ঢাকা সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
২৬ °সে

শরীরের রং লইয়া মাতামাতি

শরীরের রং লইয়া মাতামাতি

বাহ্যিক সৌন্দর্য বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্বকের রং লইয়া ভ্রান্ত ধারণা শক্তভাবে প্রোথিত রহিয়াছে। আমরা অপেক্ষাকৃত গাঢ় বর্ণ অথবা কালো ত্বকের মানুষের মধ্যে ফরসা হইবার প্রবণতা লক্ষ করিয়া থাকি। আরো দুর্ভাগ্যের বিষয় হইল, বিশ্বব্যাপী কালো বর্ণের মানুষের চাইতে মিশ্র বর্ণ বা শ্যামলা বর্ণের মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা বহুগুণ বেশি পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের মধ্যে ইহা তীব্র। আর আমাদের বাংলাদেশে এই প্রবণতা সমস্ত উদাহরণ ছাপাইয়া গিয়াছে। সৌন্দর্য লইয়া হীনম্মন্যতায় মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়া সত্ত্বেও, নানা ধরনের পরামর্শকের কাছে, বিউটি পার্লারে দৌড়ঝাঁপ করিতে দেখা যায়।

বলিবার অপেক্ষা রাখে না, ঔপনিবেশিক মানসিকতা হইতেই এই দৃষ্টিভঙ্গি শেকড় পর্যন্ত ছড়াইয়া পড়িয়াছে। নেহাত দুই-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া গল্প, উপন্যাস চলচ্চিত্রের মুখ্য চরিত্র, অর্থাত্ নায়ক-নায়িকা, পাত্র-পাত্রীকে হইতে হয় উজ্জ্বল বর্ণের। তাহা না হইলে চলে না। আনুষ্ঠানিক বিবাহের ক্ষেত্রে তো কথাই নাই! একটি সুশ্রী, সুস্বাস্থ্যবান কন্যার বিবাহ সম্বন্ধও ভাঙিয়া যায় শুধু গাত্রবর্ণ ফরসা না হইবার কারণে। অথচ ইহা বাংলাদেশের জন্য স্বাভাবিক নহে এবং মানুষের সুস্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পৃক্ত নহে। এই ভূপ্রকৃতির মানুষ শ্যামবর্ণ হইবে, ইহাই স্বাভাবিক। মনে রাখিতে হইবে, ত্বকের সুরক্ষা আর ত্বক ফরসা করা এক বিষয় নহে। আমাদের ত্বকের স্বাভাবিক যে মেলানোসাইড সেলগুলি রহিয়াছে, যাহা রঞ্জক তৈরি করে, তাহাই আমাদের গায়ের রং নিয়ন্ত্রণ করিয়া থাকে। ইহার ব্যত্যয় ঘটাইতে হইলে ভারী রাসায়নিক এবং ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার করিতে হয়। ফলে তাহা দ্রুত সাদা ইফেক্ট তৈরি করিয়া দেয়। অথচ বিশ্বব্যাপী জানা আছে, কালো মানুষদের চর্মরোগ ফরসাদের তুলনায় কম হইয়া থাকে। এই মেলানিনের বিকাশ রোধ করার অর্থ হইল চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ ডাকিয়া আনা। উল্লেখ্য, হাইড্রোকুইনুন জাতীয় উপাদান ব্যবহার করিয়া শরীর হইতে মেলানিন বিতাড়ন করা হয়।

সুতরাং মানুষের এই প্রবণতাকে পুঁজি করিয়া যে সকল ব্যবসা চলিতেছে সেই সম্পর্কে সরকারের যে জানা নাই, তাহা নহে। কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। অনুসন্ধান করিয়া জানা গিয়াছে, সরকারের মেডিক্যাল পণ্যের উপর নানা নজরদারি রহিয়াছে এবং আইন রহিয়াছে, কিন্তু কসমেটিকস পণ্যের ক্ষেত্রে তাহা নাই। তবে বেআইনিভাবে যে সকল ব্যবসা রহিয়াছে তাহার বিরুদ্ধে সরকার কিছু ব্যবস্থা নিয়া থাকে। আর আইনি অনুমোদনের মধ্য দিয়া যে সকল কোম্পানিকে ব্যবসা করিতে দেওয়া হইতেছে তাহা লইয়াও রহিয়াছে বৈপরীত্য। প্রশ্ন থাকে, প্রসাধনী কোম্পানিগুলিকে ক্ষতিকর জানিয়াও কেনই-বা যথেচ্ছা ভারী পদার্থ ব্যবহার করিতে দেওয়া হইতেছে। সেই সঙ্গে ফরসা হইবার লোভ কেন মানুষকে পাইয়া বসিয়াছে—যাহারা নিজের সুস্বাস্থ্যের কথাও হেলায় উপেক্ষা করিতেছে! এই ক্ষেত্রে মানুষের চিন্তার পরিবর্তন এবং সচেতন হইয়া উঠাই মুখ্য বলিয়া আমাদের দৃঢ় মত।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন