ঢাকা বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৭
২৪ °সে

এত ক্ষতির রাজধানী!

এত ক্ষতির রাজধানী!

ঢাকা শহরের যে কোনো রাস্তার দিকে তাকাইলে আমরা দেখিতে পাই, হয় সারি সারি গাড়ি দাঁড়াইয়া আছে, অথবা কচ্ছপের গতিতে খানিকটা আগাইয়া আবার দাঁড়াইয়া গিয়াছে। তবে খালি চোখে যাহা দেখিতে পাই না তাহা হইল এই গাড়ির ধোঁয়ার সঙ্গে এবং গাড়ির মধ্যে বসিয়া থাকা যাত্রীর শ্রমঘণ্টা নষ্টের মাধ্যমে উবিয়া যাইতেছে হাজার হাজার কোটি টাকা! সেই চিত্রই উঠিয়া আসিয়াছে বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘মেট্রো ঢাকা ট্রান্সফরমেশন প্ল্যাটফরম : ট্রান্সফরমিং মেট্রো ঢাকা ইন টু এ লিভ্যাবল প্রোসপারাস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট মেগাসিটি’ শীর্ষক সেমিনারের প্রবন্ধ-বক্তব্যে। ঐ সেমিনারে যে চিত্র তুলিয়া ধরা হইয়াছে তাহা কেবল বিস্ময়করই নহে, রীতিমতো আমাদের ভবিষ্যত্ লইয়া ভয় ধরাইয়া দেওয়ার মতো। বলা হইয়াছে, ঢাকায় গাড়ির গতি ঘণ্টায় গড়ে ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার। আর স্বাভাবিক হাঁটার গতি ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার। ইহার কারণ যানজট। আর এই যানজটের কারণে ২৫ হাজার হইতে ৪২ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হইতেছি আমরা। উত্তরোত্তর কঠিনতর হইয়া পড়া এই সমস্যার জন্য তাহারা যানবাহনের আধিক্যকে দায়ী করিয়া হিসাব দিয়াছে, ২০০১ সাল হইতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ে গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাইয়াছে ১৬ গুণ।

যানবাহন বাড়িবে তাহা স্বাভাবিক। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বহু গুণ বৃদ্ধি পাইয়াছে। দেশে রাস্তাঘাট তৈরি হইতেছে প্রায় সর্বত্র। কিন্তু সেই সঙ্গে সমান তালে সমন্বিত নগর পরিকল্পনা করা যায় নাই, ইহা স্বীকার করিতেই হইবে। এই রকম পরিসংখ্যান আমরা পূর্বেও দেখিয়াছি। কিন্তু সমস্যা তুলিয়া ধরিবার সঙ্গে সঙ্গে ইহার প্রতিকার লইয়াও সমানভাবে উন্নয়ন সহযোগীদের ভাবিতে হইবে। এই যানজট যে কেবল রাস্তায় গাড়ি থমকাইয়া দিতেছে তাহাই নহে, এইরকম দূষণ বাড়াইয়া দিতেছে যে, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্বের ১ নম্বর বায়ুদূষণের শহর হিসাবে কলঙ্কিত হইয়াছে। যদিও বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে ঢাকাকে বিশ্বের চতুর্থ দূষিত শহর বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে। আমরা জানি, গবেষণা রিপোর্ট তৈরি করিতে খানিকটা সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ঢাকা চতুর্থ হইতে প্রথম স্থানে উঠিয়া আসিতে কোনো সময় নেয় নাই। অর্থাত্, কেবল অর্থই নহে, এই দূষণ মানুষের জীবনের প্রতিও হুমকি হইয়া দেখা দিয়াছে। তাহাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করিতে হইবে।

ঢাকা শহরের এই পরিস্থিতি যেমন এক দিনে তৈরি হয় নাই, তেমনি রাতারাতি ইহা মিটাইয়া ফেলাও যাইবে না। নিশ্চয়ই ইহাকে সহনশীল অবস্থায় আনিতে গুরুত্ব সহকারে একটি পরিকল্পনা করিতে হইবে। বিশ্বব্যাংকের এই রিপোর্ট প্রকাশের আয়োজনস্থলে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাহাদেরকেই সর্বাগ্রে ভাবিতে হইবে এই দীর্ঘকালীন সমস্যা দূর করিতে করণীয় লইয়া। বাস্তব পদক্ষেপ যত দ্রুত লওয়া যাইবে, ততই মঙ্গল।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন