ঢাকা রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৪ °সে

হাওরাঞ্চলে রাস্তাঘাটের টেকসই উন্নয়ন

হাওরাঞ্চলে রাস্তাঘাটের টেকসই উন্নয়ন

কিশোরগঞ্জে হাওরাঞ্চলে প্রবেশের প্রধান রুট হইল বাজিতপুর-অষ্টগ্রাম সড়ক। ২০১৪ সালে এই সড়কটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়। ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হয় ১২৭ কোটি টাকা। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এই সড়কটি নির্মাণ করিয়া হাওরাঞ্চলবাসীর চলাচলের এক নূতন দিগন্ত উন্মোচন করে; কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক খবর হইল, পাঁচ বত্সর না যাইতেই এই সড়কটির বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়াছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হইয়াছে বড়ো বড়ো গর্ত। এই সড়কটিতে দুইটি সেতু রহিয়াছে। তবে তাহার অবস্থাও এখন সংকটাপন্ন। এই সেতু দুইটির সংযোগ সড়ক ভাঙিয়া গিয়াছে। ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়িতেছে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম ও বাজিতপুরের ১৫টি ইউনিয়নের দুই লক্ষসহ আশপাশের উপজেলার আরো কয়েক লক্ষ মানুষ। বিচ্ছিন্ন সেতুর সংযোগ রাস্তায় বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হইয়াছে এবং সেখানে চলিতেছে অবৈধ টোল বাণিজ্য। সওজ এখন বলিতেছে স্থানীয় ও বেসরকারিভাবে নহে, তাহারা নিজেরাই চলতি বত্সরের শুষ্ক মৌসুমে ভাঙা সেতুতে সাঁকো নির্মাণ করিয়া অবৈধ টোল-বাণিজ্য বন্ধ করিয়া দিবে।

একটি সড়কের বিভিন্ন স্থান ভাঙিতে শুরু করিয়াছে; কিন্তু তাহা মেরামত না করিয়া দিনের পর দিন ফেলিয়া রাখা হইয়াছে। প্রবাদে আছে, ‘সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়’। মেরামতের সময় সড়ক মেরামত না করায় এই সড়কটির দুর্দশা দিন দিন বাড়িতেছে। সেতু দুইটির সংযোগ সড়ক মেরামতেও উদাসীনতা ও অবহেলার পরিচয় দেওয়া হইয়াছে। তাহার বদলে বাঁশের সেতু স্থাপন করিবার কথা বলা কিংবা অন্যকে সেই রকম সেতু নির্মাণের সুযোগ তৈরি করিয়া দেওয়া জনগণের সহিত রসিকতা করা ছাড়া আর কিছু নহে। কারানল সেতুর উত্তর-পূর্ব পাশের সংযোগ সড়কের প্রায় ৮০ ভাগ ধসিয়া গিয়াছে। এখানে যে কোনো সময় বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটিতে পারে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সচেতন হওয়া কি উচিত নহে? হাওরাঞ্চলে এই সড়কটি শুধু নহে, অন্য সড়কের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এইসব সড়ক, সেতু-কালভার্ট প্রভৃতি কেন টেকসই হইতেছে না, তাহা নিয়া চিন্তাভাবনার প্রয়োজনীয়তা রহিয়াছে।

প্রথমত হাওরাঞ্চলে সড়ক, সেতু, কালভার্ট প্রভৃতি নির্মাণের আগে সঠিকভাবে সমীক্ষা করা জরুরি। যেইখানে পানির গভীরতা বেশি, সেইখানে অবশ্যই সঠিক মাত্রায় পাইলিংয়ের মাধ্যমে মজবুত সড়ক বা সেতু নির্মাণ করিতে হইবে। ভরা বর্ষায় পানি প্রবাহের জন্য যাহাতে পর্যাপ্ত কালভার্ট বা সেতু থাকে, সেদিকে নজর দিতে হইবে। একটি-দুইটি সেতু থাকিলে কোনো লাভ হইবে না। কেননা তাহা পানির চাপ ধরিয়া রাখিতে সক্ষম হইবে না। মোটকথা, হাওরের উন্নয়নে হাওরবান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করিতে হইবে। এইখানকার হাওরের পানিপ্রবাহ প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশসহ ব্যতিক্রমী গতিপ্রকৃতি আমলে নিতে হইবে। বর্ষার তাণ্ডব, আগাম বন্যা ও মৌসুমে ভাটার টান ইত্যাদি সবকছুি মাথায় রাখিয়া উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করিতে হইবে। দ্বিতীয়ত সড়ক ও সেতু নিয়মিত তদারকি ও ছোটোখাটো সংস্কারের কোনো বিকল্প নাই। এইজন্য যে বাজেট থাকে, তাহার সদ্ব্যবহার করিতে হইবে। তৃতীয়ত আমাদের রাস্তাঘাটের টেকসই উন্নয়নের জন্য সড়ক গবেষণাগার রহিয়াছে। হাওরাঞ্চলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাহাদের মতামত নেওয়াও প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন