ঢাকা রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৪ °সে

মশা, বাস্তুতন্ত্র এবং নাসার স্যাটেলাইট

মশা, বাস্তুতন্ত্র এবং নাসার স্যাটেলাইট

মশা লইয়া কামান নহে, তাহারও অধিক ‘কৃত্রিম উপগ্রহ’ দাগাইবার ঘটনা ঘটিতেছে। ঘটনাটি আমেরিকার হইলেও মশা যে বিশ্বের জন্য কত বড়ো মাথাব্যথা, ইহা তাহারই নিদর্শন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী আমেরিকা তো বটেই; বাংলাদেশ, ভারতসহ এশিয়ার প্রায় সকল দেশেই নানান প্রজাতির মশকবাহিনী দুর্দান্ত প্রতাপের সহিত ছড়ি ঘুরাইতেছে। প্রতি বত্সর প্রায় ৩০-৫০ কোটি মানুষ মশাবাহিত রোগের শিকার হইতেছেন আর তাহাতে মৃত্যু ঘটিতেছে প্রায় ১ কোটি মানুষের! গত কয়েক দশক ধরিয়াই মশার অত্যাচার বৃদ্ধি পাইয়াছে আমেরিকা জুড়িয়া। নাসা জানাইয়াছে, নাসার স্যাটেলাইটটি লক্ষ রাখিবে কোথায় মশা জন্মানোর পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হইয়াছে। সেই তথ্য স্যাটেলাইটের মাধ্যমে চলিয়া যাইবে মশক বিশেষজ্ঞ দলের হাতে। তাহারা মশার ডিম পাড়ার খবর, লার্ভা সংগ্রহ করিয়া তাহা পরীক্ষা, মশার শরীরে কতটা জীবাণু, আদৌ কোনো রোগ ছড়াইবার ক্ষমতা রাখে কি না—এই বিষয়গুলি খতাইয়া দেখিবেন। এই সংক্রান্ত বিবিধ তথ্য নাসার ডেটাবেসে রাখা হইবে, যেইখান হইতে মশা দমনের পদক্ষেপ লইবে সরকারি দপ্তরগুলি। চমকপ্রদ উদ্যোগ বটে! যদিও মশার বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগই শেষাবধি খুব বেশি টেকসই ও সাশ্রয়ী হইতে দেখা যায় না।

মনে প্রশ্ন জাগিতে পারে, পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রে মশার কি কোনো ভূমিকা আছে? নাকি মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর রক্ত চুষিয়া বংশবৃদ্ধি ও রোগ ছড়ানোই উহাদের একমাত্র কাজ? বাস্তুতন্ত্রবিদ্যা বলিতেছে, পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক প্রাণীই বাস্তুতন্ত্রে কিছু না কিছু ভূমিকা রাখে। মশার ক্ষেত্রে বলা যায়, অসংখ্য জলজ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ প্রচুর পরিমাণে মশার লার্ভা খাইয়া জীবন ধারণ করে। মশা না থাকিলে এই সকল প্রাণীর খাদ্যের সংকট দেখা দিবে, তাহাতে ব্যাপক প্রভাব পড়িতে পারে বাস্তুতন্ত্রে। কিন্তু এই মশার কারণেই ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, জিকা, চিকুনগুনিয়া, পীতজ্বর, অ্যানসেফালাইটিস প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত হইয়া বিশ্বব্যাপী বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটে। এই বত্সর আমাদের দেশে এডিস মশার প্রবল উত্পাতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করিয়াছিল। শীত আসন্ন বিধায় এডিস মশার অত্যাচার কিছুটা ঝিমাইয়া পড়িবার সঙ্গে সঙ্গে মশা নিধন বা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রমও ঝিমাইয়া পড়িয়াছে। আমরা স্পষ্টতই লক্ষ করিতেছি যে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে মশা নিধনে যেই আয়োজন ও আড়ম্বর ছিল, তাহার কিছুই এখন দেখা যাইতেছে না ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে। স্বাভাবিকভাবেই ঢাকাসহ সারা দেশেই বৃদ্ধি পাইয়াছে মশার উপদ্রব। দেখা যাইতেছে, আমরা শুধু এডিস বা ডেঙ্গু লইয়া ভাবিতেছি। কিন্তু এখন কিউলেক্স মশা লইয়াও সমানভাবে ভাবিতে হইবে বলিয়া মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, কিউলেক্স হইতে জাপানিজ এনসেফালাইটিসের মতো মারাত্মক রোগ হইয়া থাকে, যাহা বাংলাদেশে আগেই ধরা পড়িয়াছে। ফাইলেরিয়াও আছে। ইহা ছাড়া ওয়েস্টার্ন ভাইরাসও ছড়ায় এই কিউলেক্সের মাধ্যমে। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্ভেতে দেখা গিয়াছে যে, শীতকালে ঢাকায় মাত্র ১-২ শতাংশ এডিস মশা থাকে, বাকি ৯৮-৯৯ শতাংশই থাকে কিউলেক্স মশা। সুতরাং এই ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।

বিশেষ করিয়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের উচিত মশা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয়ভাবে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন