ঢাকা বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৭
২৪ °সে

প্রয়োজন সমন্বিত নজরদারি ও প্রতিরোধ

প্রয়োজন সমন্বিত নজরদারি ও প্রতিরোধ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পাঁচটি আবাসিক হলে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাইয়াছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পুলিশের সহায়তায় আকস্মিকভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইহাতে বিপুল পরিমাণে রামদা ও চাপাতিসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হইয়াছে। উদ্ধার করা হইয়াছে লোহার পাইপ ও হাতুড়িও। ইদানীং বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলিতে আগ্নেয়াস্ত্রের চাইতে দেশি অস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়া গিয়াছে বলিয়া বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নহে, সারাদেশেই ছিনতাই-খুনসহ নানা অপরাধে বাড়িয়া গিয়াছে দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ধরা পড়িলে তাহার সাজার পরিমাণ বেশি এবং পুলিশ সারা বত্সর এই ব্যাপারে তত্পর থাকে, তাই দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার ভয়ংকরভাবে বাড়িতেছে। বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন তাহার ব্যতিক্রম নহে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রের ঝনঝনানির খবর আমরা প্রায়শ পাইয়া থাকি। নেতিবাচক ছাত্ররাজনীতির হাত ধরিয়াই এমন কুসংস্কৃতি চলিয়া আসিতেছে বহুদিন ধরিয়া। শুধু দেশি-বিদেশি অস্ত্রের মহড়াই নহে, কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলিতে গভীর রাত্রে অস্ত্রের প্রশিক্ষণও চলে। এইখানে যেই সকল দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়, তাহা হইল— ছুরি, কাঁচি, হাঁসুয়া, চাপাতি, কুড়াল, দা, বঁটি ইত্যাদি। লাঠি ও হকিস্টিকের ব্যবহারও নূতন নহে। অন্যদিকে যেই সকল আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাহা হইল—রিভলবার, নাইন এমএম, বন্দুক, কাটা রাইফেল, শ্যুটারগান ইত্যাদি। অথচ একটি বিশ্ববিদ্যালয় হইতেছে উচ্চশিক্ষার পাদপীঠ। সেইখানে ছাত্রছাত্রীদের হাতে থাকিবে বই ও খাতা-কলম। কিন্তু তাহার বদলে একশ্রেণির শিক্ষার্থী হাতে অস্ত্র তুলিয়া নিতেছে কেন? একজন সহপাঠী আরেক জনের বই-খাতা-কলম লইয়া খুনশুটি করিবে। কিন্তু তাহারা একে অপরের উপর অস্ত্র লইয়া ঝাঁপাইয়া পড়িবে কেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই একদিন দেশের প্রশাসন ও সমাজের নেতৃত্ব গ্রহণ করিবেন। তাহারা দেশ ও জাতিকে দিবেন নির্দেশনা। কিন্তু তাহারাই যদি অস্ত্রবাজির সংস্কৃতিতে আসক্ত হইয়া পড়েন, তাহা হইলে দেশের ভূত-ভবিষ্যত্ লইয়া আতঙ্কিত ও শঙ্কিত না হইয়া পারা যায় না।

দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারেও সুনির্দিষ্ট আইন রহিয়াছে। সেই আইনের ব্যত্যয় ঘটাইয়া অবৈধ অস্ত্র শিক্ষার্থীরা হলগুলিতে কীভাবে রাখিতে পারে? শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নহে, অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও কমবেশি এই সমস্যা বিদ্যমান। মাঝেমধ্যে পত্রপত্রিকার খবরে সেইসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল হইতে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হইতে দেখা যায়। এই পরিস্থিতি সত্যি উদ্বেগজনক। এই জন্য প্রথমত বিদ্যমান আইন প্রয়োগ করিয়া এই সমস্যার সমাধান করিতে হইবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় থানা প্রশাসনের উচিত এই ধরনের অভিযান মাঝেমধ্যেই পরিচালনা করা। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন করিতে হইবে। ছাত্ররাজনীতির নেতিবাচক দিকগুলি পরিহার করিতে হইবে। এইরূপ অবৈধ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি অস্ত্র তৈরির কারখানা ও জোগানদাতাদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়াইতে হইবে নজরদারি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালযের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভিতর হইতেও ইহার বিরুদ্ধে সচেতন থাকিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন