ঢাকা সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
২৭ °সে

বিশ্ব কী দানবের তরেই থাকিবে চিরকাল?

বিশ্ব কী দানবের তরেই থাকিবে চিরকাল?

ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় পুনরায় রক্তাক্ত হইল ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। গত দুই দিনে দফায় দফায় হামলা চালাইয়াছে ইসরায়েল। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ৩৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হইয়াছেন। আমরা ইতিপূর্বে নানা পর্যায়ে বলিয়াছি, কতিপয় পরাশক্তির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও প্রপাগান্ডার কারণে সমগ্র বিশ্বে আজ মুসলিমরা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হইতেছেন; কিন্তু পরাশক্তিধররা যেন এই সকল মুসলিমের উপর দমন-পীড়ন ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালাইবার ঢালাও অনুমোদন দিয়া রাখিয়াছে! কিছু মুসলিমসমৃদ্ধ রাষ্ট্রকে কী করিয়া ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা যায়—তাহার জ্বলন্ত উদাহরণ ইরাক, সিরিয়া আর লিবিয়া। অন্যদিকে উন্নত বিশ্বে মুসলিম ফোবিয়া সামাজিকভাবে এমন পর্যায়ে লইয়া যাওয়া হইতেছে, যাহা মুসলমানদের জন্য মানসিক পীড়নের বড়ো কারণ হইয়া উঠিতেছে। আমরা দেখিয়াছি, ২০০১ সালের এগারো সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কের বিশ্ববাণিজ্য সেন্টারে ভয়াবহ হামলার পর মার্কিন মিত্রজোট সন্ত্রাস নির্মূলে বিশ্বব্যাপী শুরু করে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধ ক্রমশ ছড়াইয়া পড়িয়াছে বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশে।

এই বিশ্বে কথিত শান্তি-স্বস্তি আনয়নের জন্য পরাশক্তির দুইটি পক্ষকে আমরা দুইটি মতবাদ বিশ্বব্যাপী রপ্তানি করিতে দেখিয়াছি। তাহারা নিজ নিজ মতবাদের তথাকথিত ‘বসন্ত’ ছড়াইতে চাহে অন্যদেশের আবহাওয়ায়। মনে রাখিতে হইবে, সকল জনপদের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রহিয়াছে। অথচ পরাশক্তিরা নিজেদের কথিত ‘আদর্শিক বৈশিষ্ট্য’ই সকলের জন্য সমান বলিয়া মনে করে। এবং উহা চাপাইয়া দিতে চেষ্টা করে বহুল-বৈচিত্র্যের বিভিন্ন জনপদেও। অনেকেই মনে করেন, ইহা ঈশপের গল্পের ব্যাঘ্রের হরিণ শিকারে হরিণের পানি ঘোলা করিবার মিথ্যা অজুহাতের মতো। এই কারণে এখন অনেক দেশই মনে করে, যে কোনো প্রকারেই হউক তাহাদের পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হইতেই হইবে—যেমনটি করিয়াছে উত্তর কোরিয়া। কারণ, পরমাণু অস্ত্র এমন এক তুরুপের তাস—যাহার অর্জন যতখানি যুদ্ধের জন্য, তাহা অপেক্ষা অধিক প্রয়োজন যুদ্ধ আটকাইবার জন্য। যুদ্ধ নহে, ইহা প্রদর্শন। ইহা ভারসাম্যের প্রদর্শন। এই কারণে ৬০ লক্ষ অনাহারী মানুষের দেশ উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্রের মালিক হইতে মরিয়া হইয়া উঠে। এই কারণে মরিয়া হইয়া উঠিয়াছে ইরানও। আমরা দেখিয়াছি দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ পরমাণু শক্তিধর হইবার পর শক্তির ভারসাম্য রক্ষার জন্য তাহার প্রতিপক্ষ দেশটিও সর্বশক্তি দিয়া মরিয়া হইয়া উঠিয়াছিল পরমাণু শক্তিধর হইতে। অনেকে মনে করেন, সাদ্দামের নিকট যদি সত্যিই ভয়ংকর অস্ত্র থাকিত, তাহা হইলে পরাশক্তিধররা ইরাক আক্রমণে চিন্তা করিতেন বারংবার। হয়তো দূর ভবিষ্যতে এমন দিন আসিবে যখন পরমাণু শক্তিধর হইতে ইউরেনিয়ামের ফিউশন-কৌশল আয়ত্ত করিতে পারিবে প্রত্যেকটি জনপদ। বিশ্বে এখন যে পরিমাণ পরমাণু বোমা রহিয়াছে তাহাতে ৩৩ বার পৃথিবীকে ধ্বংস করা যাইবে। সেই সংখ্যা না হয় ভবিষ্যতে ৬৬ বার বা আরো কয়েক গুণ হইবে; কিন্তু কেহ তখন কাহাকেও আর চোখ রাঙাইতে পারিবে না। মনে রাখিতে হইবে, এই বিশ্ব দানবের তরে নহে, মানবের তরে। আমরা আশা করিব, পরাশক্তি নিজেরা ভালো থাকুক, অন্যদেরও শান্তিতে থাকিতে দিক।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন