে, বর্ষণই একটি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করিতে পারে; জনগণের আস্থা অর্জন নীরব কাজের মধ্য দিয়াই সম্ভব। আমরা নিউজিল্যান্ডের এই প্রধানমন্ত্রীর সাফল্যে সাধুবাদ জানাই।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৪ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন