ঢাকা সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
২৭ °সে

ঔষধের অনাকাঙ্ক্ষিত মূল্যবৃদ্ধি

ঔষধের অনাকাঙ্ক্ষিত মূল্যবৃদ্ধি

বাংলাদেশের ঔষধশিল্প আজ একটি বিকাশ ও অগ্রসরমান শিল্প। একসময় অনেক ঔষধ আমদানি করিতে হইত। এখন বাংলাদেশ বিদেশে ঔষধ রপ্তানিও করে। এতত্সত্ত্বেও দেশে ঔষধের দাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়িতেছে। বিশেষ করিয়া যেইসব ঔষধ উত্পাদনের জন্য কাঁচামাল আমদানি করিতে হয়, সেইসব ঔষধের দাম গত পাঁচ বত্সরে বাড়িয়াছে ৬০ হইতে ৭০ শতাংশ। কোনো কোনো ঔষধের দাম বাড়িয়াছে দ্বিগুণ। অথচ গত পাঁচ বত্সরে অ্যান্টিবায়োটিক, ক্যানসার প্রতিরোধক, ইনসুলিনসহ বিভিন্ন ঔষধ উত্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ২ হাজারের বেশি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কর ছাড় দেওয়া হইয়াছে। ইহার মধ্যে কিছু কাঁচামাল সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত। কিছু কাঁচামালে আবার শুল্ক কমানো হইয়াছে। এই কর অব্যাহতি দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হইল নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জীবন রক্ষাকারী ঔষধ সুলভ করা; কিন্তু বাস্তবে দাম বাড়িতেছে লাফাইয়া লাফাইয়া। ইতোমধ্যে কিছু কাঁচামালের দাম বাড়িয়াছে সত্য, তবে বাজারের ঔষধের দাম যে হারে বাড়িয়াছে তাহা অনেক বেশি। অভিযোগ রহিয়াছে যে রোগীদের যেইসব ঔষধ বেশি প্রয়োজন হয়, সেইসব ঔষধের কৃত্রিম সংকট তৈরি করিয়া দাম বাড়ানো হইতেছে। ফলে এইসব ঔষধের কাঁচামালে শুল্ক ছাড়ের সুবিধা রোগীরা পাইতেছে না। অন্যদিকে সরকার রাজস্ব হারাইতেছে।

এমনিতেই বাংলাদেশে সার্বিক চিকিত্সা ব্যয় বাড়িয়া গিয়াছে। নিজের বা পরিবারের সদস্যদের চিকিত্সা খরচ মিটাইতে গিয়া অনেকে সর্বস্বান্ত হইতেছে। বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকদের নাভিশ্বাস উঠিতেছে। জানা মতে, বর্তমানে অত্যাবশ্যকীয় ও জীবন রক্ষাকারী ১১৭টি ছাড়া বাকি সব ঔষধের মূল্য নির্ধারণ করে দেশি ঔষধ কোম্পানিগুলি। ১৯৯৪ সাল হইতে এই নিয়ম চালু রহিয়াছে। যেইসব ঔষধের কাঁচামাল আমদানি করা হয়, তাহাও যৌক্তিক হারে দাম নির্ধারণ করিয়া দেওয়া যায় কি না, তাহা নিয়া চিন্তা-ভাবনা করা যাইতে পারে। ঔষধশিল্পের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির ভাষ্যমতে, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ঔষধের দাম তুলনামূলকভাবে কম। তাহা ছাড়া কাঁচামাল ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণেও ঔষধের দাম বাড়ানো হইতেছে; কিন্তু যে দাম বাড়ানো হইতেছে, তাহা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ইহা নিয়া প্রশ্ন রহিয়াছে।

ঔষধ সেবনের মাধ্যমে মানুষ অসুখ-বিসুখ হইতে নিরাময় লাভ করিয়া থাকে। অনেক সময় তাহা জীবন রক্ষার কারণও হয়। এমন একটি সেবাধর্মী খাতের পণ্যমূল্য কেন লাগামহীন থাকিবে? যাহারা জীবন রক্ষাকারী ঔষধ নিয়া ছিনিমিনি খেলে, তাহাদের কেন শাস্তি হইবে না? গ্যাস্ট্রিক উপশমে ব্যবহূত ওমিপ্রাজল গ্রুপের যে ঔষধটির উত্পাদন খরচ ৬০ পয়সা, তাহার বিক্রয়মূল্য সাত টাকা হয় কীভাবে? এই বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ও অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি অর্জন করিতে হইলে চিকিত্সাসেবা অবশ্যই জনবান্ধব করিতে হইবে। এইজন্য ঔষধের বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি মূল্য নির্ধারণ কমিটিও গঠন করা যাইতে পারে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন