ঢাকা সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
২৭ °সে

প্রসাধনী তুচ্ছ বিষয় নহে

প্রসাধনী তুচ্ছ বিষয় নহে

অতি প্রাচীনকাল হইতেই মানুষের রহিয়াছে প্রসাধনীর প্রতি বিশেষ আকর্ষণ। নিজের দেহ ও মুখাবয়বকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করিতে যথাসাধ্য চেষ্টা কেবল উচ্চশ্রেণির মানুষেরই নহে, হতদরিদ্রদেরও ছিল। মিশরের বিখ্যাত ফারাও রানি নেফারতিতি গুলগুল, মরিঙ্গা নামক গাছের রস হইতে তৈরি প্রসাধনীর মাধ্যমে নিজের চোখের পাতা এবং ভ্রু সজ্জিত করিতেন। মধ্যপ্রাচ্যে প্রাচীনকাল হইতে এখন পর্যন্ত ব্যবহার হইয়া আসিতেছে সুরমা। প্রাচীনকাল হইতে প্রাক-শিল্প যুগ পর্যন্ত ব্যবহূত হইয়াছে দেশভেদে বিভিন্ন ধরনের খড়িমাটি হইতে তৈরি ত্বকের সৌন্দর্যের ও পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী, যাহা ছিল সাবানের বিকল্প। খ্রিষ্টপূর্ব তিন হাজার বছর পূর্বে চীনে নখের যত্ন ও সৌন্দর্য্যের জন্য ডিমের সহিত বিশেষ গাছের নির্যাস ও ধাতুর গুঁড়া মিশাইয়া তৈরি হইত নেইল পালিশ। এখন আমাদের প্রশ্ন, তখনো কি সেইগুলির নকল কারবারি ছিল? সম্ভবত না। প্রথমত :তখন তৈরি করিবার উপাদানের হয়তো অভাব ছিল না, দ্বিতীয়ত :মানুষ যখন আধুনিক হয় নাই, তখন অসত্ উপায় অবলম্বনেরও অভিনব সব কৌশল জানা ছিল না।

কিন্তু আজ সেই মানুষ প্রযুক্তিতে উন্নত হইয়াছে, রসায়ন শাস্ত্রে চূড়ায় উঠিয়াছে। প্রসাধনীর জন্য দেশে দেশে তৈরি হইয়াছে বিশাল বিশাল কোম্পানি। প্রসাধনীর ব্যবসা ছড়াইয়া পড়িয়াছে পৃথিবীর সর্বত্র। সেই সঙ্গে সমানতালে তৈরি হইয়াছে একদল নকল প্রসাধনী তৈরির ব্যবসায়ী, যাহারা অধিক মুনাফার লোভে জুড়িয়া বসিয়াছে এবং নকল প্রসাধনী তৈরির যাবতীয় দক্ষতাও অর্জন করিয়াছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে ইহাদের প্রাদুর্ভাব সীমাহীন। তাহারা দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রকাশ্যে নকল কোম্পানি খুলিয়া বসিয়াছে। সেইখানে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিকের সঙ্গে সুগন্ধি মিশাইয়া তৈরি হয় প্রসাধনী এবং তাহা নামি কোম্পানির মোড়কে ভরিয়া বিক্রয় করা হয় চড়া দামে। প্রসাধনী ব্যবহারকারীরা হন প্রতারিত। এইসব প্রসাধনী অবাধে বিক্রয় হয় বাজারে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানীর উপকণ্ঠে কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা আতাসুর এলাকায় অভিযান চালাইয়া এমনই নকল প্রসাধনীর পাঁচটি কারখানার সন্ধান পাইয়াছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাহারা বেবি লোশন, অলিভ ওয়েল, হেয়ার ওয়েলসহ ২৬টি বিদেশি পণ্যের নামে নকল প্রসাধনী জব্দ করিয়াছেন।

এই নকল প্রসাধনী তৈরির কারখানা যে এই প্রথম ধরা পড়িল তাহা নহে। প্রায়শই দেখিতে পাওয়া যায় এইসব নকল প্রসাধনী তৈরির কারখানা হাতেনাতে ধরিবার সংবাদ। কিন্তু এই প্রবণতা কমিতেছে না। ইহার কারণ কি যথোপযুক্ত শাস্তি না হওয়া, নাকি অধিক মুনাফা মানুষকে এতটাই লোভী করিয়া তুলিয়াছে যে, দমানো যাইতেছে না—তাহা বলা মুশকিল। তবে এই বিষয়ে জনসচেতনতাও জরুরি। জনগণ যথাযথভাবে সচেতন হইলে এই অবৈধ ব্যবসা কূল পাইবে না বলিয়াই আমরা ধারণা করি। মনে রাখিতে হইবে, এইসব নকল প্রসাধনী ব্যবহারে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি রহিয়াছে। সেই সঙ্গে ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে নকল পণ্য তৈরির কারখানার সন্ধান যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাইবার একটি দায়ও স্থানীয় বাসিন্দাদের রহিয়াছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন