ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৮ °সে


পানি শোধানাগার ও জরাজীর্ণ পাইপলাইন

পানি শোধানাগার ও জরাজীর্ণ পাইপলাইন

পদ্মা-জশলদিয়া পানি শোধানাগারটি গত ১০ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হইল রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা। এইজন্য মিটফোর্ড হইতে বেড়িবাঁধ ধরিয়া হাজারীবাগ, লালবাগ হইয়া শ্যামলী পর্যন্ত বেড়িবাঁধের পাশে ও ভিতরের অলিগলিতে ৪০ কিলোমিটার সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন করিবার কথা। একই সঙ্গে গাবতলী ও মিরপুর-১ নম্বর সেকশনেও ইহার পানি নিয়া যাওয়ার কথা রহিয়াছে। এইসব এলাকায় প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ বসবাস করে। কিন্তু এই এলাকায় বিশেষ করিয়া গ্রীষ্ম মৌসুমে পানিসংকট প্রায়শ লাগিয়াই থাকে। এই সংকট হইতে উত্তরণের জন্য আলোচ্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হইলেও ইহার সুবিধা এখনো অনেকে পাইতেছেন না।

জানা গিয়াছে, এই শোধনাগারটির প্রতিদিন পানি উত্পাদনের ক্ষমতা ৪৫ কোটি লিটার। এখন উত্পাদন করিতেছে তিন ভাগের এক ভাগ। অর্থাত্ ১৫ কোটি লিটার। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও উত্পাদন বাড়াইতে পারিতেছে না। কারণ এখনো সকল জায়গায় পাইপালাইনই তৈরি করা হয় নাই। পুরান ঢাকার যেসব এলাকায় এই পানি সরবরাহ করা হইতেছে, সেইখানে মাত্র এক কিলোমিটার নূতন পাইপলাইন স্থাপন করা হইয়াছে। বাকি পাইপগুলি এক শত বত্সরেরও পুরাতন। জরাজীর্ণ এইসব পাইপলাইনের কারণে ছিদ্র দিয়া ময়লা পানি লাইনে ঢুকিয়া পড়িতেছে। আর নূতন ও পুরাতন পাইপলাইনের মধ্যে আন্তসংযোগ থাকায় বিশুদ্ধ ও দূষিত পানি মিশিয়া একাকার হইয়া যাইতেছে। এইভাবে সরকারের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের মহান উদ্দেশ্য মাঠে মারা যাইতেছে।

পুরাতন লাইনের সঙ্গে নূতন লাইনের সংযোগের কারণে বিশুদ্ধ পানি দূষিত হইয়া পড়িতেছে বিধায় নূতন নূতন সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। মেয়াদোত্তীর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ পাইপলাইনের কারণে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার পানি অপচয় হইতেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনে দূষিত ও নোংরা পানি ঢুকিয়া পড়ায় বৃদ্ধি পাইতেছে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগ-বালাই। আবার লাইনের ছিদ্র দিয়া পানি বাহির হইয়া পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে রাস্তাঘাট। ইহাতে নগরবাসীকে বহুমুখী দুর্ভোগে নিপতিত হইতে হয়। অনেক সময় সিমেন্টের পাইপলাইনেও ফাটল দেখা দেয়। পাইপলাইনে ছিদ্র হওয়ায় প্রতিদিন মেরামত করিতে ওয়াসাকে ব্যয় করিতে হয় প্রচুর অর্থ। সুতরাং চাহিদামাফিক ও মানসম্পন্ন পানি সরবরাহের জন্য শুধু পানির উত্পাদন বাড়াইলেই চলিবে না, সঞ্চালন লাইনগুলির উন্নতির জন্যও চেষ্টা করিতে হইবে। আর কয়েক মাস পর রাজধানীতে প্রতি বত্সরের মতো বিশুদ্ধ পানির হাহাকার দেখা দিতে পারে। অতএব, সেই অনুযায়ী এখন হইতেই কার্যকর পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন