ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৭
১৫ °সে

প্রোবায়োটিক উদ্ভাবন একটি বড়ো সুসংবাদ

প্রোবায়োটিক উদ্ভাবন একটি বড়ো সুসংবাদ

আধুনিক চিকিত্সাবিজ্ঞানের অন্যতম আশীর্বাদ হইল অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার। ইহা এমন একধরনের ঔষধ, যাহা মানুষ ও পশু উভয়ের শরীরেই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত ইনফেকশনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়িয়া তোলে। এইক্ষেত্রে তাহারা হয় ব্যাকটেরিয়াদের মারিয়া ফেলে, নয়তো ব্যাকটেরিয়ার দৈহিক বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার রোধ করে। তবে ভাইরাসের উপর ইহারা কোনো প্রভাব বিস্তার করিতে পারে না।

ইহার ফলে গত শতাব্দী হইতে শুরু হওয়া অ্যান্টিবায়োটিক যুগ হইতে অদ্যাবধি এমন অনেক রোগের চিকিত্সা সম্ভব হইতেছে, যেইগুলির কারণে একসময় মানুষ বেঘোরে মারা যাইত; কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত ও যত্রতত্র ব্যবহার ভালো নহে। সম্প্রতি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট বলিয়া একপ্রকার ব্যাকটেরিয়ার কথা বলা হইতেছে, যাহা অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীর বুক হইতে প্রাণের অস্তিত্ব বিলীন করিয়া দিতে পারে। আবার অ্যান্টিবায়োটিক নামক জৈব রাসায়নিক ঔষধ গবাদি পশুর উপর প্রয়োগ এবং সেইসব পশুর মাংস ভক্ষণ করিবার কারণে মানুষের শরীরেও তাহার বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কমিয়া যায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। এইজন্য অ্যান্টিবায়োটিকের পরিমিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বা বিকল্প ব্যবহার জরুরি হইয়া পড়িয়াছে।

আশার খবর হইল, বাংলাদেশের যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসাবে প্রোবায়োটিকের উদ্ভাবন করিয়াছেন। আপাতত ইহা পোলট্রিশিল্পের জন্য প্রযোজ্য এবং অ্যান্টিবায়োটিকের ভয়ে যাহারা পোলট্রি মুরগির মাংস খাওয়া ছাড়িয়া দিয়াছিলেন, তাহাদের জন্য এই আবিষ্কার সুখবর আনিয়া দিয়াছে। মাঠ পর্যায়ে সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ইতিমধ্যে আমাদের গবেষকগণ প্রমাণ করিতে সক্ষম হইয়াছেন যে, পোলট্রি খামারে প্রোবায়োটিক অধিক কার্যকর, লাভজনক, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব। সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক মুরগির অন্ত্রে থাকা সব ধরনের জীবাণু মারিয়া ফেলে। এই কারণে ক্ষতিকর জীবাণুর সহিত উপকারী জীবাণুও দেদারসে মারা পড়ে। ইহাতে অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়। কমিয়া যায় মুরগির বৃদ্ধি। মানবস্বাস্থ্যের জন্য তৈরি করে মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকি। পক্ষান্তরে প্রোবায়োটিক ব্যবহারে কেবল ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে, উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বাঁচিয়া থাকিতে কোনো অসুবিধা হয় না। ইহাতে মুরগির মৃত্যুহার কমে, কম খাওয়ার পরও মুরগির ওজন দেড় গুণ বেশি বৃদ্ধি পায়। ইহার ব্যবহারে মুরগির রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ এবং রোগপ্রতিরোধী কোষের সংখ্যা বেশি হয়। খারাপ কোলেস্টেরল ও গ্লুকোজের পরিমাণ কমিয়া যায়। ফলে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য এই মুরগির মাংস বিশেষ উপকারী হয়।

উপর্যুক্ত আবিষ্কারের ফলে এখন হইতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ছাড়াও মুরগি পালন করা সম্ভব হইবে। ইহা একটি অনন্য উদ্ভাবন নিঃসন্দেহে এবং দেশে-বিদেশে এই গবেষণার সঠিক মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। মূলত ১৮৮১ সালে ব্রিটিশ অণুজীব বিজ্ঞানী জন টিন্ডাল সর্বপ্রথম ছত্রাকের জীবাণু প্রতিরোধী ভূমিকা লক্ষ করিবার পর ১৯২৭ সালে স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন এবং ১৯৪১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম ইহা মানুষের দেহে প্রয়োগ করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনীর সৈন্যদের ক্ষত সারাইতে ইহার ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়। তবে এখন অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বন্ধ করিতে হইবে। সবচাইতে ভালো হয়, যদি বিকল্প অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। আমরা আশা করি, একদিন মানবদেহেও বিকল্প অ্যান্টিবায়োটিক বা প্রোবায়োটিকের ব্যবহার শুরু করা সম্ভব হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন